
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী এক যাত্রীর কাছ থেকে ১ হাজার ১৬৩টি দেশীয় ‘কড়ি কাইট্টা’ কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ দল। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে কচ্ছপগুলো জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মো. শহীদুল ইসলাম (৫৭) নামে এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, বন অধিদপ্তরের আগারগাঁও কার্যালয়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ, পুলিশ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
আটক শহীদুল ইসলাম টাঙ্গাইলের হোসনাবাদ ও মাহমুদনগর এলাকার বাসিন্দা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি Batik Air-এর OD161 ফ্লাইটে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিমানবন্দরের ফ্লাইট তথ্যেও OD161-কে ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটের Batik Air Malaysia ফ্লাইট হিসেবে পাওয়া যায়।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রীটির ওপর নজর রাখা হয়। পরবর্তী তল্লাশিতে তার সঙ্গে থাকা মালামাল থেকে বিপুলসংখ্যক কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়।
কচ্ছপগুলো জব্দ করার পাশাপাশি শহীদুল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তে এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ পর্যায়ে আটক ব্যক্তিকে একটি বৃহত্তর পাচারচক্রের সদস্য হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা সমীচীন নয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্যপ্রাণী ও বন্যপ্রাণীজাত পণ্যের অবৈধ আন্তঃদেশীয় পরিবহন ঠেকানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। যাত্রীবাহী ফ্লাইটের লাগেজের পাশাপাশি air cargo ও অন্যান্য মাধ্যমে জীবিত প্রাণী বা বন্যপ্রাণীজাত পণ্য পরিবহনের চেষ্টা হতে পারে।
বিশেষ করে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক জীবিত প্রাণী গোপনে পরিবহনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বাতাস, তাপমাত্রা, পানি ও জায়গার অভাবে প্রাণীগুলোর মৃত্যু বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে বন্য পরিবেশ থেকে ব্যাপক হারে প্রাণী সংগ্রহ স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণেই বৈধভাবে জীবিত বন্যপ্রাণী আন্তর্জাতিকভাবে পরিবহনের ক্ষেত্রে শুধু airline baggage allowance যথেষ্ট নয়; প্রজাতি ও গন্তব্য অনুযায়ী wildlife permit, export-import documentation, quarantine/health requirement এবং আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী বাণিজ্যসংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট জানিয়েছে, উদ্ধার করা কচ্ছপগুলো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তাদের উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার আগে প্রাণীগুলোর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হবে।
একসঙ্গে ১,১৬৩টি কচ্ছপ উদ্ধারের ঘটনা বিমানবন্দরকেন্দ্রিক wildlife trafficking প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্য, যাত্রী ও লাগেজ পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
যাত্রীদেরও মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো বন্যপ্রাণী বা বন্যপ্রাণীজাত পণ্য বিদেশে নেওয়ার আগে সেটি আইনগতভাবে বহনযোগ্য কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন কি না, তা যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় বিমানবন্দরে জব্দ, মামলা এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের তথ্য, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট তথ্য এবং প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।