
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। মালয়েশিয়ার স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা AirAsia কক্সবাজার থেকে পেনাংয়ে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রী এভিয়েশন এক্সপ্রেসকে বলেন, AirAsia কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে নিশ্চিত করেছে এবং প্রস্তাবিত রুটটি কক্সবাজারকে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সঙ্গে যুক্ত করবে। তবে ফ্লাইট শুরুর তারিখ, সাপ্তাহিক frequency কিংবা ব্যবহৃত aircraft সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর মধ্যে কক্সবাজার–কাঠমান্ডু–কক্সবাজার সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গেও সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সরাসরি পর্যটক কক্সবাজারে আনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য, কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল গন্তব্য না রেখে বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ aviation gateway হিসেবে গড়ে তোলা।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন যাত্রী টার্মিনালে ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ যাত্রীসেবা শুরু হয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের টার্মিনালটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এতে check-in counter, immigration, baggage belt, security screening, lift, escalator ও boarding bridge-সহ আধুনিক সুবিধা রাখা হয়েছে।
টার্মিনাল সম্প্রসারণের ফলে বিমানবন্দরটির বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে বঙ্গোপসাগর থেকে ভূমি পুনরুদ্ধার করে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। ফলে wide-body aircraft পরিচালনার জন্যও বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বাড়ছে।
বর্তমানে কক্সবাজার থেকে নিয়মিত scheduled flight মূলত দেশের অভ্যন্তরেই পরিচালিত হচ্ছে। Flight Connections তাই AirAsia-এর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নতুন টার্মিনাল ও দীর্ঘ রানওয়ে নয়—আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন আকৃষ্ট করতে প্রতিযোগিতামূলক airport charges, পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা এবং কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকেও অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনার কথা আগেই জানানো হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)