
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দুবাই থেকে ফিলিপাইনে ফেরার পর বিমানবন্দরেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এক পুরুষ যাত্রী। সাইবার মানহানির অভিযোগে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে আটক করে দেশটির পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ম্যানিলার নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (NAIA) টার্মিনাল-৩ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশের এভিয়েশন সিকিউরিটি গ্রুপ (PNP AVSEGROUP) এবং পাঙ্গাসিনান প্রদেশের বাসিস্তা মিউনিসিপ্যাল পুলিশ স্টেশনের যৌথ অভিযানে এ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুবাই থেকে আসা ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ আইনের আওতায় একটি মামলা রয়েছে। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতেই বিমানবন্দরে অভিযান চালানো হয়।
পাঙ্গাসিনান পুলিশ প্রাদেশিক অফিসের অধীন বাসিস্তা মিউনিসিপ্যাল পুলিশ স্টেশন এবং বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত এভিয়েশন সিকিউরিটি পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুলিশ স্টেশন-৩-এর সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
পুলিশ জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। বিমানবন্দরে তাঁর আগমনের পর আইন অনুযায়ী পরোয়ানাটি কার্যকর করা হয়।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।
গ্রেপ্তার হওয়া যাত্রীর বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ আইন বা Cybercrime Prevention Act of 2012-এর ৪(সি)(৪) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই ধারায় কম্পিউটার সিস্টেম বা অনুরূপ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত মানহানিকে সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ফিলিপাইনের সংশোধিত দণ্ডবিধির মানহানিসংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সমন্বয় করে সাইবার মানহানির বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও গ্রেপ্তারের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশের এভিয়েশন সিকিউরিটি গ্রুপের পরিচালক পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডিওনিসিও বার্তোলোমে জুনিয়র অভিযানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ ইউনিটগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় পলাতক আসামিদের শনাক্ত এবং আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার সক্ষমতা বাড়ায়।
তাঁর মতে, বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত কার্যক্রম এ ধরনের অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির জন্য ৬০ হাজার ফিলিপাইন পেসো জামিনের পরিমাণ সুপারিশ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য তাঁকে বাসিস্তা মিউনিসিপ্যাল পুলিশ স্টেশনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
সূত্র: ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশ এভিয়েশন সিকিউরিটি গ্রুপের বরাতে প্রকাশিত তথ্য।