
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
একটি Dash 8-Q400 উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা-যশোর রুটে যাত্রা শুরু। এরপর ধাপে ধাপে দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথ ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ। এই পথ পেরিয়ে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান চলাচল খাতে ১২ বছর পূর্ণ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
২০১৪ সালের ১৭ জুলাই বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করা এয়ারলাইনটি বর্তমানে ২৫টি উড়োজাহাজের বহর নিয়ে দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি বিমান সংস্থায় পরিণত হয়েছে। ১২ বছর পূর্ণ করে প্রতিষ্ঠানটি এখন ১৩তম বছরে পদার্পণ করেছে।
তবে ইউএস-বাংলার সামনে এখন আরও বড় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা। ২০২৭ সালের মধ্যে ২১টি Boeing উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দূরপাল্লার বাজারে প্রবেশের লক্ষ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউএস-বাংলার প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালিত হয় ১৭ জুলাই ২০১৪ ঢাকা-যশোর রুটে। তখন বহরে ছিল Dash 8-Q400 উড়োজাহাজ।
এর প্রায় দুই বছর পর, ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকা-কাঠমান্ডু ফ্লাইটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করে এয়ারলাইনটি। এরপর পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়।
বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর ও রাজশাহীতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।
আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে রয়েছে কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজু। ১২ বছর পূর্তির সময় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২০টি গন্তব্যে সেবা পরিচালনার কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
একটি Dash 8-Q400 দিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলার বহর ১২ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।
এর মধ্যে রয়েছে তিনটি Airbus A330-300 এবং নয়টি Boeing 737-800; বহরের বাকি অংশে ATR 72-600 turboprop উড়োজাহাজ রয়েছে।
এই fleet mix-এর পেছনে operational প্রয়োজনও রয়েছে।
ATR-এর মতো turboprop aircraft স্বল্প দূরত্বের domestic ও regional route-এ ব্যবহার উপযোগী। Boeing 737-800-এর মতো narrow-body jet মধ্যম দূরত্বের international route-এ ব্যবহৃত হতে পারে। অন্যদিকে Airbus A330-300 wide-body হওয়ায় বেশি যাত্রী নিয়ে তুলনামূলক দীর্ঘ international sector পরিচালনার সক্ষমতা দেয়।
ফলে একই airline-এর বহরে ভিন্ন ধরনের aircraft থাকা route distance, passenger demand এবং operational requirement অনুযায়ী capacity ব্যবহারের সুযোগ দেয়।
একটি commercial flight শুধু pilot ও cabin crew দিয়ে পরিচালিত হয় না।
প্রতিটি উড়োজাহাজ আকাশে ওঠার আগে flight operations, engineering and maintenance, ground handling, dispatch, security coordination, customer service, catering, baggage handling এবং অন্যান্য বিভাগের সমন্বিত কাজ প্রয়োজন হয়।
ইউএস-বাংলার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪ হাজার কর্মী রয়েছেন।
এয়ারলাইনটি দেশে ও বিদেশে ৪০টির বেশি sales office পরিচালনা করছে। পাশাপাশি online ticketing এবং frequent-flyer programme-ও রয়েছে।
১২ বছর পূর্তির পরপরই ইউএস-বাংলা তার ইতিহাসের অন্যতম বড় fleet expansion programme সামনে আনে।
২৯ জুলাই ঢাকায় আয়োজিত ‘Beyond with Boeing’ অনুষ্ঠানে ২১টি Boeing উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
এর মধ্যে থাকবে—
উড়োজাহাজগুলো ধাপে ধাপে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এগুলো leasing arrangement-এর মাধ্যমে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা।
এটি বাস্তবায়িত হলে ইউএস-বাংলার fleet capacity উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তবে ২১টি aircraft যুক্ত হওয়ার অর্থ বর্তমান ২৫টির সঙ্গে সরাসরি যোগ করে ভবিষ্যৎ fleet size ৪৬টি হবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ এর মধ্যে পুরোনো aircraft-এর lease expiry, retirement, return বা fleet restructuring হতে পারে।
নতুন aircraft induction-এর সঙ্গে route expansion-ও যুক্ত।
এয়ারলাইনটি বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ, কলম্বো, কাঠমান্ডু, কুনমিং, শেনঝেন ও বেইজিং, জোহর বাহরু ও পেনাং, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের গন্তব্য, কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম এবং সালালাহসহ নতুন বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা জানিয়েছে।
তবে কোনো airline-এর পরিকল্পনায় একটি destination থাকা এবং সেখানে commercial flight শুরু হওয়া এক বিষয় নয়।
নতুন আন্তর্জাতিক route চালু করতে bilateral traffic rights, airport slot, regulatory approval, commercial viability এবং operational readiness-সহ বিভিন্ন বিষয় প্রয়োজন হয়।
ফলে এসব destination-কে বর্তমানে পরিকল্পিত বা লক্ষ্যভুক্ত গন্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে international network ২০টি দেশে ৩০টি গন্তব্যে সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে airlineটির network বর্তমান regional ও medium-haul operation থেকে আরও বড় international footprint-এর দিকে এগোবে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের airline market-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইনে বসবাস ও কর্মরত থাকায় এসব রুটে migrant-worker ও visiting-friends-and-relatives traffic-এর বড় বাজার রয়েছে।
ইউএস-বাংলার long-term roadmap আরও বড়।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালের মধ্যে লন্ডন ও রোমে এবং পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্ক, টরন্টো ও সিডনিতে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য জানিয়েছে।
এসব destination চালু করতে বর্তমান narrow-body fleet-এর বাইরে long-haul aircraft strategy, traffic rights, regulatory approval এবং commercial planning গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিশেষ করে North America route চালুর ক্ষেত্রে শুধু aircraft থাকাই যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট দেশের regulatory requirements এবং বাংলাদেশের aviation oversight framework-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন শর্তও পূরণ করতে হবে।
তাই এগুলোকে নিশ্চিত route launch না বলে দীর্ঘমেয়াদি expansion target হিসেবে দেখা যথাযথ।
২১টি নতুন aircraft induction শুধু fleet expansion নয়; এর সঙ্গে বড় manpower requirement-ও তৈরি হবে।
নতুন aircraft-এর জন্য pilot, cabin crew, aircraft engineer, technician, flight dispatcher, ground operations personnel এবং অন্যান্য support workforce প্রয়োজন হবে।
ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, প্রায় ২০০ বাংলাদেশি pilot-কে যুক্তরাষ্ট্রে advanced training-এর জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ধরনের fleet expansion বাংলাদেশের aviation employment market-এও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ একটি নতুন aircraft commercial operation-এ আনতে cockpit crew-এর পাশাপাশি maintenance, cabin service এবং ground operation-এও অতিরিক্ত জনবল প্রয়োজন হয়।
এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা শুধু fleet size দিয়ে বিচার করা যায় না।
Fleet utilisation, aircraft reliability, maintenance quality, crew training, on-time performance, passenger service এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে safety management—সবকিছু মিলিয়েই একটি airline-এর operational performance তৈরি হয়।
ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের on-time performance ৯০ শতাংশের বেশি। এটি airlineটির নিজস্ব প্রকাশিত performance claim।
ভবিষ্যতে fleet ও network দ্রুত বাড়লে একই operational standard ধরে রাখাই হবে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক passenger market-এর বড় অংশ বর্তমানে foreign carrier-রা পরিবহন করে থাকে।
ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুলাইয়ে দাবি করেন, বাংলাদেশি carrier-গুলোর হাতে international passenger market-এর তুলনামূলক ছোট অংশ রয়েছে। এ কারণে দেশীয় airline-এর international network বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে international market share বাড়াতে শুধু aircraft সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়।
Competitive airfare, convenient schedule, connecting network, reliable operation, passenger experience এবং sustainable route economics—সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ২১টি aircraft এবং পরিকল্পিত route expansion সেই প্রতিযোগিতায় ইউএস-বাংলাকে অতিরিক্ত capacity দেবে; সেটিকে দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিই হবে পরবর্তী পরীক্ষা।
২০১৪ সালে একটি Dash 8-Q400 দিয়ে ঢাকা-যশোর route-এ শুরু হওয়া যাত্রা ১২ বছর পর ২৫ aircraft এবং বিস্তৃত domestic-international network-এ পৌঁছেছে।
এখন প্রতিষ্ঠানটির সামনে আরও বড় লক্ষ্য—নতুন Boeing fleet, নতুন Asian ও Middle Eastern destination এবং ভবিষ্যতে European ও North American market।
এই সম্প্রসারণ বাস্তবায়নের সঙ্গে safety, skilled manpower, maintenance capability, passenger service এবং operational reliability বজায় রাখার বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে।
কারণ একটি airline-এর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য শুধু কতটি aircraft আছে বা কতটি destination-এ যায় তার ওপর নির্ভর করে না; প্রতিটি flight কতটা নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং টেকসইভাবে পরিচালিত হচ্ছে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
১২ বছরের পথচলা শেষে ইউএস-বাংলার সামনে তাই এখন আরেকটি বড় অধ্যায়—আঞ্চলিক একটি বাংলাদেশি airline থেকে আরও বিস্তৃত international network carrier হয়ে ওঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
সূত্র: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স