এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ মাঝ আকাশে কারিগরি সমস্যার মুখে পড়ে প্রায় ২৭ হাজার ফুট দ্রুত নিচে নেমে আসে। পরে উড়োজাহাজটি কয়েক ঘণ্টা আকাশে অবস্থান করার পর লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে ফিরে নিরাপদে অবতরণ করে।
গত সোমবার ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটি লন্ডন হিথ্রো থেকে শিকাগোর উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে উড়োজাহাজটি প্রায় ২৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আনুমানিক ৯ হাজার ফুট উচ্চতায় চলে আসে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, উড়োজাহাজটিতে একটি কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় পাইলটরা হিথ্রোতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এয়ারলাইনটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং প্রশিক্ষিত পাইলটরা উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে হিথ্রোতে ফিরিয়ে আনেন।
অবতরণের পর যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে উড়োজাহাজ থেকে নেমে যান। তাদের পরবর্তী ভ্রমণ ব্যবস্থা সচল করতে এয়ারলাইনটির কর্মীরা কাজ করেন।
ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দ্রুত উচ্চতা কমানোর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ প্রকাশ করেনি। ফলে এটি কেবিনের বায়ুচাপজনিত সমস্যা বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ত্রুটির কারণে হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
তবে প্রায় ৪০ বছরের উড্ডয়ন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর F/A-18 পাইলট ম্যাথিউ ‘হুইজ’ বাকলি ঘটনাটির ফ্লাইট প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে বলেছেন, এ ধরনের দ্রুত অবতরণ কেবিনের বায়ুচাপজনিত সমস্যার ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে।
কেবিন প্রেসার কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পাইলটরা সাধারণত উড়োজাহাজকে দ্রুত এমন উচ্চতায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন, যেখানে মানুষের স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়ার জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক নিরাপদ থাকে।
তবে এ ক্ষেত্রে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কোনো cabin depressurization-এর তথ্য নিশ্চিত করেনি। এয়ারলাইনটি ঘটনাটিকে শুধু কারিগরি সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের দিকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও উড়োজাহাজটি সঙ্গে সঙ্গে অবতরণ করেনি। কয়েক ঘণ্টা আকাশে অবস্থান এবং ইংল্যান্ডের আকাশে চক্কর দেওয়ার পর এটি হিথ্রোতে নামে।
দীর্ঘপাল্লার একটি ফ্লাইট যাত্রার শুরুতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বহন করে। ফলে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে আসতে হলে উড়োজাহাজের ওজন স্বাভাবিক অবতরণ ওজনের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি ও উড়োজাহাজের ধরন অনুযায়ী পাইলটরা জ্বালানি কমিয়ে অথবা আকাশে অবস্থান করে জ্বালানি ব্যবহার করে উড়োজাহাজের ওজন কমাতে পারেন।
অবসরপ্রাপ্ত পাইলট ম্যাথিউ বাকলিও সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বলেছেন, দীর্ঘ আটলান্টিক যাত্রার জন্য নেওয়া অতিরিক্ত জ্বালানির কারণে অবতরণের আগে উড়োজাহাজটির ওজন কমানোর প্রয়োজন হয়ে থাকতে পারে।
তবে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ উড়োজাহাজটির কয়েক ঘণ্টা আকাশে অবস্থানের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না করায় জ্বালানি পোড়ানোর জন্যই এটি চক্কর দিয়েছিল—এটিও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মাঝ আকাশে কারিগরি সমস্যার পর কোনো উড়োজাহাজ দ্রুত উচ্চতা কমালে যাত্রীদের কাছে পরিস্থিতিটি অত্যন্ত আতঙ্কজনক মনে হতে পারে। বিশেষ করে অক্সিজেন মাস্ক নেমে এলে বা উড়োজাহাজ দ্রুত নিচে নামলে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পাইলটদের অগ্রাধিকার থাকে উড়োজাহাজকে নিরাপদ উচ্চতা ও অবস্থানে নিয়ে আসা, সমস্যার প্রকৃতি মূল্যায়ন করা এবং সবচেয়ে নিরাপদ বিমানবন্দরে অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়া।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এ ঘটনায় উড়োজাহাজটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে হিথ্রোতে ফিরে আসে এবং যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে বিমান থেকে নামতে সক্ষম হন।
ঘটনাটির প্রকৃত কারিগরি কারণ সম্পর্কে এয়ারলাইনটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে কেন উড়োজাহাজটিকে দ্রুত উচ্চতা কমাতে হয়েছিল এবং কেন দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে হয়েছিল—সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বক্তব্য ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য
মন্তব্য করুন