
দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক আকাশপথের নতুন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগে সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে। মালয়েশিয়ার পেনাং, নেপালের কাঠমান্ডু, চীনের কুনমিং এবং ব্যাংকক হয়ে দুবাইয়ের সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব রুট চালু হলে দেশের পর্যটন খাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগেও কক্সবাজারের গুরুত্ব বাড়তে পারে।
বর্তমানে বিদেশ ভ্রমণ বা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কক্সবাজারে আসার ক্ষেত্রে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে যুক্ত হলে এ নির্ভরতা কমার পাশাপাশি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজারে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।
আন্তর্জাতিক রুট চালুর সম্ভাবনার মধ্যে মালয়েশিয়ার পেনাং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। কক্সবাজার ও পেনাংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে মালয়েশিয়ার স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইনস এয়ারএশিয়া।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কক্সবাজার–পেনাং সরাসরি বিমান যোগাযোগের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। তবে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর আগে এয়ারলাইনসের বাণিজ্যিক প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
পেনাং রুট চালু হলে মালয়েশিয়া থেকে কক্সবাজারে পর্যটক আসার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্যও মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন ও বাণিজ্যিক শহরে সরাসরি যাওয়ার সুবিধা তৈরি হতে পারে।
কক্সবাজারের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুও। সরকার কক্সবাজার–কাঠমান্ডু–কক্সবাজার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।
গত ১৪ অক্টোবর নেপালের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর পর নেপালের হিমালয়ান এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এই রুট বাস্তবায়িত হলে নেপালের পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে সরাসরি আসার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশি পর্যটকরাও ঢাকা বা অন্য কোনো বিমানবন্দরে ট্রানজিট ছাড়াই নেপালে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের সঙ্গেও কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য এই রুট চালু হলে চীন থেকে কক্সবাজারে পর্যটক আগমন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কুনমিং–কক্সবাজার সরাসরি ফ্লাইট শুধু পর্যটন নয়, দুই অঞ্চলের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চীনের ইউনান অঞ্চল থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কক্সবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।
কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের পরিকল্পনায় ব্যাংকক হয়ে দুবাই রুটও রয়েছে। এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এয়ারলাইনস ফ্লাইদুবাই আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গন্তব্যের সঙ্গেও কক্সবাজারের বিমান যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোকে নতুন রুটে আকৃষ্ট করতে আর্থিক প্রণোদনা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের অন্যতম এই কক্সবাজারে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ হতে পারে। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসা, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় সেবাখাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ দিতে শুধু বিমানবন্দর প্রস্তুত থাকাই যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত, পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা, স্লট ও রুট অনুমোদন, বিমানবন্দর অবকাঠামো এবং নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ফলে কক্সবাজার থেকে পেনাং, কাঠমান্ডু, কুনমিং ও দুবাইয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগের পরিকল্পনা সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত তৈরি করলেও, এসব রুট কবে নিয়মিতভাবে চালু হবে তা নির্ভর করবে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার শুধু দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।