এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
শক্তিশালী যাত্রী চাহিদা সত্ত্বেও বাড়তি জ্বালানি ব্যয় ও আঞ্চলিক আকাশসীমার বিধিনিষেধে ২০২৬ সালে আর্থিক চাপে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন খাত। দীর্ঘ বিকল্প রুট, পরিচালন সক্ষমতা হ্রাস এবং ফ্লাইট সূচিতে বিঘ্ন এয়ারলাইনগুলোর ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কাতার এয়ারওয়েজ গ্রুপের ২০২৫–২৬ অর্থবছরে নিট মুনাফা ৯.৯ শতাংশ কমে ৭.০৮ বিলিয়ন কাতারি রিয়াল বা প্রায় ১.৯৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এটি শুধু ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের ফল নয়; অর্থবছরটি ছিল এপ্রিল ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত। এ সময়ে এয়ারলাইনটি ৪ কোটি ১৮ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে।
আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের পাশাপাশি জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি কাতার এয়ারওয়েজের কার্যক্রমে চাপ তৈরি করেছে। তারপরও দীর্ঘপাল্লার যাত্রী ও কার্গো পরিবহনে চাহিদা শক্তিশালী ছিল।
কুয়েতভিত্তিক Jazeera Airways-এর ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিট মুনাফা ১০.৩ শতাংশ কমে ৮.৬ মিলিয়ন কুয়েতি দিনারে দাঁড়িয়েছে। তবে একই সময়ে পরিচালন আয় ১৩.৪ শতাংশ বেড়ে ১১৫.৮ মিলিয়ন দিনার হয়েছে।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ থাকা এবং পরবর্তী পরিচালন বিধিনিষেধে জাজিরার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। প্রথমার্ধে এয়ারলাইনটি প্রায় ১৫ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে এবং load factor ছিল ৭৯.১ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় বিঘ্নের কারণে অনেক ফ্লাইটকে বিকল্প ও দীর্ঘ রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানির পাশাপাশি উড়োজাহাজ ও ক্রু ব্যবস্থাপনায়ও ব্যয় বাড়ছে। IATA-ও ২০২৬ সালে উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় বিঘ্নকে বৈশ্বিক এয়ারলাইন শিল্পের মুনাফার ওপর বড় চাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। Reuters
তবে যাত্রী চাহিদা শক্তিশালী থাকায় এয়ারলাইনগুলো রুট ও সক্ষমতা পুনর্বিন্যাস, অপেক্ষাকৃত জ্বালানি-সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ ব্যবহার এবং বহর আধুনিকায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্র: Qatar Airways
মন্তব্য করুন