
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিদেশ বা দেশের অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ব্যাগেজ বেল্টে নিজের লাগেজ না পেলে অনেক যাত্রীই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে লাগেজ না পাওয়া মানেই সেটি স্থায়ীভাবে হারিয়ে গেছে—এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুল উড়োজাহাজে পাঠানো, ট্রানজিট বিমানবন্দরে থেকে যাওয়া কিংবা সংযোগ ফ্লাইটে সময়ের ব্যবধান কম থাকার কারণে লাগেজ দেরিতে পৌঁছাতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের কাছে অভিযোগ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গে boarding pass ও baggage tag সংরক্ষণ করলে লাগেজ শনাক্ত ও অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া সহজ হয়।
ফ্লাইট থেকে নামার পর immigration শেষ করে baggage reclaim এলাকায় এসে প্রথমে আপনার ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত baggage belt নম্বর নিশ্চিত করুন।
একই ধরনের ব্যাগ অনেক যাত্রীর থাকতে পারে। তাই শুধু রং বা ব্র্যান্ড দেখে ব্যাগ নেওয়ার পরিবর্তে baggage tag-এর নম্বর মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
বেল্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও ব্যাগ না এলে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট airline বা তাদের ground handling প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
লাগেজ না পাওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে arrival area ত্যাগ করার আগেই বিষয়টি রিপোর্ট করা।
সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের baggage service, Lost & Found বা ground handling desk-এ গিয়ে আপনার লাগেজ না পাওয়ার বিষয়টি জানান।
সাধারণত এ সময় যাত্রীর কাছ থেকে চাওয়া হতে পারে—
Boarding pass বা e-ticket
Baggage claim tag
Passport ও যোগাযোগের তথ্য
ব্যাগের রং, আকার, ব্র্যান্ড ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের বিবরণ
বাংলাদেশে অবস্থানের ঠিকানা ও ফোন নম্বর
তাই গন্তব্যে পৌঁছানোর পর লাগেজ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত boarding pass ও baggage tag ফেলে দেওয়া উচিত নয়।
Checked baggage না পাওয়া গেলে এয়ারলাইন সাধারণত একটি Property Irregularity Report (PIR) তৈরি করতে পারে।
এটি delayed বা missing baggage অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ নথি। এতে যাত্রীর তথ্য, flight details, baggage tag number এবং ব্যাগের বর্ণনা রেকর্ড করা হয়।
PIR বা সংশ্লিষ্ট reference number দেওয়া হলে সেটি সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে baggage tracking বা airline-এর সঙ্গে যোগাযোগের সময় এই নম্বর প্রয়োজন হতে পারে।
শুধু মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়ে চলে না গিয়ে অভিযোগের reference বা লিখিত প্রমাণ রাখা ভালো।
বিমানবন্দরে ব্যাগ না পাওয়া মানেই সেটি চুরি বা স্থায়ীভাবে হারিয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়।
আন্তর্জাতিক যাত্রায় delayed baggage-এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে connecting flight-এর ক্ষেত্রে প্রথম ফ্লাইট দেরিতে পৌঁছালে যাত্রী পরবর্তী উড়োজাহাজে উঠতে পারলেও checked baggage সময়মতো transfer না-ও হতে পারে।
এ ছাড়া baggage sorting error, ভুল aircraft-এ loading, baggage tag ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অথবা operational disruption-এর কারণেও ব্যাগ নির্ধারিত ফ্লাইটে না পৌঁছাতে পারে।
এ ধরনের ক্ষেত্রে ব্যাগ শনাক্ত হওয়ার পর পরবর্তী ফ্লাইটে সেটি গন্তব্যে পাঠানো হতে পারে।
PIR বা baggage complaint করার পর সংশ্লিষ্ট airline-এর দেওয়া tracking ব্যবস্থা থাকলে সেটি ব্যবহার করুন।
অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন baggage tracing system ব্যবহার করে, যেখানে reference number দিয়ে ব্যাগের সর্বশেষ অবস্থা জানা যায়।
লাগেজ শনাক্ত হলে সেটি কোথা থেকে সংগ্রহ করতে হবে অথবা যাত্রীর ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হবে কি না—এটি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের নিয়ম ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
