
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিমান ভ্রমণের সময় হ্যান্ড ব্যাগেজে কী নেওয়া যাবে আর কী নেওয়া যাবে না, তা নিয়ে অনেক যাত্রীর মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় নিষিদ্ধ বা নির্ধারিত সীমার বাইরে থাকা সামগ্রী পাওয়া গেলে সেগুলো বিমানবন্দরেই রেখে যেতে হতে পারে। ফলে যাত্রার আগে হ্যান্ড ব্যাগেজে বহনযোগ্য ও নিষিদ্ধ সামগ্রী সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO), আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA) এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী, যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তার স্বার্থে কেবিন ব্যাগেজে বেশ কিছু সামগ্রী বহনে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে এয়ারলাইনস, বিমানবন্দর ও গন্তব্যভেদে কিছু নিয়মের পার্থক্য থাকতে পারে।
হ্যান্ড ব্যাগেজে ছুরি, চাকু, বড় ব্লেড, বক্স কাটার এবং অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য ধারালো সামগ্রী বহন করা যায় না। একইভাবে হাতুড়ি, করাত, ড্রিলসহ বিভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি কেবিনে নেওয়ার অনুমতি নেই।
কাঁচি ও ছোট আকারের কিছু সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরভেদে আলাদা নিয়ম থাকতে পারে। তাই এসব সামগ্রী বহনের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া পিস্তল, বন্দুক, গুলি, অস্ত্রের প্রতিরূপ এবং আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহৃত পেপার স্প্রে বা টিয়ার গ্যাসজাতীয় সামগ্রী সাধারণ যাত্রীর হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন নিষিদ্ধ।
আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণে হ্যান্ড ব্যাগেজে পারফিউম, শ্যাম্পু, লোশন, টুথপেস্ট, জেল ও অন্যান্য তরলজাতীয় সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
অনেক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিটি তরলজাতীয় পাত্রের ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০০ মিলিলিটার হতে হয়। এসব পাত্র সাধারণত সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার একটি স্বচ্ছ ও পুনরায় বন্ধ করা যায় এমন ব্যাগে রাখতে হয়।
তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ, শিশুর দুধ এবং বিশেষ চিকিৎসাজনিত খাদ্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে ছাড় পাওয়া যেতে পারে। বিমানবন্দরভেদে তরল বহনের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।
বিমান ভ্রমণে পাওয়ার ব্যাংক ও অতিরিক্ত লিথিয়াম ব্যাটারি বহনের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত পাওয়ার ব্যাংক চেক-ইন ব্যাগেজে রাখা নিষিদ্ধ; এটি হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করতে হয়।
পাওয়ার ব্যাংকের ব্যাটারির ক্ষমতা, সংখ্যা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। সাধারণভাবে ১০০ ওয়াট-আওয়ার (Wh) পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার ব্যাংক বহনের অনুমতি থাকলেও এর বেশি ক্ষমতার ব্যাটারির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ প্রযোজ্য। কিছু এয়ারলাইনস উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার বা চার্জ দেওয়াও নিষিদ্ধ করেছে।
তাই ভ্রমণের আগে পাওয়ার ব্যাংকের ক্ষমতা ও এয়ারলাইনসের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।
পেট্রল, কেরোসিন, থিনার, আতশবাজি, পটকা, বিস্ফোরক এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করা যায় না। এসব সামগ্রীর অনেকগুলো চেক-ইন ব্যাগেজেও নিষিদ্ধ।
একইভাবে নির্দিষ্ট ধরনের গ্যাস সিলিন্ডার ও দাহ্য পদার্থ বহনের ক্ষেত্রেও কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ রয়েছে।
মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পাসপোর্ট, ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী সাধারণত হ্যান্ড ব্যাগেজে রাখা যায়। তবে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, ব্যাটারি ও অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এ ছাড়া হ্যান্ড ব্যাগেজের ওজন ও আকারের সীমা এয়ারলাইনসভেদে আলাদা। ফলে টিকিটে উল্লেখিত ব্যাগেজের অনুমোদিত পরিমাণও যাচাই করা জরুরি।
বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি নির্বিঘ্ন করতে যাত্রার আগেই হ্যান্ড ব্যাগেজের সব সামগ্রী পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে ধারালো বস্তু, তরল পদার্থ, পাওয়ার ব্যাংক ও ব্যাটারিচালিত যন্ত্রপাতি বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস এবং যাত্রা ও ট্রানজিট বিমানবন্দরের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাত্রার আগে ব্যাগেজসংক্রান্ত নির্দেশনা সম্পর্কে সচেতন থাকলে নিরাপত্তা তল্লাশি সহজ হয় এবং বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনা এড়ানো সম্ভব হয়।
সূত্র: ICAO, IATA এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিরাপত্তা নির্দেশিকা।