
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় কয়েক দফা সূচি পরিবর্তনের পর অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক জ্বালানি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রোসাটম নতুন এই সময়সূচি নিশ্চিত করেছে।
পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জ্বালানির চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট পরিচালনগত জটিলতার কারণে পরিবহনসূচি পরিবর্তন করতে হয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরে বিশেষ ব্যবস্থায় জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজ ঢাকায় পৌঁছাবে।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পারমাণবিক জ্বালানির চালানটি কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
পারমাণবিক জ্বালানির মতো সংবেদনশীল পণ্য আকাশপথে পরিবহনের ক্ষেত্রে সাধারণ কার্গোর তুলনায় নিরাপত্তা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পরিবহনের প্রতিটি ধাপও পূর্বপরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়।
এ কারণে চালানটি বহনকারী ফ্লাইটের সুনির্দিষ্ট রুট ও পরিচালনগত কিছু তথ্য নিরাপত্তার স্বার্থে সীমিত রাখা হয়েছে।
জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে অন্যতম জটিলতা তৈরি হয় পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই আকাশসীমা ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় চালানটির বাংলাদেশে পৌঁছানোর সূচি কয়েক দফা পরিবর্তন করতে হয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিকল্প রুটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত রুটে নতুন কোনো সমস্যা দেখা দিলে চীনের আকাশসীমা ব্যবহার করে চালানটি বাংলাদেশে আনার বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষায়িত ও সংবেদনশীল কার্গো পরিবহনে একটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ না পাওয়া ফ্লাইট পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এতে উড্ডয়ন দূরত্ব, ফ্লাইট টাইম, জ্বালানি পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ওভারফ্লাইট অনুমোদন নতুন করে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিছু জ্বালানি অ্যাসেম্বলি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। সাধারণত কেন্দ্র পরিচালনার এক থেকে দেড় বছর পর এ ধরনের জ্বালানি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হচ্ছে।
এর আগে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের প্রাথমিক পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছায় এবং প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এবারের চালানটি প্রথম ইউনিটের ভবিষ্যৎ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ।
জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি রূপপুরের প্রথম ইউনিটের কারিগরি প্রস্তুতিতেও অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে কয়েক দফা পরীক্ষার পর ইউনিটটির স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের প্রথম ধাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরীক্ষাটি সফল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পারমাণবিক চুল্লির প্রাইমারি সার্কিটে কোনো কারণে চাপ বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে এসব সংবেদনশীল নিরাপত্তা ভালভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর আগে সিস্টেমের বিভিন্ন জটিলতা দূর করতে নয়টি নিরাপত্তা ভালভ মেরামত করা হয়।
এখন ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা বাকি রয়েছে। সেই পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিটকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তুতিও চলছে। রোসাটমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ফলে প্রথম ইউনিটের বাড়তি জ্বালানির চালান বাংলাদেশে পৌঁছানো, গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরীক্ষা এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে।
সূত্র: রোসাটম ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট তথ্য