
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দেশীয় ট্রাভেল-টেক প্ল্যাটফর্ম শেয়ারট্রিপকে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গিয়ে একটি বৈশ্বিক ট্রাভেল ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণে আগ্রহী দেশীয় স্টার্টআপগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে একটি সমন্বিত জাতীয় স্টার্টআপ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি বিদেশি বাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করতে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোকে কীভাবে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
শেয়ারট্রিপের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই কোম্পানিটাকে আমরা গ্লোবালি নিয়ে যেতে চাই। শেয়ারট্রিপ কষ্ট করেছে, এটা ডিজার্ভ করে।”
তিনি বলেন, শেয়ারট্রিপকে সফলভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হলে একই ধরনের সহায়তা দেশের আরও অনেক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে দেশের ক্রমবর্ধমান ট্রাভেল-টেক খাতের প্রতি সরকারের জোরালো সমর্থনের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল সেবা খাতের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনারও প্রতিফলন ঘটেছে এতে।
অনুষ্ঠানে আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসাদ বলেন, তিনি শেয়ারট্রিপকে প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এ অঞ্চলে বাংলাদেশি ট্রাভেল-টেক কোম্পানিগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
এর আগে শেয়ারট্রিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাদিয়া হক প্রতিষ্ঠানের যাত্রা, অর্জন এবং বাংলাদেশে বিশ্বমানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সাদিয়া হক বলেন, “একটি স্টার্টআপের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু অর্থায়ন নয়; প্রয়োজন বোঝাপড়া, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা এবং এমন একটি ইকোসিস্টেম, যেখানে স্টার্টআপকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে দেখা হবে।”
তিনি সরকারের কাছে একটি সমন্বিত জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান। পর্যটন খাতের বিকাশে দেশীয় অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে (ওটিএ) আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব দেন তিনি।
২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা শেয়ারট্রিপ বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ দেশীয় ট্রাভেল-টেক প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠানটি ২৭ লাখের বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীকে সেবা দিচ্ছে। শেয়ারট্রিপ সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নুসুক ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মের একটি। প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে জাপানের শিল্পগোষ্ঠী মারুবেনি এবং সরকারের স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারট্রিপকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন দেশের ডিজিটাল ট্রাভেল খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি বাজারে প্রবেশে সরকারি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি ট্রাভেল-টেক প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক পর্যটন ও এভিয়েশন বাজারে শক্তিশালী আঞ্চলিক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।