সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে ফুকুওকা বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির ভেতরে সাপটি প্রথম শনাক্ত করা হয়। পরে বন্য প্রাণী নিয়ন্ত্রণে অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তির সহায়তায় সাপটি ধরার চেষ্টা শুরু হয়। সেটিকে নিরাপদে ধরতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে।
জাপানের সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উড়োজাহাজটির যাত্রীদের ওঠার আগেই সাপটি শনাক্ত করা হয়। ফলে কোনো যাত্রী উড়োজাহাজে থাকা অবস্থায় সাপটির মুখোমুখি হননি।
ধরা পড়া সাপটি বিষধর ছিল না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উড়োজাহাজটির নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে সাপটি কীভাবে উড়োজাহাজের ভেতরে প্রবেশ করল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি যে উড়োজাহাজে ঘটে, সেটি ১৯ অক্টোবর জাপানের শিমানে অঞ্চলের ইজুমো বিমানবন্দর থেকে ফুকুওকায় এসেছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১টার দিকে ফুকুওকা থেকে কাগোশিমা অঞ্চলের উদ্দেশে উড্ডয়নের কথা ছিল উড়োজাহাজটির।
তবে উড্ডয়নের প্রস্তুতির সময় সাপটি শনাক্ত হওয়ায় নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হয়নি। বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিমান সংস্থাটির প্রাথমিক ধারণা, সাপটি কোনোভাবে উড়োজাহাজের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে থাকতে পারে। তবে ঠিক কখন, কোথায় এবং কীভাবে এটি উড়োজাহাজে ঢুকেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাপান এয়ার কমিউটার জানিয়েছে, তাদের জানা মতে যাত্রীকক্ষে এ ধরনের সাপ পাওয়ার ঘটনা এর আগে ঘটেনি। ঘটনার কারণ শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
উড়োজাহাজের ভেতরে সাপ পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন নজির রয়েছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে হাওয়াইগামী একটি ফ্লাইটে এক যাত্রীর সঙ্গে ভুলবশত সাপ উঠে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসে।
এর আগে ২০২২ সালে এয়ারএশিয়ার একটি ফ্লাইটের কেবিনে সাপ দেখা গেলে উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিমান চলাচলে যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উড্ডয়নের আগে বিভিন্ন ধরনের পরিদর্শন ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ফুকুওকার এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, উড়োজাহাজের কেবিন ও অন্যান্য অংশে অপ্রত্যাশিত কোনো বস্তু বা প্রাণীর উপস্থিতি শনাক্ত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
সাপটি কীভাবে উড়োজাহাজের ভেতরে প্রবেশ করেছিল, সেটি তদন্তে নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বিমান সংস্থাটি অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটিও নজরে থাকবে।
উৎস: কিয়োডো নিউজ, জাপান এয়ারলাইন্স কমিউটার ( জেএসি)
মন্তব্য করুন