তাই airport authority-এর পাশাপাশি প্রথমে যে airline আপনার checked baggage বহনের দায়িত্বে ছিল, সেই airline-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
যাত্রীরা অনেক সময় বিমানবন্দরে লাগেজ না পেলে সরাসরি airport authority-কে দায়ী মনে করেন। কিন্তু checked baggage handling-এর ক্ষেত্রে airline এবং তাদের নিযুক্ত ground handling service-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
অন্যদিকে বিমানবন্দরের Lost & Found সাধারণত terminal বা airport premises-এ পড়ে থাকা passport, mobile phone, hand baggage বা অন্যান্য হারানো সামগ্রী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
তাই checked baggage না পৌঁছানো এবং বিমানবন্দরের ভেতরে ব্যক্তিগত জিনিস হারানো—দুটি আলাদা বিষয়।
Checked baggage না এলে প্রথম যোগাযোগ হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট airline বা baggage handling desk-এর সঙ্গে।
লাগেজ পাওয়া গেলেও যদি suitcase ভাঙা, চাকা নষ্ট, বড় ধরনের কাটাছেঁড়া বা অন্য কোনো দৃশ্যমান ক্ষতি থাকে, তাহলে বিমানবন্দর ছাড়ার আগেই airline-এর baggage service desk-এ বিষয়টি জানানো ভালো।
ক্ষতির ছবি তুলে রাখুন এবং baggage tag, boarding pass ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন।
Airline-এর baggage policy অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে claim করার ক্ষেত্রে এসব প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
Delayed, damaged বা lost international checked baggage-এর ক্ষেত্রে যাত্রীর অধিকার নির্ভর করতে পারে যাত্রাপথ, সংশ্লিষ্ট দেশের প্রযোজ্য আইন, airline-এর conditions of carriage এবং আন্তর্জাতিক convention-এর ওপর।
বাংলাদেশ Montreal Convention 1999-এর পক্ষভুক্ত। আন্তর্জাতিক যাত্রার ক্ষেত্রে convention প্রযোজ্য হলে baggage loss, damage বা delay-এর জন্য carrier liability-এর নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে।
তবে লাগেজ দেরি হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়—বিষয়টি এমন নয়। পরিস্থিতি, প্রকৃত ক্ষতি, প্রয়োজনীয় প্রমাণ এবং প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী claim মূল্যায়ন করা হয়।
এ কারণে জরুরি পোশাক বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে হলে receipt সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পাসপোর্ট, নগদ অর্থ, ব্যাংক কার্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং উচ্চমূল্যের ছোট electronic device সম্ভব হলে checked baggage-এ না দিয়ে airline ও security rules অনুযায়ী hand baggage-এ রাখা ভালো।
Power bank ও spare lithium battery-এর মতো কিছু সামগ্রী checked baggage-এ রাখার ওপর আলাদা aviation safety restriction-ও রয়েছে।
একই সঙ্গে যাত্রার আগে নিজের suitcase-এর একটি ছবি তুলে রাখা যেতে পারে। ব্যাগ হারিয়ে গেলে এর রং, মডেল ও বৈশিষ্ট্য baggage tracing staff-কে বোঝাতে ছবিটি কাজে আসতে পারে।
শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছে checked baggage না পেলে আতঙ্কিত না হয়ে কয়েকটি কাজ দ্রুত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সঠিক baggage belt পুনরায় যাচাই করুন, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার আগে airline baggage desk-এ রিপোর্ট করুন, baggage tag ও boarding pass দেখান এবং প্রয়োজন হলে PIR/reference number সংগ্রহ করুন।
এরপর reference number ব্যবহার করে airline-এর সঙ্গে যোগাযোগ ও baggage tracking চালিয়ে যান। ব্যাগ দেরিতে পৌঁছানোর কারণে জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হলে receipt রেখে দিন এবং airline-এর applicable baggage claim policy যাচাই করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, লাগেজ না পাওয়া অবস্থায় baggage tag হারাবেন না এবং অভিযোগ না করে বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন না। দ্রুত রিপোর্ট করলে ব্যাগ শনাক্ত ও ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেক সহজ হতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত প্রচলিত ব্যাগেজ বিধান ও এয়ারলাইন ব্যাগেজ নীতিমালা