এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৩৯৭ দশমিক ৭ গ্রাম বা প্রায় ৩৬ ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণালংকার, আটটি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপসহ তিনজনকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। পরে তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। সর্বশেষ আদালত তিন আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন রাবিয়া বেগম (৪৮), আকাশ আহমেদ (৩৫) ও মো. জলিল (৪৬)। এপিবিএনের দাবি, উদ্ধার করা পণ্যগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অজ্ঞাত যাত্রীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
এপিবিএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিংয়ের নিচতলায় ওই তিনজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে এপিবিএন সদস্যরা তাদের আটক করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজত থেকে স্বর্ণালংকারসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সময় নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। মামলার এজাহারভিত্তিক পরবর্তী প্রতিবেদনে সময় দুপুর ২টা ৫০ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে; অন্যদিকে কয়েকটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে রাত ২টা ৫০ মিনিটের কথা বলা হয়েছিল।
এপিবিএনের হিসাবে, তিনজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৩৯৭ দশমিক ৭ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণালংকার, যা প্রায় ৩৬ ভরির সমপরিমাণ।
এর পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়—
আটটি মোবাইল ফোন
তিনটি ল্যাপটপ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়ার পর এসব পণ্য জব্দ করা হয়।
এপিবিএনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অজ্ঞাত যাত্রীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল।
এপিবিএন আরও দাবি করেছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তবে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযোগ; তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে বিষয়টিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
উদ্ধার করা পণ্য কারা বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছিলেন, কোথা থেকে এগুলো আনা হয়েছিল এবং বাংলাদেশে কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ঘটনার পর তিনজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়। মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরদিন তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রথমে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে এর শুনানির জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
সর্বশেষ ২৭ সেপ্টেম্বর রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তিন আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ফলে মামলাটি এখন তদন্তাধীন। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে উদ্ধার করা স্বর্ণ ও ইলেকট্রনিক পণ্যের উৎস, সম্ভাব্য সরবরাহকারী ও গ্রহণকারী এবং এর সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না—এসব তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে তদন্তকারীদের।
বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু বিদেশ থেকে পণ্য বহনকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়। কোনো সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক থাকলে বিমানবন্দরে বা বাইরে পণ্য গ্রহণকারী, অর্থায়নকারী এবং পরবর্তী পর্যায়ে তা সরবরাহকারীদের ভূমিকাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমান ঘটনায় এপিবিএনের বক্তব্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা পণ্য অজ্ঞাত যাত্রীদের মাধ্যমে দেশে এসেছে। এই দাবি যাচাই করা গেলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের পরিচয় এবং বিমানবন্দর থেকে পণ্য হস্তান্তরের সম্ভাব্য প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী, লাগেজ ও পণ্য পর্যবেক্ষণে Customs, Aviation Security, APBN এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম তাই গুরুত্বপূর্ণ।
এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (অপারেশন্স) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন জানিয়েছেন, বিমানবন্দর এলাকায় অপরাধ ও চোরাচালান প্রতিরোধে এপিবিএনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ করে স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের মতো অপরাধ ঠেকাতে বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান ঘটনায় তিনজনকে আটক ও পণ্য জব্দ করা হলেও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনো বাকি। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক পণ্যের প্রকৃত উৎস, মালিকানা এবং সম্ভাব্য গন্তব্য নির্ধারণের পাশাপাশি এর পেছনে বৃহত্তর কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
সূত্র: এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)
মন্তব্য করুন