
দেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগের আওতায় আনতে এগিয়ে চলছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম। চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহকে সামনে রেখে বিমানবন্দরটির আন্তর্জাতিক কার্যক্রম উদ্বোধনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বেবিচক চেয়ারম্যান কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল, রানওয়ে সম্প্রসারণ, অ্যাপ্রোন, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। বেবিচক চেয়ারম্যান বিমানবন্দরটির আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তারাও এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মুর্তজা হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। কিছু শেষ মুহূর্তের কাজ চলমান থাকলেও বড় ধরনের নির্মাণকাজের অধিকাংশই সম্পন্ন হয়েছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ ৯১ দশমিক ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময় ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফুট থেকে সম্প্রসারণ করে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। সমুদ্র থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই সম্প্রসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। বেবিচকের মতে, সম্প্রসারিত রানওয়েতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো বড় উড়োজাহাজও পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সুবিধার জন্য ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন টার্মিনালে প্রস্থান লাউঞ্জ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এস্কেলেটর, লাগেজ পরিবাহক, চেক-ইন কাউন্টার ও ইমিগ্রেশন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা পরিচালনার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটার আয়তনের অ্যাপ্রোনে দুটি বড় উড়োজাহাজ এবং তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুটি ট্যাক্সিওয়ে চালু হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা উন্নয়নের কাজও এগিয়ে চলছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দর বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩০টি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বৈদেশিক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেবিচক জানিয়েছে, কক্সবাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ধাপের পরামর্শক ও নকশা কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির পাশাপাশি সম্ভাব্য বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে দেশের পর্যটন সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।