aviation
প্রকাশিত: 3 October 2026, 11:19:50 Am
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশিদের জন্য সৌদির নতুন ভিসা সুবিধা, এক প্যাকেজেই ভিসা-ফ্লাইট-হোটেল

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

বাংলাদেশসহ সাত দেশের নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণ সহজ করতে নতুন ‘Package Visa’ সুবিধা চালু করেছে দেশটির পর্যটন কর্তৃপক্ষ। এই ব্যবস্থায় অনুমোদিত travel provider-এর মাধ্যমে একটি সমন্বিত পর্যটন প্যাকেজ কিনে একই প্রক্রিয়ায় বিমান টিকিট, হোটেল এবং electronic tourist visa (eVisa)-এর ব্যবস্থা করা যাবে।

সৌদি আরবের সরকারি পর্যটন প্ল্যাটফর্ম Visit Saudi জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, জর্ডান ও মেক্সিকোর নাগরিক এবং এসব দেশের passport holder-রা এই সুবিধার জন্য যোগ্য।

ফলে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্যও সৌদি আরবের tourist visa পাওয়ার নতুন একটি পথ তৈরি হয়েছে। তবে এটি ভিসামুক্ত প্রবেশ বা সবার জন্য সরাসরি সাধারণ eVisa সুবিধা নয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে অনুমোদিত travel package কেনার সঙ্গে এই visa সুবিধা যুক্ত থাকবে।

এক প্যাকেজেই ফ্লাইট, হোটেল ও ভিসা

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—যোগ্য পর্যটকের flight, accommodation এবং visa processing একই travel package-এর মধ্যে আনা হয়েছে।

Visit Saudi-এর তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেজে নিশ্চিত accommodation এবং flight booking থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় passport information ও ছবি জমা দিয়ে payment সম্পন্ন করার পর eligibility ও submitted information যাচাই করা হবে এবং অনুমোদিত হলে electronic visa পাওয়া যাবে।

অর্থাৎ tourist visa-এর জন্য আলাদা standalone application করার পরিবর্তে package booking-এর সঙ্গেই visa process সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে আবেদন বা package purchase করলেই visa পাওয়া নিশ্চিত নয়। চূড়ান্ত approval সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। Almosafer-এর প্রকাশিত শর্তেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশিদের জন্য কী পরিবর্তন হলো

সৌদি আরবের সাধারণ tourist eVisa portal-এ সরাসরি eVisa আবেদনের জন্য বর্তমানে যে nationality list রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে নতুন Package Visa programme বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য বাংলাদেশি passport holder অনুমোদিত package কিনে tourist eVisa-এর জন্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের সব passport holder এখন সাধারণ Saudi eVisa portal থেকে স্বাধীনভাবে eVisa করতে পারবেন।

Package Visa একটি আলাদা programme এবং এর জন্য নির্ধারিত travel package-এর শর্ত পূরণ করতে হবে।

কার মাধ্যমে আবেদন করা যাবে

Visit Saudi-এর বর্তমান Package Visa পেজে তিনটি travel partner দেখানো হচ্ছে—Reserval, Almosafer এবং webook.com।

প্রতিষ্ঠানভেদে booking process ও package structure কিছুটা আলাদা হতে পারে।

Visit Saudi-এর তথ্য অনুযায়ী, Reserval-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় booking ও payment সম্পন্ন করার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে eVisa ই-মেইলে পাওয়ার সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে।

Almosafer customised itinerary এবং একাধিক Saudi destination নিয়ে trip তৈরির সুযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে webook.com flight, hotel ও tourist eVisa-কে একই booking experience-এর মধ্যে দিচ্ছে।

সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৪ হাজার সৌদি রিয়াল

Package Visa সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে minimum spending requirement রয়েছে।

Visit Saudi-এর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পর্যটকের প্রথম দুই দিনের জন্য package value কমপক্ষে ৪ হাজার সৌদি রিয়াল হতে হবে।

এরপর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য জনপ্রতি ন্যূনতম ১ হাজার সৌদি রিয়াল যোগ করতে হবে।

Almosafer-এর বর্তমান শর্ত অনুযায়ী, প্রথম দুই দিনের ৪ হাজার রিয়ালের মধ্যে ৩,৫৯৭.৭৯ রিয়াল travel booking-এর জন্য এবং ৪০২.২১ রিয়াল বাধ্যতামূলক government visa, insurance ও processing fee হিসেবে ধরা হয়েছে।

