এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর ফলে চলতি বছর দেওয়া আগের ১৪টি উড়োজাহাজের অর্ডারসহ বোয়িংয়ের কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির মোট অর্ডার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।
নতুন ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি Boeing 787-10 Dreamliner এবং ছয়টি Boeing 737-8। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় Boeing ও Biman এই অতিরিক্ত অর্ডারের ঘোষণা দেয়।
এর আগে ৩০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ আরও Boeing aircraft কিনতে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে সম্মত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আগের অর্ডারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সে সময় অতিরিক্ত aircraft-এর সংখ্যা বা model প্রকাশ করা হয়নি।
সেপ্টেম্বরে Boeing-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত সামনে আসে।
Biman-এর Boeing fleet expansion-এর প্রথম বড় ঘোষণা আসে ৩০ এপ্রিল ২০২৬।
সেদিন Boeing ও Biman ১৪টি নতুন aircraft-এর অর্ডার ঘোষণা করে। এর মধ্যে ছিল—
Boeing-এর ভাষ্য অনুযায়ী, এটিই ছিল Biman-এর ইতিহাসে একবারে দেওয়া সবচেয়ে বড় aircraft order।
এরপর সেপ্টেম্বরের supplemental order-এ আরও পাঁচটি 787-10 এবং ছয়টি 737-8 যুক্ত হয়েছে।
ফলে দুটি অর্ডার একত্র করলে Biman-এর নতুন Boeing order দাঁড়ায়—
অর্থাৎ মোট ২৫টি Boeing aircraft।
Biman-এর এই বড় fleet order-এ wide-body ও narrow-body—দুই ধরনের aircraft রয়েছে।
Boeing 787 Dreamliner family মূলত দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক route পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত wide-body aircraft। অন্যদিকে 737-8 একটি single-aisle narrow-body aircraft, যা regional ও medium-haul route-এ ব্যবহার করা যায়।
প্রথম অর্ডারের সময় Boeing জানিয়েছিল, 787-10 বিশেষ করে Middle East-এর high-demand route-এ capacity বাড়াতে ব্যবহার করা যাবে। 787-9 long-haul Europe ও North America operation-এর জন্য উপযোগী, আর 737-8 Middle East, India ও Southeast Asia network সম্প্রসারণে ব্যবহার করা যাবে।
তবে কোন aircraft ঠিক কোন route-এ মোতায়েন করা হবে, সেটি শেষ পর্যন্ত Biman-এর fleet planning, passenger demand ও commercial strategy-এর ওপর নির্ভর করবে।
Biman বর্তমানে Boeing 787 Dreamliner পরিচালনা করলেও 787-10 হবে airlineটির fleet-এর জন্য নতুন variant।
বর্তমান fleet-এ 787-8 ও 787-9 রয়েছে। নতুন order বাস্তবায়িত হলে Biman একই Dreamliner family-এর 787-8, 787-9 ও 787-10—তিনটি variant-ই পরিচালনা করবে।
787-10 একই Dreamliner family-এর তুলনামূলক বেশি passenger capacity-সম্পন্ন variant। ফলে বেশি চাহিদার international sector-এ seat capacity বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
Boeing জানিয়েছে, নতুন 787 ও 737 MAX family Biman-এর বিদ্যমান aircraft-এর তুলনায় জ্বালানি ব্যবহারে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি দিতে পারে। এটি Boeing-এর প্রকাশিত manufacturer performance claim।
Biman-এর fleet-এ Boeing 737 থাকলেও বর্তমানে সেগুলো Next-Generation 737 family-এর aircraft।
নতুন order-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় airlineটি প্রথমবারের মতো 737 MAX family-এর 737-8 বহরে যুক্ত করতে যাচ্ছে।
প্রথম অর্ডারে চারটি 737-8 থাকলেও supplemental order-এ আরও ছয়টি যোগ হওয়ায় এই model-এর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টিতে।
এর ফলে regional international network-এ Biman-এর narrow-body capacity বাড়ানোর পাশাপাশি পুরোনো aircraft প্রতিস্থাপনের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
৩০ আগস্ট সার্জিও গোর তার X পোস্টে বলেছিলেন, বাংলাদেশের নতুন সিদ্ধান্তে আগের Boeing order “significantly” বাড়বে এবং বাংলাদেশ আরও aircraft কিনতে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে।
এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর Boeing আনুষ্ঠানিকভাবে ১১টি supplemental aircraft order-এর তথ্য প্রকাশ করে।
Biman চেয়ারম্যান রুমি এ হোসাইন Boeing-এর ঘোষণায় বলেন, অতিরিক্ত orderটি airline-এর fleet renewal ও network expansion-এর নির্দিষ্ট প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি এটিকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক connectivity বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অর্থাৎ নতুন aircraft শুধু fleet-এর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নয়; পুরোনো aircraft renewal, capacity বৃদ্ধি এবং নতুন international network তৈরির পরিকল্পনার সঙ্গেও যুক্ত।
Aircraft orderটি এমন সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।
