aviation
প্রকাশিত: 3 October 2026, 11:06:13 Am
অনলাইন সংস্করণ

সক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ বেশি যাত্রী সামলাচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দর

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

বার্ষিক ৮০ লাখ যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২৫ সালে সেবা দিয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রীকে। অর্থাৎ ঘোষিত বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৫৯ শতাংশ বেশি passenger traffic সামলেছে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমান বার্ষিক passenger handling capacity ৮ মিলিয়ন বা ৮০ লাখ উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১২.৭২ মিলিয়ন যাত্রী শাহজালাল ব্যবহার করেছেন।

২০২৪ সালে বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছিলেন প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ যাত্রী। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ। অর্থাৎ তিন বছর ধরেই দেশের প্রধান aviation gateway-তে যাত্রী চলাচলের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

সক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৪৭ লাখ বেশি যাত্রী

বর্তমান ৮০ লাখের nominal annual capacity-এর সঙ্গে ২০২৫ সালের যাত্রীসংখ্যা তুলনা করলে অতিরিক্ত চাপের মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়।

২০২৫ সালে শাহজালাল দিয়ে চলাচল করেছেন প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রী। অর্থাৎ বর্তমান সক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৪৭ লাখ ২০ হাজার বেশি যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছেন।

শতাংশের হিসাবে এটি ঘোষিত সক্ষমতার প্রায় ৫৯ শতাংশ বেশি।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ৮০ লাখের বেশি যাত্রী হলেই বিমানবন্দর পরিচালনা করা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব। Airport capacity সাধারণত terminal processing, passenger flow এবং সংশ্লিষ্ট infrastructure-এর পরিকল্পিত সক্ষমতার একটি সূচক।

বাস্তবে এর বেশি traffic সামলানো সম্ভব হলেও peak hour-এ check-in, immigration, security, baggage claim এবং অন্যান্য passenger processing point-এ congestion ও service pressure বাড়তে পারে।

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক যাত্রীই ১ কোটির বেশি

২০২৫ সালের মোট ১২.৭২ মিলিয়ন যাত্রীর মধ্যে প্রায় ১০.৩১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৩ লাখের বেশি ছিলেন আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রী।

অন্যদিকে domestic passenger ছিলেন প্রায় ২.৪১ মিলিয়ন বা ২৪ লাখের বেশি।

অর্থাৎ শাহজালালের মোট passenger movement-এর বড় অংশই আন্তর্জাতিক।

এ কারণে immigration, customs, international baggage handling এবং international security processing-এর মতো ব্যবস্থাগুলোর ওপর তুলনামূলক বেশি চাপ পড়ে।

২০২৫ সালে মোট যাত্রীসংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার বা ১.৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রকাশিত বিমানবন্দর তথ্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির প্রধান চালক ছিল আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল।

২০২৩ থেকে টানা বাড়ছে যাত্রী

শাহজালালের সাম্প্রতিক passenger traffic দেখলে বৃদ্ধির ধারাটি স্পষ্ট।

২০২৩ সালে বিমানবন্দরটি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ যাত্রী চলাচল করেছিলেন। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখে। আর ২০২৫ সালে যাত্রীসংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজারে।

অর্থাৎ বিদ্যমান terminal infrastructure-এর ওপর কয়েক বছর ধরেই পরিকল্পিত সক্ষমতার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি passenger load রয়েছে।

শাহজালালের সরকারি ওয়েবসাইটেও বর্তমানে বছরে ১২.৫ মিলিয়নের বেশি যাত্রী এবং এক লাখের বেশি flight movement-এর পরিসংখ্যান দেখানো হচ্ছে, যদিও একই ওয়েবসাইটে বার্ষিক passenger handling capacity ৮ মিলিয়ন উল্লেখ রয়েছে।

অতিরিক্ত যাত্রী কোথায় চাপ তৈরি করে

Airport capacity শুধু terminal building-এর আয়তন দিয়ে নির্ধারিত হয় না।

একজন আন্তর্জাতিক যাত্রী বিমানবন্দরে প্রবেশের পর check-in, baggage drop, security screening, immigration এবং boarding-এর মতো একাধিক ধাপ অতিক্রম করেন।

Arrival passenger-এর ক্ষেত্রেও immigration, baggage reclaim, customs এবং terminal exit-এর আলাদা processing chain রয়েছে।