অর্থাৎ ৪ হাজার রিয়াল শুধু visa fee নয়; এটি নির্ধারিত minimum package value।

হোটেল হতে হবে কমপক্ষে চার তারকা

Package Visa-এর ক্ষেত্রে যেকোনো accommodation বুক করলেই হবে না।

Visit Saudi-এর FAQ অনুযায়ী, package-এর মধ্যে সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কমপক্ষে চার তারকা মানের হোটেলে নিশ্চিত accommodation এবং confirmed round-trip flight booking থাকতে হবে।

Almosafer-এর বর্তমান শর্তে flight arrival ও departure date-এর সঙ্গে hotel check-in এবং check-out date মিলিয়ে রাখার কথাও বলা হয়েছে।

ফলে শুধু কম দামের flight বা আলাদাভাবে যেকোনো hotel বুক করে এই সুবিধা নেওয়া যাবে—এমন নয়।

কতদিনের জন্য ভ্রমণ করা যাবে

Almosafer-এর Package Visa programme-এর বর্তমান শর্ত অনুযায়ী, ভ্রমণের মেয়াদ সর্বনিম্ন দুই দিন থেকে সর্বোচ্চ ৮৮ দিন হতে পারে। Booking departure-এর অন্তত দুই দিন আগে সম্পন্ন করতে হবে।

প্রকাশিত programme information অনুযায়ী, এই tourist visa single-entry এবং তিন মাস validity-র। Gulf News-ও সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে একই শর্ত জানিয়েছে।

এটি সৌদি আরবের সাধারণ tourist eVisa-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। সাধারণ Saudi tourist eVisa বর্তমানে এক বছরের multiple-entry visa হতে পারে এবং সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থানের সুযোগ দেয়।

২৪ ঘণ্টা নাকি ৪৮ ঘণ্টায় ভিসা?

ভিসা পাওয়ার সময় provider অনুযায়ী কিছুটা আলাদা হতে পারে।

Visit Saudi বর্তমানে Reserval-এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে eVisa ই-মেইলে পাঠানোর কথা বলছে।

অন্যদিকে programme চালুর সময় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত package purchase সম্পন্ন হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে electronic visa issuance-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তাই ভ্রমণকারীদের নির্দিষ্ট provider-এর booking করার সময় প্রদর্শিত processing timeline যাচাই করাই নিরাপদ।

১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য আলাদা নিয়ম

Almosafer-এর বর্তমান শর্ত অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ independently এই programme-এ আবেদন করতে পারবেন না।

তাকে একই package-এ থাকা একজন adult sponsor-এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। Sponsor-এর visa application প্রত্যাখ্যাত হলে linked dependent-এর আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হবে।

একটি package-এ সর্বোচ্চ নয়জন adult এবং পাঁচজন minor অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগের কথাও Almosafer জানিয়েছে।

প্যাকেজ পরিবর্তন করলে ভিসাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে

Visa পাওয়ার পর flight বা hotel booking ইচ্ছামতো বাতিল বা পরিবর্তন করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।

Almosafer জানিয়েছে, visa issuance-এর পর booking পরিবর্তন বা বাতিলের কারণে package value নির্ধারিত minimum requirement-এর নিচে নেমে গেলে সৌদি কর্তৃপক্ষ visa বাতিল বা invalid করতে পারে।

ভুল তথ্য দেওয়া, required document-এর অসংগতি কিংবা programme-এর শর্ত পূরণ না হলেও আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।

ফলে শুধু visa পাওয়ার জন্য package বুক করে পরে flight বা accommodation বাতিল করার পরিকল্পনা নিরাপদ নয়।

এটি কাজের ভিসা নয়

বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—Package Visa সম্পূর্ণভাবে tourist visa programme।

এটি Saudi work visa বা employment permit নয়।

এই visa ব্যবহার করে সৌদি আরবে গিয়ে চাকরি করা বা employment activity পরিচালনার অনুমতি পাওয়া যায় না। কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট employment visa এবং Saudi labour/immigration regulations অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।

কেউ Package Visa-কে ‘সহজে সৌদি গিয়ে কাজ করার নতুন ভিসা’ হিসেবে প্রচার করলে সেটি বিভ্রান্তিকর হবে।

ওমরাহ নিয়ে বুকিংয়ের আগে বিশেষ সতর্কতা

Package Visa-কে ‘Umrah package’ হিসেবেও দেখা ঠিক হবে না।

প্রকাশিত programme information-এ Umrah service বা arrangement এই package-এর অংশ নয়। Gulf News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, visa holder সৌদি আরবে প্রবেশের পর মক্কা ও মদিনাসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে পারবেন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

