২০২৬ সালের হজ মৌসুমের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বশেষ হজ ফ্লাইট ১ জুলাই আসার কথা রয়েছে। আর চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বশেষ ফিরতি হজ ফ্লাইট পৌঁছানোর কথা ৩০ জুন।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, এবারের হজ ফ্লাইট পরিচালনায় যাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাত্রা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা কার্যক্রম, লাগেজ হ্যান্ডলিং এবং বিশেষ সহায়তাপ্রয়োজনীয় যাত্রীদের সেবায় সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে হজযাত্রীদের বিমানবন্দরকেন্দ্রিক প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।
হজযাত্রীদের ফিরতি কার্যক্রমের শেষ ধাপে দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক দিনে শেষ ফ্লাইট আসছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর — ১ জুলাই ২০২৬
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর — ৩০ জুন ২০২৬
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর — ৩০ জুন ২০২৬
এর মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের দেশে ফেরানোর নির্ধারিত ফ্লাইট কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে আবহাওয়া, অপারেশনাল প্রয়োজন বা এয়ারলাইনের সূচিতে পরিবর্তন হলে ফ্লাইটের সময় পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রী ও স্বজনদের তাই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সর্বশেষ ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করা প্রয়োজন।
হজ ফ্লাইট সাধারণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের তুলনায় বিশেষ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল এবং অনেক বয়স্ক যাত্রীর উপস্থিতির কারণে বিমানবন্দরের বিভিন্ন সেবার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, হজ ফ্লাইট পরিচালনার পুরো সময়ে দ্রুত ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা কার্যক্রম, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং বিশেষ সহায়তাপ্রয়োজনীয় যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশেষ করে ফিরতি হজ ফ্লাইটে যাত্রীদের ব্যাগেজ দ্রুত সরবরাহ ও আগমন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। একটি পর্যায়ে বিলম্ব হলে ইমিগ্রেশন থেকে ব্যাগেজ বেল্ট পর্যন্ত পুরো আগমন ব্যবস্থায় যাত্রীচাপ তৈরি হতে পারে।
হজযাত্রীদের একটি অংশ বয়স্ক হওয়ায় তাদের জন্য বিমানবন্দরে হুইলচেয়ার, চলাচলে সহায়তা এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মতো সেবার গুরুত্ব তুলনামূলক বেশি।
দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর বিমানবন্দরে অতিরিক্ত অপেক্ষা বয়স্ক যাত্রীদের জন্য কষ্টকর হতে পারে। ফলে হজ ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় শুধু উড়োজাহাজের আগমন-প্রস্থান নয়, টার্মিনালের ভেতরে যাত্রী প্রবাহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনাও গুরুত্বপূর্ণ।
বেবিচক জানিয়েছে, এবারের হজ কার্যক্রমে কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি এভিয়েশন সিকিউরিটি, এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস, বিমানবন্দর পরিচালনা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
একটি হজ ফ্লাইট নিরাপদে পরিচালনার সঙ্গে শুধু এয়ারলাইন যুক্ত থাকে না। উড়োজাহাজের অবতরণ ও পার্কিং থেকে শুরু করে যাত্রী নামানো, ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা, ব্যাগেজ সরবরাহ এবং বিমানবন্দর থেকে যাত্রীর বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের সমন্বয় প্রয়োজন হয়।
ফলে বড় পরিসরের হজ অপারেশনে একটি সংস্থার দক্ষতার পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ই যাত্রী অভিজ্ঞতায় বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
হজ মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে সৌদি আরবে নেওয়া এবং হজ শেষে আবার দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন হয়। এ কারণে সাধারণ আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনকে বাড়তি যাত্রীচাপ সামলাতে হয়।
বিশেষ করে একই সময়ে একাধিক হজ ফ্লাইট থাকলে check-in, immigration, security screening, boarding, baggage handling এবং ground handling কার্যক্রমে অতিরিক্ত সক্ষমতার প্রয়োজন হতে পারে।
সুষ্ঠু slot management এবং air traffic coordination-ও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হজ ফ্লাইটের জন্য অন্যান্য নিয়মিত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হয়।
শেষ কয়েকটি ফিরতি ফ্লাইট সামনে রেখে যাত্রীদের নিতে বিমানবন্দরে যাওয়া স্বজনদের ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের পাশাপাশি বাস্তব আগমনের সময় বা flight status দেখে রওনা হওয়া ভালো।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের পর যাত্রীদের ইমিগ্রেশন, ব্যাগেজ সংগ্রহ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করে টার্মিনাল থেকে বের হতে সময় লাগে। ফলে উড়োজাহাজ অবতরণের সময় এবং যাত্রীর বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় এক নয়।
ফ্লাইট বিলম্বিত হলে অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা এড়াতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের আনুষ্ঠানিক তথ্য বা বিমানবন্দরের ফ্লাইট তথ্য অনুসরণ করা কার্যকর।
বেবিচক এবারের ব্যবস্থাপনাকে পরিকল্পিত ও সমন্বিত কার্যক্রমের ফল হিসেবে দেখছে এবং ভবিষ্যতেও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছে।
হজ মৌসুমে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিচালনার অভিজ্ঞতা শুধু হজ ফ্লাইটেই নয়, ভবিষ্যতে ঈদ, ছুটির মৌসুম বা অন্যান্য সময়ে বিমানবন্দরের বাড়তি যাত্রীচাপ ব্যবস্থাপনাতেও কাজে লাগতে পারে।
বিশেষ করে দ্রুত যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ, কার্যকর ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, বিশেষ সহায়তাপ্রয়োজনীয় যাত্রীসেবা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে রিয়েল-টাইম সমন্বয় নিয়মিত যাত্রীসেবায় কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে সামগ্রিক বিমানবন্দর অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
১ জুলাই ঢাকায় সর্বশেষ ফিরতি ফ্লাইট পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)
মন্তব্য করুন