
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও পরিচালনগত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশগামী ও সৌদিগামীসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের মোট ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী।
বিঘ্নিত ১৪১টি ফ্লাইটের মধ্যে ৬৬টি সরাসরি (ডাইরেক্ট) এবং ৭৫টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সংশ্লিষ্ট এভিয়েশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় সাময়িক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে বিমান সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন, ফ্লাইট স্থগিত কিংবা পরিচালনা সীমিত করতে হয়েছে।
ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে চলাচলকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থার ফ্লাইটও এর প্রভাবে পড়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিঘ্ন ঘটেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে। সংস্থাটির ২৭টি ফ্লাইট এই পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত হয়েছে। এরপর সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটে বিঘ্নের পরিসংখ্যান হলো—
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: ২৭টি
সৌদিয়া এয়ারলাইন্স: ১৯টি
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স: ১০টি
রিয়াদ এয়ারওয়েজ: ১০টি
সব মিলিয়ে সরাসরি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে ৬৬টি।
ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ওপর। সংস্থাটির ২৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। এছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালামএয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইট বিঘ্নের তালিকা—
ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স: ২৯টি
এমিরেটস এয়ারলাইন্স: ১৪টি
কাতার এয়ারওয়েজ: ৯টি
ফ্লাইদুবাই: ৮টি
সালামএয়ার: ৭টি
এয়ার ইন্ডিয়া: ৭টি
ইজিপ্টএয়ার: ১টি
এভাবে মোট ৭৫টি ট্রানজিট ফ্লাইট এই পরিস্থিতির কারণে বিঘ্নিত হয়েছে।
ফ্লাইট চলাচলে এই বিঘ্নের কারণে সৌদি আরবে কর্মরত হাজারো প্রবাসী শ্রমিক সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একই সঙ্গে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদেরও ফ্লাইট পরিবর্তন ও বিলম্বের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বিশেষ করে যেসব যাত্রী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের জন্য ফ্লাইট স্থগিত বা সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের নির্ধারিত ফ্লাইটে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ বুকিংয়ের সর্বশেষ অবস্থা এবং ফ্লাইটের সময়সূচি যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অফিস, অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সি বা সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিতে বলা হয়েছে।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় যাত্রীদের পুরোনো ফ্লাইট সূচির ওপর নির্ভর না করে যাত্রার আগে সর্বশেষ আপডেট নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বেবিচক