
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আগামী ১০ নভেম্বর এই বিমানবন্দরটি উদ্বোধনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে কক্সবাজার হয়ে ঢাকা-মাস্কাট রুটে বিমানের বোয়িং ৭৭৭ দিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি চেয়ে ৩ ও ১০ নভেম্বর প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর শেষে ফেরার সময়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ৩ নভেম্বরের পরিবর্তে ১০ নভেম্বর দিনটিকে প্রাধান্য দিয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার হয়ে ঢাকা-মাস্কাট রুটের ফ্লাইটটি উদ্বোধনী যাত্রা হিসেবে পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-এ-আলম। তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট শিডিউল বিবেচনায় উদ্বোধনের দিনটি মঙ্গলবার নির্ধারণ করা হচ্ছে। কারণ, প্রতি মঙ্গলবার সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে মাস্কাটের ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সম্মতি পাওয়ার পরই তারিখের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ইতিমধ্যে বেবিচককে জানিয়েছে, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে ঢাকা-মাস্কাট ফ্লাইটটি পরিচালনার যাবতীয় প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় পতাকাবাহী বিমানটি এই রুটে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজার ও সংলগ্ন অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক ওমান প্রবাসী কর্মী নিয়মিত এই রুটে যাতায়াত করেন। তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং সরাসরি আকাশপথের সংযোগ দিতেই উদ্বোধনী ফ্লাইট হিসেবে ঢাকা-মাস্কাট রুটটি বেছে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ওমান সিভিল এভিয়েশন থেকেও মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও টার্মিনাল হ্যান্ডলিংসহ উদ্বোধনী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাওয়া গেছে। উদ্বোধনী দিনে ঢাকা-কলকাতা ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাস্কাট রুটটিকেই চূড়ান্ত করা হয়।
প্রসঙ্গত, দেশের পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নতুন দ্বার উন্মোচনে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭,৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের দৃষ্টিনন্দন ঝিনুক আকৃতির ছাদবিশিষ্ট নতুন টার্মিনাল ভবন। সমুদ্রের বুকে ১,৭০০ ফুট ভূমি উদ্ধারের (land reclamation) মাধ্যমে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯,০০০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০,৭০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে।
উন্নত এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রয়েছে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ২টি ব্যাগেজ ক্লেইম বেল্ট, ৪টি এস্কেলেটর, ৬টি লিফট, একটি বোর্ডিং ব্রিজ এবং আধুনিক নিরাপত্তা তল্লাশি ব্যবস্থা। ফলে এখন থেকে রানওয়েতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, বোয়িং ৭৪৭-৪০০ ও এয়ারবাসের মতো বৃহদাকারের আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ অনায়াসেই ওঠানামা করতে পারবে। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিমানের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের মাধ্যমে রানওয়ের সফল ট্রায়াল অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল।