এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
শখের ফটোগ্রাফি, ভিডিও ধারণ, সংবাদ সংগ্রহ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য দৃশ্য ধারণ—নানা কাজে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু বিমানবন্দর ও এর আশপাশে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একটি ছোট ড্রোনও উড্ডয়ন বা অবতরণের অপেক্ষায় থাকা উড়োজাহাজের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এমনকি কোনো সংঘর্ষ না ঘটলেও ড্রোনের উপস্থিতির কারণে বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিমানবন্দরের আশপাশের আকাশসীমায় ড্রোন পরিচালনার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ালে জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল, ফৌজদারি মামলা কিংবা কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বাংলাদেশেও বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন পরিচালনা নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ বিমান চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি পর্যায়। এ সময় উড়োজাহাজ তুলনামূলক কম উচ্চতায় অবস্থান করে এবং বিমানবন্দরের আশপাশের আকাশসীমা ব্যবহার করে।
একটি ড্রোন হঠাৎ উড়োজাহাজের সামনে চলে এলে পাইলটের পক্ষে সেটি এড়িয়ে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় নাও থাকতে পারে। সংঘর্ষের ক্ষেত্রে ড্রোনের ওজন, গতি, ব্যাটারি ও ধাতব অংশের কারণে ক্ষতির মাত্রা বাড়তে পারে।
ড্রোন উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে প্রবেশ করলে ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একইভাবে উইন্ডশিল্ড, ডানা, প্রপেলার কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে আঘাত লাগলে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বিমান নিরাপত্তা মূল্যায়নে ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হলো, ড্রোনের মধ্যে শক্ত ব্যাটারি ও বিভিন্ন যান্ত্রিক অংশ থাকে। ফলে আকারে ছোট হলেও এটি সাধারণ পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের চেয়ে ভিন্ন ধরনের ক্ষতি তৈরি করতে পারে।
তবে প্রতিটি ড্রোন সংঘর্ষেই বড় দুর্ঘটনা ঘটবে, এমন নয়। প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে সংঘর্ষের স্থান, উড়োজাহাজের ধরন, গতি এবং ড্রোনের বৈশিষ্ট্যের ওপর।
বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন দেখা যাওয়ার কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে।
সে সময় ড্রোন দেখা যাওয়ার একাধিক প্রতিবেদনের পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের কার্যক্রম প্রায় ৩৬ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়। এতে প্রায় এক হাজার ফ্লাইট এবং এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হন।
যুক্তরাজ্যের সরকারি নিরাপত্তা তথ্যভান্ডার প্রটেক্টইউকের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় আনুমানিক পাঁচ থেকে সাত কোটি পাউন্ডের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল।
গ্যাটউইকের ঘটনা দেখিয়েছে, উড়োজাহাজের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ না ঘটলেও ড্রোনের সম্ভাব্য উপস্থিতি একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম প্রায় অচল করে দিতে পারে।
ড্রোনের কারণে শুধু ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার ঘটনাই নয়, উড়োজাহাজের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষেরও প্রমাণিত নজির রয়েছে।
২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর কানাডার কুইবেক শহরের জ্যঁ-লেসাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় একটি বিচক্র্যাফট কিং এয়ার এ১০০ উড়োজাহাজের সঙ্গে ড্রোনের সংঘর্ষ হয়।
উড়োজাহাজটিতে দুই ক্রুসহ আটজন আরোহী ছিলেন। অবতরণের চূড়ান্ত পর্যায়ে পাইলট ডানার কাছে ড্রোনটি দেখতে পান। কিন্তু সেটি এড়িয়ে যাওয়ার মতো সময় ছিল না।
সংঘর্ষের পর পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং কেউ আহত হননি। তদন্তে উড়োজাহাজের বাঁ ডানায় আঁচড় ও কিছু ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়।
কানাডার ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের তদন্ত প্রতিবেদন এই ঘটনাকে ড্রোন ও যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের সংঘর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির টিটারবোরো বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন দেখা যাওয়ার খবর দেন পাইলটরা। এর পরপরই কাছাকাছি অবস্থিত নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ অবতরণ বন্ধ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি প্রায় সাড়ে তিন হাজার ফুট উচ্চতায় দেখা গিয়েছিল। একজন পাইলট জানান, ড্রোনটি তাঁর উড়োজাহাজের অত্যন্ত কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনা প্রমাণ করে, বিমানবন্দরের মূল সীমানার বাইরে ড্রোন ওড়ানো হলেও সেটি উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণপথের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ভারতে ড্রোন পরিচালনা নিয়ন্ত্রণ করা হয় ড্রোন রুলস, ২০২১ এবং সংশ্লিষ্ট আকাশসীমার বিধিনিষেধ অনুযায়ী। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় ড্রোন পরিচালনার জন্য আকাশসীমাকে গ্রিন, ইয়েলো ও রেড জোনে ভাগ করেছে।