Almosafer-এর বর্তমান Package Visa terms-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তাদের এই নির্দিষ্ট visa programme-এর অধীনে মক্কা ও মদিনা ভ্রমণ অনুমোদিত নয়।

ফলে ওমরাহ বা মক্কা-মদিনা ভ্রমণের উদ্দেশ্য থাকলে পুরোনো সংবাদ বা সাধারণ tourist visa rules-এর ওপর নির্ভর না করে booking-এর আগে নির্বাচিত provider-এর সর্বশেষ শর্ত এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা জরুরি।

সাধারণ Saudi eVisa থেকে এটি আলাদা কেন

Saudi Arabia-এর সাধারণ tourist eVisa বর্তমানে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি online application-এর সুযোগ দেয়। সরকারি eVisa portal অনুযায়ী, সেই visa এক বছরের multiple-entry এবং tourism, leisure, family visit ও Umrah—Hajj ছাড়া—কিছু নির্ধারিত কার্যক্রমে ব্যবহার করা যায়।

কিন্তু বাংলাদেশ বর্তমানে সাধারণ online eVisa nationality list-এ নেই।

নতুন Package Visa programme এই জায়গাতেই বাংলাদেশিদের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে—নির্ধারিত tourism package-এর সঙ্গে electronic tourist visa পাওয়ার পথ।

সৌদি পর্যটনে নতুন বাজার ধরার উদ্যোগ

নতুন programme সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক tourism market সম্প্রসারণের চলমান উদ্যোগের অংশ।

Package Visa-এর মাধ্যমে এমন কিছু দেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যারা সাধারণ eVisa eligibility list-এর বাইরে থাকলেও সৌদি আরব ভ্রমণে বড় সম্ভাব্য বাজার।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও religious travel-এর বাইরে Riyadh, Jeddah, AlUla, Red Sea এবং অন্যান্য leisure ও cultural destination ঘিরে tourism market তৈরির সুযোগ রয়েছে।

তবে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি visa-free সুবিধা নয়, সাধারণ eVisa-ও নয় এবং কাজের ভিসাও নয়।

অনুমোদিত provider-এর মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যের flight ও hotel package কিনে, প্রয়োজনীয় eligibility পূরণ এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের approval পাওয়ার পরই এই সুবিধায় ভ্রমণ করা যাবে।

বুকিংয়ের আগে তাই সরকারি Visit Saudi Package Visa পেজ এবং নির্বাচিত travel provider-এর সর্বশেষ terms যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ।

তথ্যসূত্র: Gulf News।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক–২০২৬’ পালিত

1

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ, ১০০ ফ্লাই

2

শাহজালালসহ দেশের কোনো বিমানবন্দরে নেই ‘ইঞ্জিন রান-আপ বে’, বা

3

বিমানের বহরে আসছে ২৫ নতুন বোয়িং, অর্ডারে ১৫ ড্রিমলাইনার ও ১০

4

রোমে আটকে পড়া বিমানের যাত্রীরা দুপুরে ফিরছেন দেশে

5

ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন সিদ্ধান্ত, একসঙ্গে মিলবে

6

শাহজালালের রানওয়েতে দুই বিমানকর্মীর জুতা থেকে ৮০ স্বর্ণবার উ

7

বৈরী আবহাওয়ায় পর্যটকশূন্য কক্সবাজার-কুয়াকাটা, শত কোটি টাকার

8

শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজের গতিবিধি সরাসরি দেখবেন যাত্রীরা,

9

বিদেশি এয়ারলাইনসের আধিপত্যের নেপথ্যে দেশীয় সংস্থার দুর্বলতা:

10

বিমানবন্দরে এআই নজরদারি, ছবি দিয়েই শনাক্ত হবে অপরাধী

11

কারিগরি ত্রুটিতে রোমে আটকা বিমানের ফ্লাইট, ঢাকা–টরন্টোর সূচি

12

উড়োজাহাজে যাত্রীদের মারামারি বাড়ছে, ‘Unruly Passenger’ ঠেকাত

13

হাতিরঝিলে ১৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক হাফ ম্যারাথন, অংশ নেবেন

14

আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায়

15

নিরাপত্তায় বদলে যাচ্ছে শাহজালাল, নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

16

রানওয়ে নিরাপত্তায় ৯ কোটি টাকায় আধুনিক সুইপার কিনছে বেবিচক

17

অক্টোবরে চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, প্রস্ত

18

NCASC-এর ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত, আসন্ন ICAO Audit সামনে রেখে এভিয়

19

তিন দশক পর আবার আলোচনায় খানজাহান আলী বিমানবন্দর, আগ্রহ চীন ও

20