এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক: বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে গ্রাউন্ড অপারেশন সম্পর্কে তরুণদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া এবং এ খাতে ক্যারিয়ারের সুযোগ তুলে ধরতে দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করেছে এভিয়েশন ডট কম ডট বিডি। ‘ইন্ট্রোডাকশন টু এভিয়েশন গ্রাউন্ড অপারেশন’ শীর্ষক কর্মশালাটি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বিমানবন্দর অবকাঠামো ও এভিয়েশন কার্যক্রমের সম্প্রসারণের সঙ্গে দক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে—এমন প্রেক্ষাপটে তরুণদের এ খাতের বিভিন্ন পেশা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই ছিল কর্মশালাটির অন্যতম লক্ষ্য।
কর্মশালার প্রথম পর্বে এভিয়েশন ডট কম ডট বিডির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট প্রফেশনাল মো. হারুনুর রশিদ এভিয়েশন গ্রাউন্ড অপারেশনের ওপর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন।
একটি উড়োজাহাজ বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকে পুনরায় উড্ডয়ন করা পর্যন্ত কী কী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে যাত্রীসেবা, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, কার্গো ব্যবস্থাপনা, এয়ারসাইড অপারেশন এবং অন্যান্য গ্রাউন্ড সাপোর্ট কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এয়ারলাইন পরিচালনায় ফ্লাইটের দৃশ্যমান অংশটি আকাশে হলেও একটি ফ্লাইট নিরাপদ ও সময়মতো পরিচালনার পেছনে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই খাতে প্রশিক্ষিত জনবল এয়ারলাইন ও বিমানবন্দর কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য দেন এভিয়েশন খাতে ৩৭ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মিসবাহ আল আহমেদ মজুমদার।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন ও এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি নিজের পেশাগত যাত্রা, দেশের এভিয়েশন খাতের পরিবর্তন এবং তরুণদের জন্য সম্ভাব্য ক্যারিয়ার পথ নিয়ে আলোচনা করেন।
এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের সময় নিয়োগদাতারা কী ধরনের দক্ষতা ও পেশাগত গুণাবলি প্রত্যাশা করেন, সে বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেন তিনি।
পাশাপাশি এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
আয়োজকদের মতে, দেশের বিমানবন্দর অবকাঠামো ও এভিয়েশন কার্যক্রমে চলমান পরিবর্তনের কারণে গ্রাউন্ড অপারেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন, অন্যান্য বিমানবন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় নতুন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা এ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
মো. হারুনুর রশিদ বলেন, দেশে তৃতীয় টার্মিনাল, বগুড়া ও কক্সবাজার বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বিমানবন্দর এবং এভিয়েশন হাবের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। তবে এসব অবকাঠামো কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরির ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অপারেশনসহ এভিয়েশনের বিভিন্ন কাজে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যেই তরুণদের নিয়ে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কর্মশালায় এভিয়েশন ডট কম ডট বিডির কয়েকটি নতুন উদ্যোগের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান M360ICT-এর সঙ্গে অংশীদারত্বে Jobs360.aviation.com.bd নামে একটি বিশেষায়িত ক্যারিয়ার প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দেয়।
প্ল্যাটফর্মটির লক্ষ্য এভিয়েশন, পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতের নিয়োগদাতা ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল খুঁজে পেতে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এভিয়েশন খাতে দীর্ঘদিন কাজ করা পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ‘প্রজেক্ট: প্রমিথিউস’ নামে আরেকটি উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে অভিজ্ঞ এভিয়েশন পেশাজীবীরা প্রশিক্ষক ও মেন্টর হিসেবে যুক্ত হয়ে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নিজেদের পেশাগত জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
একই সঙ্গে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটির আসন্ন ‘এয়ারপোর্ট অ্যান্ড এয়ারলাইন গ্রাউন্ড অপারেশন ফাউন্ডেশন কোর্সে’ বিশেষ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল ভ্রমণবিষয়ক ডিজিটাল মিডিয়া চেক ইন।
কর্মশালা শেষে বিশেষ বক্তা মিসবাহ আল আহমেদ মজুমদার, বাংলাদেশ এভিয়েশন কমিউনিটির প্রতিনিধি, ইভেন্ট সাপোর্ট পার্টনার M360ICT এবং মিডিয়া পার্টনার চেক ইন-এর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
পরে দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশ নেওয়া ২৫ জন অংশগ্রহণকারীর হাতে সনদ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি হয়।
দেশের বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন কার্যক্রমের পরিধি বাড়ার সঙ্গে শুধু নতুন অবকাঠামো নয়, দক্ষ জনবল তৈরিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও শিল্পসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সঙ্গে তরুণদের সরাসরি যোগাযোগ ভবিষ্যৎ এভিয়েশন কর্মীদের জন্য খাতটির বাস্তব কার্যক্রম ও ক্যারিয়ার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
মন্তব্য করুন