
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ভোগান্তি কমাতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ‘যাত্রী অপেক্ষা’ চালু রেখেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ভবনের দ্বিতীয় তলায় গড়ে তোলা এই অপেক্ষার স্থান বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও পর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে অনেক যাত্রী ও স্বজন এখনো সুবিধাটির বিষয়ে জানেন না।
আধুনিক এই অপেক্ষার স্থানে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম, ব্রেস্ট ফিডিংয়ের নির্ধারিত স্থান, নামাজ আদায়ের জায়গা এবং খাবারের সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা।
ফ্লাইট বিলম্ব কিংবা যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ও ব্যাগেজ প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে স্বজনরা এখানে তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন।
প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারো যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। তাদের বিদায় জানাতে কিংবা বিদেশফেরত স্বজনকে গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে আসেন আরও বিপুলসংখ্যক মানুষ।
কোনো ফ্লাইট বিলম্বিত হলে কিংবা ইমিগ্রেশন ও ব্যাগেজ সংগ্রহে বেশি সময় লাগলে স্বজনদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
কিন্তু মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ভবনের দ্বিতীয় তলায় আধুনিক অপেক্ষার ব্যবস্থা থাকার তথ্য না জানায় অনেককে টার্মিনালের বাইরে, ক্যানোপি এলাকা কিংবা আশপাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
অথচ কাছেই তাদের জন্য রয়েছে বসার স্থানসহ প্রয়োজনীয় সুবিধাসম্পন্ন বিনামূল্যের ‘যাত্রী অপেক্ষা’।
যাত্রী ও তাদের স্বজনদের মতে, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনাল এবং ক্যানোপি এলাকায় বড় ও সহজে দৃশ্যমান সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলে আরও বেশি মানুষ এই সুবিধার কথা জানতে পারবেন।
বিশেষ করে বিমানবন্দর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড, পার্কিং প্রবেশপথ এবং টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘যাত্রী অপেক্ষা’ কোন দিকে এবং এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়—এমন তথ্যসহ দিকনির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।
একই সঙ্গে বিমানবন্দরের ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সেবাটির বিষয়ে নিয়মিত তথ্য প্রচার করা হলে যাত্রী ও স্বজনদের কাছে এটি আরও পরিচিত হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে এমন অপেক্ষার স্থান তৈরি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, শিশু ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের জন্য এটি কার্যকর সুবিধা হতে পারে।
তবে আধুনিক অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা তৈরির পাশাপাশি সেবাটি কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা যাবে—সে তথ্য মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছানোও গুরুত্বপূর্ণ।
কার্যকর সাইনেজ ও প্রচার বাড়ানো গেলে টার্মিনালের বাইরের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমতে পারে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকায় অপেক্ষমাণ মানুষের চাপ আরও সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও তাদের স্বজনদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে গড়ে তোলা ‘যাত্রী অপেক্ষা’ বেবিচকের একটি ইতিবাচক যাত্রীসেবা উদ্যোগ। এখন প্রয়োজন সুবিধাটির অবস্থান ও বিনামূল্যে ব্যবহারের তথ্য আরও দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরা, যাতে এর সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও সংশ্লিষ্ট তথ্য