এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে এয়ার কানাডা ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালীন ফ্লাইট সূচিতে নতুন সরাসরি রুট চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান কয়েকটি রুটে ফ্লাইট ও আসনসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দুই এয়ারলাইনস।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঘোষিত এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, কানাডার টরন্টো, মন্ট্রিয়ল ও এডমন্টন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি শহরে নতুন সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে এয়ার কানাডা। অন্যদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও দুই দেশের মধ্যে নতুন সংযোগ স্থাপন ও বিদ্যমান রুটে সক্ষমতা বাড়াবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এভিয়েশনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এভিয়েশন এটুজেড প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এয়ার কানাডার নতুন রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে টরন্টো–লুইসভিল, মন্ট্রিয়ল–ইন্ডিয়ানাপোলিস এবং এডমন্টন–নিউয়ার্ক।
আগামী ২৮ এপ্রিল টরন্টো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের লুইসভিলে ফ্লাইট শুরু করবে এয়ারলাইনটি। মৌসুমি এ সেবা চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। শুরুতে সপ্তাহে সর্বোচ্চ সাতটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। মে মাস থেকে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ১ জুন থেকে মন্ট্রিয়ল ও ইন্ডিয়ানাপোলিসের মধ্যে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে। এ রুটে ফ্লাইট চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
একই দিনে এডমন্টন থেকে নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন ফ্লাইট চালু করবে এয়ার কানাডা। সপ্তাহে চার দিন পরিচালিত এ সেবা চলবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত।
নতুন রুটের পাশাপাশি এডমন্টন–সান ফ্রান্সিসকো রুটে তুলনামূলক বড় এয়ারবাস এ২২০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে এয়ারলাইনটির।
২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালীন সূচিতে কানাডার সঙ্গে ফ্লাইট যোগাযোগ সম্প্রসারণ করবে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউয়ার্ক থেকে কানাডার সেন্ট জনসে মৌসুমি সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হবে। পাশাপাশি ডেনভার থেকে অটোয়া ও কুইবেক সিটিতে নতুন ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসি ও কুইবেক সিটির মধ্যেও ফ্লাইটসংখ্যা বাড়াবে ইউনাইটেড। এ ছাড়া ডেনভার–উইনিপেগ রুটে দৈনিক আসনসংখ্যা ৬৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষগুলো আশা করছে, নতুন ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন ও যাত্রী চলাচল আরও সহজ হবে।
নতুন রুট ও ফ্লাইট সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিজেদের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব নবায়ন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে এয়ার কানাডা ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনস।
২০২২ সালে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ট্রান্সবর্ডার জয়েন্ট বিজনেস অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফ্লাইট সূচি সমন্বয়, যাত্রী সংযোগ এবং যৌথভাবে বিভিন্ন রুটে সেবা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর দুই এয়ারলাইনস মিলে দুই দেশের মধ্যে ২০টি নতুন রুট চালু করেছে। এর মধ্যে ছয়টি রুট যুক্ত হয়েছে ২০২৬ সালে।
এয়ারলাইনস দুটির তথ্য অনুযায়ী, এ অংশীদারত্বের আওতায় তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ৪৩ লাখের বেশি যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। বর্তমানে দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কানাডার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গন্তব্যে এক হাজার ২০০টির বেশি সংযোগভিত্তিক ভ্রমণসূচির সুযোগ রয়েছে।
অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে এয়ার কানাডা ইতোমধ্যে ট্রান্সপোর্ট কানাডার কাছে আবেদন করেছে।
এয়ারলাইনস দুটির প্রত্যাশা, নতুন রুট, অতিরিক্ত আসন এবং সমন্বিত ফ্লাইট সূচির মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যাত্রীদের ভ্রমণ বিকল্প আরও বাড়বে।
সূত্র: Aviation A2Z
মন্তব্য করুন