বিমানবন্দরের সীমানা থেকে পাঁচ থেকে আট কিলোমিটার দূরত্বের আকাশসীমা সাধারণভাবে ইয়েলো জোনের আওতায় পড়ে। এ এলাকায় ড্রোন পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন।
আট থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বে নির্ধারিত উচ্চতার ওপর ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রেও অনুমতির বিধান রয়েছে। অন্যদিকে রেড জোনে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি ছাড়া ড্রোন পরিচালনা করা যায় না।
ভারতের ড্রোন রুলস, ২০২১ অনুযায়ী বিধি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ ভারতীয় রুপি পর্যন্ত আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে অন্য কোনো আইন লঙ্ঘিত হলে সেই আইনের অধীনেও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
অর্থাৎ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ওড়ানোকে ভারত শুধু সাধারণ নিয়মভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে না; সংশ্লিষ্ট আকাশসীমার নিরাপত্তা ও অনুমতির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়।
পাকিস্তানেও বিমানবন্দরের আশপাশে ড্রোন পরিচালনার জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বিধান রয়েছে।
দেশটির ২০২৪ সালের প্রস্তাবিত সিভিল আনম্যানড এয়ারক্রাফট রুলস অনুযায়ী, বিমানবন্দরের সীমানা থেকে ছয় কিলোমিটারের মধ্যে ড্রোন পরিচালনা নিষিদ্ধ আকাশসীমার আওতায় রাখার বিধান প্রস্তাব করা হয়। ছয় থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বের আকাশসীমায়ও বিশেষ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে।
পাকিস্তানের সিভিল এভিয়েশন অ্যাক্ট, ২০২৩ অনুযায়ী বিপজ্জনকভাবে উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। বিধি লঙ্ঘনের অন্যান্য অপরাধেও আলাদা শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে কোনো নির্দিষ্ট ড্রোন ঘটনার ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট অপরাধের ধরন ও কার্যকর বিধিমালার ওপর নির্ভর করে।
যুক্তরাজ্যে বিমানবন্দর ঘিরে ফ্লাইট রেস্ট্রিকশন জোন বা এফআরজেড নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো যায় না।
গ্যাটউইক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত পাঁচ কিলোমিটার ড্রোন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন পরিচালনা করলে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় ড্রোন পরিচালনার আগে অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া বা বিপজ্জনকভাবে ড্রোন পরিচালনার ঘটনায় জরিমানা, পাইলটের সনদ স্থগিত বা বাতিল এবং গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং নিরাপদ উড়োজাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে অননুমোদিত ড্রোন পরিচালনার বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ রয়েছে।
২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দেশের সব বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে।
বেবিচক জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বিমানবন্দরের আশপাশে অননুমোদিত ড্রোন পরিচালনা নিরাপদ বিমান চলাচল ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকা, উড্ডয়ন ও অবতরণপথ এবং সংশ্লিষ্ট আকাশসীমায় ড্রোন পরিচালনার ওপর বিশেষ সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল।
বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ প্রয়োজনে ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। অনুমতি ছাড়া ড্রোন পরিচালনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সংবাদমাধ্যম, কনটেন্ট নির্মাতা, ফটোগ্রাফার এবং বিভিন্ন ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ড্রোন ব্যবহার করে থাকে।
তবে সংবাদ সংগ্রহ, বিয়ের অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সমাবেশ, বিমানবন্দরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমন কিংবা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্য থাকলেও বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো নিরাপদ বা বৈধ হয়ে যায় না।
বিশেষ করে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ, রানওয়ের আশপাশ, উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণপথ এবং সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, একটি ড্রোনের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।
এতে উড়োজাহাজের অবতরণ বিলম্বিত হওয়া, অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো, ফ্লাইট বাতিল কিংবা রানওয়ের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ফলে একটি অননুমোদিত ড্রোন শুধু সেটির পরিচালনাকারীর জন্য ঝুঁকি নয়; এটি যাত্রী, পাইলট, কেবিন ক্রু, বিমানবন্দর কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি। বিশেষ করে বিমানবন্দরের আশপাশে বসবাসকারী ব্যক্তি, সংবাদকর্মী এবং ড্রোন পরিচালনাকারীদের মনে রাখতে হবে—অনুমতি ছাড়া কয়েক মিনিটের ড্রোন ফ্লাইটও বড় ধরনের বিমান চলাচল বিঘ্নের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাসংক্রান্ত বাসস প্রতিবেদন; কানাডার ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড; যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ও প্রটেক্টইউকে; যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন; ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়; পাকিস্তানের সিভিল এভিয়েশন অ্যাক্ট, ২০২৩ এবং ড্রোন বিধিমালাসংক্রান্ত প্রকাশিত নথি।
মন্তব্য করুন