aviation
প্রকাশিত: 15 October 2026, 10:11:53 Am
অনলাইন সংস্করণ

ডিসেম্বরে চালুর লক্ষ্যে থার্ড টার্মিনালের প্রস্তুতি জোরদার, স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলছে

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বাণিজ্যিকভাবে চালুর লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নতুন টার্মিনালের পরিচালনাগত প্রস্তুতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের কাস্টমস কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ২০টি স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে ১৬টি ব্যাগেজ এক্স-রে স্ক্যানার এবং চারটি কার্গো স্ক্যানার।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, থার্ড টার্মিনালের অপারেশনাল প্রস্তুতির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকায় টার্মিনাল চালুর আগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তুতি সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

ব্যাগেজ ও কার্গো পরীক্ষায় ২০টি স্ক্যানিং মেশিন

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনালে কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট ২০টি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে যাত্রীদের ব্যাগেজ পরীক্ষার জন্য ১৬টি এক্স-রে স্ক্যানার এবং পণ্য পরীক্ষার জন্য চারটি কার্গো স্ক্যানার সংগ্রহ করা হবে।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাগেজ ও কার্গো স্ক্যানিং ব্যবস্থা কাস্টমস কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ব্যাগেজ ও পণ্যের ভেতরের সামগ্রী পরীক্ষা করা যায়, যা নিষিদ্ধ বা ঘোষণা না করা পণ্য শনাক্তকরণ এবং শুল্কসংক্রান্ত বিধিবিধান বাস্তবায়নে সহায়ক।

নতুন টার্মিনালে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের কার্যক্রম শুরু হলে কাস্টমস বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ব্যাগেজ পরীক্ষা এবং কার্গো ছাড়করণ কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।

দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মতামত নেওয়া হচ্ছে

এনবিআরের উদ্যোগে স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) মতামত নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় দরপত্রের শর্ত, কারিগরি সক্ষমতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল স্থাপনার জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহের ক্ষেত্রে শুধু ক্রয় সম্পন্ন করাই নয়, প্রয়োজনীয় মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

তবে স্ক্যানিং মেশিনগুলোর ক্রয়মূল্য, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং সরবরাহ ও স্থাপনের নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

নির্ধারিত সময়ে প্রস্তুতি শেষ করতে সমন্বিত উদ্যোগ

বেবিচকের সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, স্ক্যানিং মেশিন তৃতীয় টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতিতে বিমানবন্দর পরিচালনা, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস কার্যক্রমের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। এসব কার্যক্রমের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে নতুন টার্মিনালে যাত্রী পরিচালনা শুরু করার পথ আরও সুগম হবে।

স্ক্যানার সংগ্রহের পরও প্রয়োজন স্থাপন ও কার্যকারিতা পরীক্ষা

স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগ নতুন টার্মিনালের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে যন্ত্রপাতি কেনার পর সেগুলো নির্ধারিত স্থানে স্থাপন, প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরিচালনাগত প্রস্তুতিও নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যাগেজ ও কার্গো স্ক্যানিং কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত না হলে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় বিলম্বের আশঙ্কা থাকে। তাই টার্মিনাল চালুর আগেই এসব ব্যবস্থা কার্যকর অবস্থায় নিয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপনের সময়সূচি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

১৬ ডিসেম্বর চালুর লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের অন্যতম বৃহৎ বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এটি চালু হলে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা এবং বিমানবন্দর পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলেও এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহ, স্থাপন ও প্রয়োজনীয় পরিচালনাগত প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে ১৬ ডিসেম্বরকে আপাতত লক্ষ্যমাত্রা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত সময়সূচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র: বেবিচক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সরবরাহ করা তথ্য।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তীব্র ঝড়ো আবহাওয়ায় তিউনিসিয়ায় নামতে পারেনি Turkish Airlines-

1

মান্দালয়ের বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, বন্ধ সব ফ্লাইট

2

আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে উঠছে কক্সবাজার বিমান

3

যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবতরণের পর সি-প্লেনে আগুন, ১১ আরোহীকে জী

4

খালেদা জিয়ার হাত ধরে যাত্রা, তিন দশকেও চালু হয়নি খানজাহান আল

5

US-Bangla Airlines ৬০ দিনের মধ্যে ৪–৫ বিলিয়ন ডলারের লিজ উড়োজ

6

৩০ লাখ ইউরো বকেয়া ঋণের অভিযোগে ইস্তাম্বুলে কাসপিয়ান এয়ারলাইন

7

ভারতকে বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ ক

8

যশোর বিমানবন্দরে চালু হলো প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র

9

বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এয়ারলাইন্সগুলোর তালিকায় এমিরেটস

10

অনুমোদনহীন ড্রোনে বিমান চলাচলে ঝুঁকি, বিশ্বের বহু বিমানবন্দর

11

আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায়

12

এই সপ্তাহেই বেবিচকের বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রায় ৯০০ পদে আবেদন

13

ওভারটাইমে অনিয়মের অভিযোগ, বিমানের হ্যাঙ্গারে মাসে দেড় কোটি

14

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, কারণ অনুসন্ধানে তদন

15

বোয়িং ৭৪৭ থেকে ফ্লাইট বন্ধ: যেভাবে হারিয়ে গেল দেশের প্রথম বে

16

বিমানের বহরে আসছে ২৫ নতুন বোয়িং, অর্ডারে ১৫ ড্রিমলাইনার ও ১০

17

এক যুগের আকাশযাত্রা: ইউএস-বাংলার নিরাপদ সেবা ও বহর সম্প্রসার

18

‘লাগেজের জন্য যাত্রী নয়, যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করবে লাগেজ’: ই

19

জেদ্দায় বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা: রিয়াদ যাত্রীদ

20