ফলে যাত্রীসংখ্যা পরিকল্পিত সক্ষমতার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে প্রতিটি processing point-এ অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে একই সময়ে কয়েকটি wide-body international flight-এর departure বা arrival হলে peak-hour congestion আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

হজ-ওমরা ও ঈদে চাপ আরও বেশি

শাহজালালে সারা বছর passenger flow একই থাকে না।

হজ ও ওমরা মৌসুম, ঈদ, বছরের শেষভাগ এবং বিভিন্ন holiday period-এ নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

এ ধরনের peak period-এ শুধু terminal passenger flow নয়, check-in counter, immigration desk, security screening, baggage handling, trolley, parking এবং airport access road-এর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

ফলে annual passenger capacity-এর পাশাপাশি একটি বিমানবন্দরের peak-hour handling capacity-ও যাত্রী অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বেশি যাত্রী সামলানো মানেই শুধু টার্মিনালের চাপ নয়

Passenger growth-এর সঙ্গে airside operation-এর সম্পর্কও রয়েছে।

ফ্লাইট বাড়লে aircraft parking stand, apron, taxiway, ground handling equipment এবং baggage operation-এর চাহিদাও বাড়ে।

একই সঙ্গে immigration, aviation security, airline staff, ground handler, customs, airport operation এবং অন্যান্য stakeholder-এর পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন হয়।

তাই ৮০ লাখের জন্য পরিকল্পিত infrastructure-এ ১ কোটি ২৭ লাখের বেশি passenger movement পরিচালনার বিষয়টি শুধু terminal crowd management-এর সমস্যা নয়; এটি পুরো airport ecosystem-এর ওপর অতিরিক্ত operational demand তৈরি করে।

তৃতীয় টার্মিনাল বদলে দিতে পারে সক্ষমতার চিত্র

এই বাড়তি চাপ মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত পরিবর্তন হবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়া।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি operational হলে পুরোনো টার্মিনালসহ শাহজালালের মোট বার্ষিক passenger handling capacity ২৪ মিলিয়ন বা ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা।

তৃতীয় টার্মিনালে রয়েছে ১১৫টি check-in counter, ৬৬টি departure immigration desk, ৫৯টি arrival immigration desk এবং তিনটি VIP immigration desk।

নতুন apron ও taxiway infrastructure-ও বিমানবন্দরের aircraft handling capacity বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

২০২৫-এর যাত্রী দিয়েও থাকবে বড় সক্ষমতার余裕

তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পর যদি মোট annual capacity ২৪ মিলিয়নে পৌঁছায়, তাহলে ২০২৫ সালের ১২.৭২ মিলিয়ন passenger traffic-এর তুলনায় প্রায় ১১.২৮ মিলিয়ন অতিরিক্ত বার্ষিক সক্ষমতা তৈরি হবে।

অর্থাৎ ২০২৫ সালের traffic level ধরে হিসাব করলে নতুন মোট সক্ষমতার প্রায় ৫৩ শতাংশ ব্যবহৃত হবে।

এই অতিরিক্ত capacity ভবিষ্যতের passenger growth সামলানোর পাশাপাশি বর্তমান টার্মিনালগুলোর congestion কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে terminal capacity বৃদ্ধি পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব service bottleneck দূর হবে না।

পর্যাপ্ত manpower, immigration processing, security screening, baggage handling, ground handling, airport access এবং কার্যকর operational management-ও একই সঙ্গে প্রয়োজন হবে।

২৪ মিলিয়ন নাকি ২০ মিলিয়ন—সরকারি তথ্যে পার্থক্য

তৃতীয় টার্মিনালের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশিত সরকারি তথ্যের মধ্যেও একটি পার্থক্য রয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের পুরোনো ‘Future Expansion’ তথ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সম্পন্ন হলে passenger handling capacity ৮ মিলিয়ন থেকে ২০ মিলিয়নে উন্নীত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বেবিচকের একটি পুরোনো প্রকাশনাতেও একই সংখ্যা রয়েছে।

তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত সরকারি ও সাম্প্রতিক CAAB-সংশ্লিষ্ট তথ্যে পূর্ণাঙ্গ operation-এর পর পুরোনো টার্মিনালসহ মোট সক্ষমতা ২৪ মিলিয়ন বলা হচ্ছে।

