এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শারজাহ থেকে আসা এক যাত্রীর শরীরে বিশেষ কৌশলে লুকানো তিনটি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। উদ্ধার করা স্বর্ণের পেস্টের মোট ওজন ১ কেজি ২৯০ গ্রাম। পরিশোধনের পর প্রায় এক কেজি স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এয়ার অ্যারাবিয়ার G9 518 নম্বর ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা কাস্টমস হাউসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শারজাহ থেকে আসা একটি ফ্লাইটে স্বর্ণ চোরাচালানের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করে প্রিভেন্টিভ টিম।
সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফ্লাইটটি আসার পর যাত্রীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে আরমান উদ্দিন সিদ্দিকী নামের এক যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ বেল্ট নম্বর ২-এ পৌঁছালে সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁকে তল্লাশি করা হয়।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তল্লাশির সময় ওই যাত্রীর পায়ুপথে সাদা কসটেপ দিয়ে মোড়ানো তিনটি ডিম্বাকৃতির প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেটগুলোতে পেস্ট আকারে স্বর্ণ লুকানো ছিল।
উদ্ধার করা প্রতিটি ডিম্বাকৃতির প্যাকেটের ওজন ৪৩০ গ্রাম। তিনটি প্যাকেটের মোট ওজন দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯০ গ্রাম।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বর্ণকারের প্রত্যয়ন অনুযায়ী পেস্ট পরিশোধন করা হলে আনুমানিক এক হাজার গ্রাম বা এক কেজি স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে। উদ্ধার করা স্বর্ণের বিশুদ্ধতা ২৪ ক্যারেট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিশোধনের পর সম্ভাব্য স্বর্ণের পরিমাণ বিবেচনায় এর আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। প্রিভেন্টিভ টিমের পক্ষ থেকে ফৌজদারি মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ পরিবহন প্রতিরোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এ ধরনের অভিযানে যাত্রীদের পাশাপাশি সন্দেহজনক পণ্য পরিবহনের বিভিন্ন কৌশল শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বশেষ এই অভিযানে শরীরের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধারের ঘটনা বিমানবন্দরভিত্তিক চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
সূত্র: ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিমের সরবরাহ করা তথ্য।
মন্তব্য করুন