৩০ আগস্টের পোস্টে সার্জিও গোর Boeing aircraft কেনার সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছিলেন। তিনি সিদ্ধান্তটির কৃতিত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যকার আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করেন। এটি গোরের নিজস্ব বর্ণনা ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন।
অন্যদিকে Boeing-এর ২৩ সেপ্টেম্বরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় aircraft order-টিকে Biman-এর fleet modernisation এবং international growth strategy-এর অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ফলে একই চুক্তিকে দুই দিক থেকে দেখা হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় রপ্তানি ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক হিসেবে, আর Biman ও Boeing-এর পক্ষ থেকে airline fleet renewal ও network expansion হিসেবে।
সার্জিও গোর ৩০ আগস্ট বলেছিলেন, বাংলাদেশ আরও Boeing aircraft কিনতে “billions of dollars” ব্যয় করতে সম্মত হয়েছে।
তবে Boeing-এর ২৩ সেপ্টেম্বরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ১১টি supplemental aircraft-এর চূড়ান্ত contract value প্রকাশ করা হয়নি।
Aircraft deal-এর ক্ষেত্রে manufacturer list price দিয়ে প্রকৃত ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করাও যথাযথ নয়। বড় commercial aircraft order-এ negotiated discount, financing, delivery schedule, maintenance package, spare parts, training ও অন্যান্য commercial terms-এর কারণে প্রকৃত transaction value ভিন্ন হতে পারে।
তাই সরকারি বা contractual disclosure ছাড়া ২৫টি aircraft-এর নির্দিষ্ট মোট ক্রয়মূল্য অনুমান করে প্রকাশ না করাই নিরাপদ।
২৫টি aircraft-এর order নিশ্চিত হওয়া মানেই Biman-এর fleet-এ খুব দ্রুত একসঙ্গে ২৫টি উড়োজাহাজ যোগ হচ্ছে—এমন নয়।
Commercial aircraft order সাধারণত বহু বছরের delivery schedule অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়। Production slot, manufacturer capacity, financing, crew preparation এবং airline-এর fleet transition plan অনুযায়ী ধাপে ধাপে delivery হয়।
Biman-এর ক্ষেত্রেও নতুন aircraft-এর delivery schedule fleet expansion-এর বাস্তব গতি নির্ধারণ করবে।
এ কারণে order book এবং operational fleet-এর মধ্যে পার্থক্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
২৫টি নতুন aircraft operational fleet-এ যুক্ত করা বড় ধরনের human-resource requirement তৈরি করবে।
বিশেষ করে 737-8 এবং 787 fleet বাড়লে প্রয়োজন হবে অতিরিক্ত type-rated pilot, cabin crew, aircraft engineer, technician এবং flight operations personnel।
একই aircraft family-এর মধ্যে commonality training ও maintenance-এর ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু fleet size উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে training pipeline, simulator capacity, maintenance planning এবং spare-parts inventory-ও সেই অনুপাতে সম্প্রসারণ করতে হয়।
ফলে aircraft purchase-এর পাশাপাশি manpower এবং technical-support preparation-ও fleet expansion-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
Biman-এর fleet expansion শুধু Boeing-এ সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয় carrier-এর জন্য ফ্রান্সের Airbus থেকে ১০টি aircraft কেনার পরিকল্পনাও করছে বলে ২৯ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এটি বাস্তবায়িত হলে Biman-এর ভবিষ্যৎ fleet strategy আরও বড় আকার নিতে পারে।
তবে Boeing-এর ২৫টি aircraft ইতোমধ্যে manufacturer-এর পক্ষ থেকে order হিসেবে ঘোষণা করা হলেও Airbus-এর ১০টির বিষয়টি এখনো পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। তাই দুটি বিষয়কে একই পর্যায়ের নিশ্চিত purchase হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
এক বছরে মোট ২৫টি Boeing aircraft order বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় airline-এর জন্য বড় fleet commitment।
এটি বাস্তবায়িত হলে Biman-এর passenger capacity, regional connectivity এবং long-haul network সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নতুন aircraft-এর financing, crew training, maintenance infrastructure, route profitability এবং fleet utilisation গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
Aircraft কেনা নিজে থেকে একটি airline-এর commercial success নিশ্চিত করে না। নতুন capacity কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হবে, routeগুলো কতটা sustainable হবে এবং operational reliability বজায় রাখা যাবে কি না—এসবই শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগের ফল নির্ধারণ করবে।
এখন তাই নজর থাকবে নতুন ২৫টি Boeing-এর delivery schedule, financing arrangement, deployment plan এবং নতুন route strategy-এর দিকে।
সূত্র: Boeing, সার্জিও গোরের ৩০ আগস্টের বক্তব্য এবং Biman-Boeing fleet expansion-সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য।
মন্তব্য করুন