
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর সৌদি আরবের আকাশসীমায় নিরাপত্তা উদ্বেগ ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বা প্রাইভেট জেটের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর কূটনীতিক, বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে বিকল্প পথে দ্রুত চলাচলের প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
অক্টোবরের শুরুতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবির পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে লুফথানসা, এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোর মতো আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ ও স্থগিতাদেশ জারি করে। বিমানবন্দরটি পরে সীমিত পরিসরে সচল হলেও বাণিজ্যিক ফ্লাইটের নিয়মিত শিডিউল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় জরুরি ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিকল্প এয়ারলিফটের সংকট দেখা দেয়।
এই সুযোগে চার্টার ব্রোকার ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বুকিংয়ের চাপ বহুগুণ বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভাড়ার ওপর। ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়াদাতা প্রতিষ্ঠান লাক্স জেটসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের আল-কাসিম বিমানবন্দর থেকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাগামী ১৪ আসনের একটি বোম্বার্ডিয়ার উড়োজাহাজের ভাড়া এক সপ্তাহে ৬০ হাজার ইউরো থেকে বেড়ে ৯৪ হাজার ইউরো হয়েছে—যা প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি। এছাড়া ইউরোপগামী কিছু দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে ভাড়া দেড় লাখ ডলার পর্যন্ত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো নিকটবর্তী গন্তব্যে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্টদের মতে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনায় যুদ্ধঝুঁকির বাড়তি ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম, প্রত্যন্ত বিমানবন্দর ব্যবহার এবং উড়োজাহাজের সীমিত প্রাপ্যতার কারণেই মূলত এই বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই উচ্চ চাহিদার ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
Source:
লাক্স জেটস (Lux Jets), চার্টার ব্রোকারেজ নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন তথ্য।