aviation
প্রকাশিত: 29 September 2026, 12:38:47 Pm
অনলাইন সংস্করণ

২১ নতুন বোয়িংয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা, বিনিয়োগ ১৪ হাজার কোটি টাকা

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে বড় ধরনের বহর সম্প্রসারণে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এয়ারলাইনটি ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ লিজে নেওয়ার পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে থাকবে ১৫টি Boeing 737-8 এবং ছয়টি Boeing 737-800। প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই fleet expansion programme-এর আওতায় উড়োজাহাজগুলো ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা।

গত ২৯ জুলাই ঢাকার Sheraton-এ আয়োজিত ‘Beyond with Boeing’ অনুষ্ঠানে ইউএস-বাংলা এই পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এর আগে প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২১টি brand-new Boeing 737-8 এবং প্রায় ১.১১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা জানানো হয়েছিল। তবে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় fleet mix ও বিনিয়োগের পরিমাণ সংশোধিত হয়ে ১৫টি 737-8, ছয়টি 737-800 এবং প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

পাঁচ আন্তর্জাতিক লিজিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উড়োজাহাজ

নতুন ২১টি aircraft সরাসরি Boeing-এর কাছ থেকে purchase order হিসেবে কেনার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক aircraft leasing company-গুলোর মাধ্যমে বহরে যুক্ত করা হবে। এ পরিকল্পনায় পাঁচটি আন্তর্জাতিক lessor যুক্ত রয়েছে।

ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, নতুন aircraft ২০২৭ সালের expansion programme বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্য চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান রুটে frequency বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেটকে ঘিরে পরিকল্পনা

বহর সম্প্রসারণের অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক air connectivity আরও বিস্তৃত করা। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক aviation hub হিসেবে ব্যবহারের কথা জানিয়েছিল ইউএস-বাংলা।

নতুন বহর ব্যবহার করে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে এয়ারলাইনটির।

সম্ভাব্য নতুন গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে ভারতের বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, নেপালের কাঠমান্ডু, চীনের কুনমিং, শেনঝেন ও বেইজিং, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও পেনাং, পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিভিন্ন গন্তব্য। মধ্যপ্রাচ্যে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম ও সালালাহর মতো গন্তব্যও পরিকল্পনায় রয়েছে। এসব নতুন রুট অবশ্য প্রয়োজনীয় regulatory approval ও commercial preparation-এর ওপর নির্ভর করবে।

২১টি নয়, সবগুলো 737-8 নয়

ইউএস-বাংলার বহর সম্প্রসারণ নিয়ে প্রাথমিক তথ্য এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি BIDA-কে পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৭ সালে পাঁচ leasing company থেকে ২১টি brand-new Boeing 737-8 আসবে। তখন বিনিয়োগের পরিমাণ ধরা হয়েছিল প্রায় ১.১১ বিলিয়ন ডলার বা ১৪ হাজার কোটি টাকা।

কিন্তু ২৯ জুলাইয়ের চূড়ান্ত ঘোষণায় ইউএস-বাংলা জানায়, ২১টির মধ্যে ১৫টি হবে Boeing 737-8 এবং ছয়টি Boeing 737-800, আর পুরো leasing programme-এর মূল্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার।

ফলে বর্তমান তথ্য অনুযায়ী ২০২৭ সালে ২১টি brand-new 737-8 আসবে—এমনটি নয়; বরং ২১টি Boeing narrowbody aircraft পর্যায়ক্রমে বহরে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন কেবিন, ওয়্যারলেস বিনোদন ও ইন্টারনেট

শুধু fleet size নয়, নতুন aircraft-এর passenger experience-এও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউএস-বাংলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় নতুন aircraft-এ modern cabin interior, বড় overhead bin, in-seat power, wireless in-flight entertainment এবং high-speed internet connectivity রাখার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

Wireless entertainment system থাকলে যাত্রীরা নিজেদের smartphone, tablet বা laptop ব্যবহার করে aircraft-এর entertainment library থেকে content দেখতে পারবেন।

তবে wireless IFE এবং inflight internet একই প্রযুক্তি নয়। প্রথমটি aircraft-এর ভেতরের local entertainment network-এর মাধ্যমে কাজ করতে পারে, আর internet connectivity-এর জন্য satellite বা air-to-ground connectivity প্রয়োজন হয়।

এক বছরে ২১ উড়োজাহাজ নেওয়া বড় operational challenge-ও

একটি এয়ারলাইনের জন্য এত বড় fleet induction শুধু aircraft সংগ্রহের বিষয় নয়। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত pilot, cabin crew, aircraft maintenance engineer, flight dispatcher, ground personnel, spare-parts inventory, simulator capacity এবং maintenance infrastructure প্রস্তুত করতে হয়।

