এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
মদিনা থেকে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের উমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের ঘটনায় দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ কমাতে নিজস্ব সংরক্ষিত মজুত থেকে জমজমের পানি সরবরাহ করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনটি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পবিত্র উমরাহ পালন শেষে মদিনা থেকে ঢাকায় আসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ (BG 338) ফ্লাইট। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যাত্রীরা তাদের সঙ্গে ট্যাগ করা জমজমের পানি পেতে বিলম্বের মুখে পড়েন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কন্টেইনার অফলোডিং এবং পরিচালনগত গাফিলতির কারণে ব্যাগেজ বেল্টে সময়মতো জমজমের পানি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর যাত্রীসেবার মান, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান এবং ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই ও পর্যালোচনা করা হবে। পরবর্তী প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে বিমানের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের বিষয়টি নজরে আসার পর উমরাহ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিজস্ব সংরক্ষিত মজুত থেকে যাত্রীদের জমজমের পানি বিতরণ শুরু করা হয়।
এরপর সংশ্লিষ্ট অপর কন্টেইনারটি শনাক্ত করে সেখান থেকে জমজমের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। ফলে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের পানি সরবরাহের ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।
উমরাহ ও হজফেরত যাত্রীদের কাছে জমজমের পানি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ফলে এ ধরনের সামগ্রী সময়মতো ব্যাগেজ ডেলিভারি ব্যবস্থার আওতায় পৌঁছানো এবং কোনো বিলম্ব হলে যাত্রীদের দ্রুত ও সঠিক তথ্য দেওয়া যাত্রীসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটটিতে ৩৫ জন সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য যাত্রী ছিলেন। জমজমের পানি পেতে বিলম্ব এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলে চারজন সংসদ সদস্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষকে চার কর্মদিবস সময় দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগের পাশাপাশি বিমান কর্তৃপক্ষও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে অভ্যন্তরীণ তদারকি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট অবতরণের পর ব্যাগেজ ও অন্যান্য ট্যাগযুক্ত সামগ্রী দ্রুত যাত্রীদের কাছে পৌঁছে দিতে এয়ারলাইন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং সংশ্লিষ্ট অপারেশনাল ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি পর্যায়ে বিলম্ব হলে পুরো ব্যাগেজ ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দীর্ঘ ভ্রমণের পর যাত্রীদের ব্যাগেজ বা সংশ্লিষ্ট সামগ্রী পেতে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলে দ্রুত তথ্য জানানো এবং বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যাত্রীসেবার মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা দিতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং যাত্রীসেবার প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
মন্তব্য করুন