তাই বর্তমান পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ২৪ মিলিয়ন সংখ্যাটি বেশি সাম্প্রতিক তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তৃতীয় টার্মিনাল এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি

তৃতীয় টার্মিনালের অবকাঠামো প্রায় সম্পন্ন হলেও এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ commercial passenger operation-এ যায়নি।

২০২৬ সালের এপ্রিলে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, কর্তৃপক্ষ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ লক্ষ্য ধরে টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। তবে test run, operating arrangement এবং অন্যান্য প্রস্তুতির কারণে পূর্ণাঙ্গ operation ধাপে ধাপে হতে পারে।

ফলে ২৪ মিলিয়ন passenger capacity-কে বর্তমানে উপলব্ধ সক্ষমতা হিসেবে গণনা করা যাবে না। তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে operational হওয়ার পরই সেই বাড়তি সক্ষমতা বাস্তবে যাত্রীসেবায় যুক্ত হবে।

চাপের মধ্যেই সচল দেশের প্রধান বিমান প্রবেশদ্বার

বর্তমান পরিসংখ্যান একদিকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ক্রমবর্ধমান চাহিদার চিত্র তুলে ধরছে, অন্যদিকে শাহজালালের বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর তৈরি হওয়া চাপও স্পষ্ট করছে।

৮০ লাখের ঘোষিত বার্ষিক সক্ষমতার বিপরীতে ২০২৫ সালে ১ কোটি ২৭ লাখের বেশি যাত্রী সামলানো মানে বিমানবন্দরটি তার nominal capacity-এর প্রায় ১.৫৯ গুণ passenger traffic পরিচালনা করেছে।

এই অতিরিক্ত traffic সামলাতে বেবিচক, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, immigration, customs, aviation security, airlines, ground handling এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার জনবলকে প্রতিদিন সমন্বিতভাবে কাজ করতে হচ্ছে।

তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এই চাপ কমানোর জন্য বড় ধরনের নতুন অবকাঠামোগত সক্ষমতা তৈরি হবে। তবে আধুনিক terminal building-এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তি এবং কার্যকর airport operation নিশ্চিত করা গেলে তবেই সেই সক্ষমতার পুরো সুবিধা যাত্রীরা পাবেন।

সূত্র: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিমানবন্দর পরিসংখ্যান ও বেবিচক-সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত তথ্য

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে এক্সিকিউটিভ পদে চাকরির সুযোগ, আবেদন শ

1

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে প্রথম বোর্ডিং ব্রিজ ব

2

ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব ইন্দোনেশিয়ার, সৌদ

3

বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের মধ্যে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি সই

4

কম্বোডিয়ার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফ

5

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে নিয়োগ, বেতন ৩৫ হাজার টাকা

6

বৈধ মার্কিন ভিসা থাকলেও প্রবেশ নিশ্চিত নয়, সতর্ক করল ঢাকাস্থ

7

৮ আগস্ট থেকে কলম্বো রুটে দ্বিতীয় এ৩৫০ ফ্লাইট চালু করছে এমির

8

আগুনের ঘটনার পর শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জ বন্ধ

9

শাহজালালে বড় অভিযান, ৩৪ লাখ টাকার সিগারেট-গৌরী ক্রিম ও বিদেশ

10

সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে প্রথমবারের মতো আইএলএস রক্ষণাবেক্ষণ প

11

রিয়াদের পরিবর্তে রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো দাম্মামে পরিচালনা করছে

12

বেবিচকে বড় নিয়োগের সম্ভাবনা, আসতে পারে প্রায় ৯০০ পদের সার্কু

13

বেবিচকের নিয়োগে একাধিক পদে আবেদন করা যাবে না, ১৬ আগস্টের আগে

14

শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ নজরদারিতে বসছে ৩০টি এআই ক্যামেরা

15

মামলায় চার্জশিট না হলে পদোন্নতিতে আইনি বাধা নেই: বেবিচক কর্ম

16

শাহ আমানতে দুবাইফেরত যাত্রীর কাছ থেকে ১৫০০ গ্রাম স্বর্ণের পে

17

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে আই

18

হজযাত্রীদের উন্নত ও সুষ্ঠু সেবা প্রদানে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থা

19

আইএটিএর সঙ্গে বিমান ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন, টিকিট সিন্ডিকেট দ

20