দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ও যাত্রীর ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এক ঘণ্টায় ২০টির বেশি উড়োজাহাজের আগমন ও প্রস্থান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) ওপর অতিরিক্ত কর্মচাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে সীমিত টার্মিনাল অবকাঠামো ও একই বিমানবন্দরে বেসামরিক-সামরিক উড়োজাহাজ চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ২০২৬-২৭ সালের শীত মৌসুমের ফ্লাইটসূচি নির্ধারণে বিমানবন্দরের বাস্তব সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।
চিঠিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তর প্রস্তুত করা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সক্ষমতা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় ২২টি উড়োজাহাজের আগমন ও প্রস্থান হলে এটিসি কর্মীদের কাজের চাপ ‘ওভারলোডেড’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তখন নিরাপদ ও কার্যকরভাবে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এর বাস্তব উদাহরণ হিসেবে গত ১১ জুলাইয়ের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মাত্র এক ঘণ্টায় শাহজালালে দেশি-বিদেশি ২১টি উড়োজাহাজের আগমন ও প্রস্থান ঘটে। অর্থাৎ ‘ওভারলোডেড’ হিসেবে চিহ্নিত ২২টি মুভমেন্টের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে যায় বিমানবন্দর।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় শাহজালাল ‘জয়েন্ট এয়ারফিল্ড’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায়। নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পাশাপাশি এখানে সামরিক জেট, প্রশিক্ষণ ফ্লাইট ও হেলিকপ্টারও চলাচল করে। ফলে একই সময়ে একাধিক উড়োজাহাজের অবস্থান নির্ধারণ, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, রানওয়ে ব্যবস্থাপনা এবং অবতরণ ও উড্ডয়নের ক্রম নির্ধারণ করতে হয় কন্ট্রোল টাওয়ারকে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮টি উড়োজাহাজের আগমন ও প্রস্থান পরিচালনার সক্ষমতা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে শাহজালালের সীমাবদ্ধতা শুধু এটিসি বা রানওয়েতে নয়। বর্তমান টার্মিনালের বোর্ডিং ব্রিজ, ডিপার্চার লাউঞ্জ, অ্যারাইভাল ব্যাগেজ বেল্ট ও চেক-ইন কাউন্টারের ধারণক্ষমতাও ফ্লাইটসূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে বেশি ফ্লাইট এলে ইমিগ্রেশন, ব্যাগেজ সংগ্রহ, চেক-ইন ও বোর্ডিং এলাকাতেও যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লে পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং সামরিক ও প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
তাই নতুন ফ্লাইটসূচি অনুমোদনের ক্ষেত্রে শুধু রানওয়ে বা আকাশসীমার সক্ষমতা নয়, এটিসি থেকে শুরু করে বোর্ডিং ব্রিজ, চেক-ইন কাউন্টার, লাউঞ্জ ও ব্যাগেজ বেল্ট পর্যন্ত পুরো বিমানবন্দর ব্যবস্থার সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান চাপ সামাল দিতে কর্তৃপক্ষের সামনে বড় প্রত্যাশা এখন বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল চালু হওয়া। নতুন টার্মিনাল কার্যক্রমে এলে যাত্রী ব্যবস্থাপনা ও টার্মিনাল অবকাঠামোর ওপর বর্তমান চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
মন্তব্য করুন