বিশেষ করে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ২১টি aircraft পর্যায়ক্রমে বহরে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইউএস-বাংলাকে সেই অনুপাতে crew ও technical manpower বাড়াতে হবে।

এটি বাংলাদেশের aviation workforce-এর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে ঠিক কত নতুন চাকরি হবে, তা airline-এর final fleet deployment ও operational structure নির্ধারিত হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

737-8 ও 737-800—একই পরিবারের দুই প্রজন্ম

পরিকল্পিত বহরের ১৫টি Boeing 737-8 হলো 737 MAX পরিবারের aircraft, আর ছয়টি 737-800 হলো আগের 737 Next Generation বা NG পরিবারের।

একই 737 family-এর aircraft ব্যবহারের কারণে fleet planning, crew training এবং maintenance-এর কিছু ক্ষেত্রে commonality-এর সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে 737-8 ও 737-800-এর technology, engine এবং নির্দিষ্ট maintenance requirements পুরোপুরি এক নয়।

ইউএস-বাংলা বর্তমানে 737-800 পরিচালনার অভিজ্ঞতা রাখায় নতুন 737 fleet expansion-এর ক্ষেত্রে বিদ্যমান operational experience কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে।

বিদেশি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক passenger market-এর বড় অংশ বর্তমানে বিদেশি carrier-রা পরিবহন করে। ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, নতুন aircraft ব্যবহার করে international routes-এ দেশীয় carrier হিসেবে নিজেদের market share বাড়ানো তাদের expansion strategy-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নতুন সরাসরি রুট চালু হলে বাংলাদেশি যাত্রীদের কিছু গন্তব্যে connecting flight-এর ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। একই সঙ্গে inbound tourism এবং business travel-এর জন্যও নতুন connectivity তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে fleet expansion নিজে থেকেই কোনো রুটের commercial success নিশ্চিত করে না। যাত্রী চাহিদা, bilateral traffic rights, airport slots, competition, fare structure এবং aircraft utilisation—প্রতিটি বিষয়ই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের বেসরকারি এভিয়েশনে বড় পরীক্ষা

২১টি Boeing aircraft-এর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশের কোনো বেসরকারি এয়ারলাইনের অন্যতম বড় fleet expansion programme হবে। Reuters-ও এটিকে ইউএস-বাংলার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণের বড় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে aircraft delivery schedule অনুযায়ী network, manpower, maintenance ও commercial planning এগিয়ে নেওয়া।

কারণ ২১টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা যেমন বড় বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের সুযোগ, তেমনি সেগুলোকে পর্যাপ্ত যাত্রী নিয়ে নিয়মিত ও লাভজনকভাবে পরিচালনা করাই হবে ইউএস-বাংলার সামনে বড় operational challenge।

সূত্র: BSS

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর এখন ই

1

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দুবাইফেরত যাত্রীর ব্যাগেজে প্রায় ৬ লাখ

2

শাহজালালে গুলিভর্তি ব্যাগ: নিরাপত্তায় গাফিলতিতে কঠোর অবস্থান

3

বেবিচকে বেসামরিক বিমান চলাচলের হুমকি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় CATRA

4

দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ছাড়াই দেশ ছাড়লেন ৩ বিদেশি, এয়ার

5

পুরো প্রকল্পে ১৪,৮২৪টি আইটেম, একটি আইটেমের দাম নিয়ে বিভ্রান্

6

মাউন্ট এটনার ছাইয়ে টানা পাঁচ দিন বন্ধ ইতালির কাতানিয়া বিমানব

7

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্

8

ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে আরও স্বচ্ছতার উদ্যোগ চেয়ে আইনি নোটিশ, ল

9

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি প্রতি

10

মায়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

11

আগুনের ঘটনার পর শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জ বন্ধ

12

থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি, স্ক্যানার ও দক্ষ জনবল নিয়ে

13

বারাণসী বিমানবন্দরে যাত্রীর পিস্তল থেকে গুলি, নিরাপত্তারক্ষী

14

বৈরী আবহাওয়ায় পর্যটকশূন্য কক্সবাজার-কুয়াকাটা, শত কোটি টাকার

15

ঢাকা-সিউল সরাসরি ফ্লাইটের উদ্যোগ, সপ্তাহে ৫৬টি যাত্রী ও কার্

16

শাহজালালের নিরাপত্তা পেরিয়ে ৩১ রাউন্ড গুলিভর্তি ব্যাগ বিমানে

17

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌনে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণের চুড়িসহ যাত্

18

৩৪ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি, সুবিধা পাবেন

19

অক্টোবরে চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বিমানম

20