
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কলকাতা থেকে আসা এক যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ, হীরা, প্লাটিনাম ও মূল্যবান পাথরখচিত অলংকার জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। আচারের বয়ামের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে এসব অলংকার আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকা কাস্টমস হাউসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলকাতা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৯৬ ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমস জানায়, ফ্লাইটটিতে স্বর্ণ চোরাচালান হতে পারে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম এবং বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত সি-শিফটের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করেন।
নজরদারির একপর্যায়ে মো. জনি রহমান নামের এক যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তাঁর ব্যাগ স্ক্যান করা হয়। এ সময় আচারের বয়ামের ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
পরবর্তী সময়ে ব্যাগেজ পরীক্ষা করে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান অলংকার ও পাথর পাওয়া যায়।
ঢাকা কাস্টমস হাউসের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ৩৮৯টি হীরাখচিত আংটি, ১৫১টি হীরাখচিত প্লাটিনামের আংটি, সাদা স্বর্ণের ৩টি আংটি, রুপার ২টি আংটি, স্বর্ণের ৫টি লকেট, একটি স্বর্ণের চেইন এবং ৪৭২টি হীরাখচিত স্বর্ণের নাকফুল।
এ ছাড়া ৪৫ ক্যারেট হীরার পাথর, পোখরাজ, রুবিসহ অন্যান্য মূল্যবান পাথরের ৭২০টি টুকরা এবং ২৩টি জুয়েলারি সার্টিফিকেট কার্ড পাওয়া গেছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যের মোট ওজন ১ হাজার ৫৪ গ্রাম। স্বর্ণালংকারের প্রত্যয়ন অনুযায়ী এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রী ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই এসব মূল্যবান পণ্য দেশে নিয়ে আসায় সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীর বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম সংশ্লিষ্ট থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।
বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে মূল্যবান ধাতু ও অলংকার আনা প্রতিরোধে কাস্টমসের নজরদারি ও ব্যাগেজ স্ক্যানিং কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ঘটনায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি এবং গ্রিন চ্যানেলে ব্যাগেজ পরীক্ষা করে পণ্যগুলো শনাক্ত করা হয়।
সূত্র: কাস্টমস হাউস