
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দীর্ঘ বিলম্ব ও কারিগরি জটিলতার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রায় ১৬০ জন যাত্রী। তাদের দাবি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা উড়োজাহাজের ভেতরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কার্যকর না থাকায় কেবিনে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করতে না পেরে একপর্যায়ে গেটে ফিরে আসে। তবে এরপরও তিন ঘণ্টার বেশি সময় যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বিলম্বের কারণ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়। কখনো প্রকৌশলী আসতে দেরি হওয়ার কথা জানানো হয়, আবার কখনো প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড স্টাফের ঘাটতির কথা বলা হয়।
পরবর্তী সময়ে এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে উড়োজাহাজে পুনরায় জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। তবে রিফুয়েলিং কার্যক্রম শুরু করতেও বিলম্ব হয় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। শিফট পরিবর্তনের কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের পৌঁছাতে সময় লাগছে বলেও তাদের জানানো হয়। ফলে ফ্লাইটটি কখন ছেড়ে যাবে, সে বিষয়ে দীর্ঘ সময় নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি যাত্রীরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটির রাত ২টা ২০ মিনিটে দুবাই থেকে উড্ডয়নের কথা ছিল। কিন্তু ভোর ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সেটি ছেড়ে যেতে পারেনি। যাত্রীদের দাবি, এ সময় উড়োজাহাজের এসি স্বাভাবিকভাবে কাজ না করায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।
ফ্লাইট বিলম্বের প্রভাব দুবাই বিমানবন্দরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ঢাকায় যাত্রীদের স্বজনদেরও দীর্ঘ সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে বিমানবন্দরে এসে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের মুখে পড়েন।
এ ছাড়া ফ্লাইটটির অনেক যাত্রীর ঢাকা থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ কিংবা আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কানেক্টিং ফ্লাইট ছিল। দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তাদের অনেকেই পরবর্তী ফ্লাইট মিস করার আশঙ্কায় পড়েন। এতে নতুন টিকিট কেনা, হোটেল বুকিং পরিবর্তন এবং পূর্বনির্ধারিত জরুরি কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার মতো আর্থিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের দিনও ইউএস-বাংলার আরেকটি ফ্লাইট কারিগরি সমস্যার কারণে দুবাই বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে ছিল। পরপর দুই দিনে একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় এয়ারলাইন্সটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, যাত্রীসেবা এবং সংকটকালীন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
যাত্রীরা বলছেন, কারিগরি সমস্যা যেকোনো এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিয়মিত ও সঠিক তথ্য দেওয়া, প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মানবিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের যাত্রীভোগান্তি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।