এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
টানা ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ধসের আশঙ্কা এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্নের ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধস ও সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় সাজেক ভ্যালির পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত নয়, প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বর্তমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
ফলে আবহাওয়া কিছুটা ভালো দেখালেও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করা উচিত নয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ি সড়কে মাটি ও পাথর ধসে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাহাড়ি সড়ক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিরূপ আবহাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থার নিরাপত্তাও বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।
এসব ঝুঁকি বিবেচনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার অপেক্ষা না করে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ করেছে প্রশাসন।
যেসব পর্যটক ইতোমধ্যে সাজেকের হোটেল, রিসোর্ট বা ট্যুর প্যাকেজ বুকিং করেছেন, তাদের আপাতত যাত্রা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করা থাকলে বুকিংয়ের তারিখ পরিবর্তন, পুনঃনির্ধারণ কিংবা রিফান্ডের সুযোগ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
একই সঙ্গে ঢাকা বা দেশের অন্য এলাকা থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত পরিবহন চালু থাকলেও সেটিকে সাজেক ভ্রমণের অনুমতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সাজেকে পর্যটক প্রবেশের ক্ষেত্রে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।
অনলাইন হোটেল বা ট্রাভেল বুকিং প্ল্যাটফর্মে সাজেকের কোনো হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ের জন্য available দেখাতে পারে। কিন্তু সেটি প্রশাসনিকভাবে পর্যটনকেন্দ্র খোলা থাকার নিশ্চয়তা নয়।
তাই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অনলাইনে রুম পাওয়া যাচ্ছে দেখে অগ্রিম অপরিবর্তনযোগ্য বুকিং করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সাজেক পুনরায় খুলে দেওয়ার সরকারি ঘোষণা পাওয়ার পর ভ্রমণের তারিখ চূড়ান্ত করাই নিরাপদ।
সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত। ভারতের মিজোরাম সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি এ পর্যটনকেন্দ্র মেঘ, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
বর্ষাকালে সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠলেও একই সময়ে পাহাড়ি পথে ভ্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস, সড়কে মাটি বা পাথর পড়ে যান চলাচল বন্ধ হওয়া এবং দুর্গম এলাকায় পর্যটকদের আটকে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এ কারণে বর্ষা মৌসুমে সাজেকসহ পার্বত্য অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাস নয়, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনাও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনে পাহাড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতেও বলা হয়েছে।
বিশেষ করে কোনো স্থানীয় গাইড, পরিবহনচালক বা অন্য কেউ বিকল্প পথে সাজেকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় এমন ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এবং সড়ক যোগাযোগের অবস্থা পর্যালোচনা করে জেলা প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।
তাই সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকা পর্যটকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনানুষ্ঠানিক তথ্যের পরিবর্তে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে আবারও পর্যটকদের জন্য সাজেক ভ্যালি খুলে দেওয়া হবে।
সূত্র: রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি
মন্তব্য করুন