মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এয়ারলাইন এমিরেটস আবারও বিশ্বের সেরা এয়ারলাইনের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। উন্নত যাত্রীসেবা, ইন-ফ্লাইট অভিজ্ঞতা, আধুনিক উড়োজাহাজ এবং বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের জন্য এয়ারলাইনটি এই মর্যাদা পেয়েছে।
দুবাইভিত্তিক এমিরেটস দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের গন্তব্যকে দুবাইয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে বিমান পরিবহন খাতে ‘বিশ্বের সেরা এয়ারলাইন’ নামে একক কোনো সর্বজনীন স্বীকৃতি নেই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রকাশনা প্রতিবছর নিজস্ব পদ্ধতি ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এয়ারলাইনগুলোর র্যাংকিং ও পুরস্কার দিয়ে থাকে।
তাই এমিরেটসের সর্বশেষ স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান পুরস্কারটি দিয়েছে, কোন বছরের জন্য দিয়েছে এবং মূল্যায়নের মানদণ্ড কী ছিল—এসব তথ্য উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাপ্ত তথ্যে পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট অ্যাওয়ার্ডের নাম উল্লেখ না থাকায় সেটি নিশ্চিত না করে এখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম যোগ করা হয়নি।
এমিরেটসের আন্তর্জাতিক পরিচিতির অন্যতম ভিত্তি এর ইন-ফ্লাইট সেবা। বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীর জন্য কেবিন সেবা, খাবার, বিনোদন এবং দীর্ঘপথের ফ্লাইটে যাত্রী অভিজ্ঞতা উন্নয়নে এয়ারলাইনটি নিয়মিত বিনিয়োগ করে আসছে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য দুবাইকে একটি বড় সংযোগকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে এমিরেটস। একজন যাত্রী একই হাবের মাধ্যমে বিভিন্ন মহাদেশের গন্তব্যে সংযোগ নিতে পারেন।
এ ধরনের hub-and-spoke network একটি এয়ারলাইনকে এমন অনেক শহরের মধ্যে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ দেয়, যেগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট নাও থাকতে পারে।
এমিরেটসের ব্যবসায়িক মডেলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক।
দুবাইয়ের ভৌগোলিক অবস্থান এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে দীর্ঘপথের যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করেছে। ফলে শুধু দুবাইগামী যাত্রী নয়, বিপুলসংখ্যক ট্রানজিট যাত্রীও এমিরেটসের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন।
বাংলাদেশের যাত্রীদের ক্ষেত্রেও দুবাই হয়ে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলে সংযোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের মান শুধু কেবিনের আসন বা খাবারের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। সময়ানুবর্তিতা, নেটওয়ার্ক, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল সেবা, গ্রাউন্ড সার্ভিস, ফ্লাইটের ধারাবাহিকতা এবং সমস্যা হলে যাত্রীকে কীভাবে সহায়তা করা হয়—এসব বিষয়ও সামগ্রিক যাত্রী অভিজ্ঞতার অংশ।
আবার বিভিন্ন এয়ারলাইন অ্যাওয়ার্ডে ব্যবহৃত মানদণ্ড এক নয়। কোনো পুরস্কার যাত্রী জরিপের ওপর বেশি নির্ভর করে, কোনোটি নিরাপত্তা ও পরিচালন সক্ষমতা বিবেচনা করে, আবার কোনো মূল্যায়নে কেবিন পণ্য ও সেবাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ কারণেই একই বছরে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আলাদা এয়ারলাইন ‘সেরা’ হতে পারে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি একটি এয়ারলাইনের ব্র্যান্ড ও সেবার মান সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, তবে শুধু পুরস্কারের ভিত্তিতে টিকিট নির্বাচন না করাই ভালো।
যাত্রীদের জন্য নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী টিকিটের মোট মূল্য, ব্যাগেজ সুবিধা, ট্রানজিট সময়, টিকিট পরিবর্তন ও রিফান্ডের নিয়ম, গন্তব্যের ফ্লাইট সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট কেবিনের সুবিধা তুলনা করা বেশি কার্যকর।
একই এয়ারলাইনের অভিজ্ঞতাও রুট, উড়োজাহাজের ধরন এবং ভ্রমণের শ্রেণিভেদে আলাদা হতে পারে।
এমিরেটসের সর্বশেষ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজারে প্রতিষ্ঠানটির শক্তিশালী ব্র্যান্ড অবস্থানের আরেকটি উদাহরণ। তবে ‘বিশ্বের সেরা এয়ারলাইন’ দাবিটি মূল্যায়নের সময় সংশ্লিষ্ট পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও মূল্যায়নের পদ্ধতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: এমিরেটস
মন্তব্য করুন