
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বরিশাল-ঢাকা রুটে সপ্তাহের সাত দিন নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা এবং বন্ধ থাকা যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম আকাশপথ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটনের স্বার্থে এ দুটি দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ দাবিতে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন।
এ সময় বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন, সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান, সহসভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাছিম উল আলমসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির দেওয়া স্মারকলিপি অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও রোববার ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তবে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা আরও কমিয়ে দুটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে তারা সপ্তাহের সাত দিনই ঢাকা ও বরিশালের মধ্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, ২০২১ সালের ২৬ মার্চ থেকে নতুন উড়োজাহাজ দিয়ে বরিশাল রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে ফ্লাইটের সংখ্যা কমে যায়। এর ফলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার আকাশপথের যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
ঢাকা ও বরিশালের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আগের তুলনায় উন্নত হলেও আকাশপথের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, ব্যবসায়িক সফর, সরকারি-বেসরকারি কাজ এবং স্বল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াতের প্রয়োজন হলে নিয়মিত ফ্লাইট যাত্রীদের একটি দ্রুত বিকল্প দিতে পারে।
তবে কোনো অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতিদিন বাণিজ্যিক ফ্লাইট টেকসইভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু যাত্রীদের চাহিদাই নয়, নিয়মিত যাত্রীসংখ্যা, টিকিট বিক্রি, উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা, বিমানবন্দরের পরিচালন সময় এবং এয়ারলাইনসের সামগ্রিক নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে বরিশাল রুটে দৈনিক ফ্লাইট চালুর সম্ভাব্যতা নির্ধারণে যাত্রীচাহিদা ও বাণিজ্যিক সক্ষমতার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই স্মারকলিপিতে যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম রুট পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি।
সংগঠনটির মতে, এই আকাশপথ চালু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে বরিশাল থেকে চট্টগ্রামে সড়কপথে যেতে উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন হয়। সরাসরি ফ্লাইট থাকলে যাত্রার সময় অনেকটাই কমে আসতে পারে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী এবং সময়-সংবেদনশীল যাত্রীদের জন্য এটি বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের অনেক মানুষ যশোর ও বেনাপোল হয়ে স্থলপথে ভারতে যাতায়াত করেন। ফলে বরিশালের সঙ্গে যশোরের সরাসরি বিমান যোগাযোগ থাকলে বেনাপোল স্থলবন্দরমুখী কিছু যাত্রীর জন্যও বিকল্প সংযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রামের মতো মাল্টি-সেক্টর রুট পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা, ভাড়া, ফ্লাইটের সময়সূচি এবং প্রতিটি সেক্টরে পর্যাপ্ত চাহিদা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনকে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বরিশাল বিমানবন্দর দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানবন্দরটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ১৯৭৯ সালে এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর পরবর্তী সময়ে এর অবকাঠামো নির্মাণ ও ফ্লাইট কার্যক্রম চালু হয়।
পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বড় পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে ঢাকা-বরিশাল আকাশপথকে এখন দ্রুত সড়ক যোগাযোগের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিমান রুটটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ধরে রাখতে সুবিধাজনক সময়সূচি, নিয়মিত ফ্লাইট, প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া এবং নির্ভরযোগ্য সেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা বিবেচনায় বরিশাল রুটে নিয়মিত বিমান সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে যাত্রী চলাচলের পাশাপাশি এ অঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি মনে করেন।
বরিশালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য রয়েছে। নিয়মিত আকাশ যোগাযোগ পর্যটকদের জন্য বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। একইভাবে বরিশাল-যশোর-চট্টগ্রামের মতো আন্তঃআঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ চালু হলে ঢাকাকেন্দ্রিক যাত্রার প্রয়োজন কিছু ক্ষেত্রে কমে আসতে পারে।
তবে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইনসের সিদ্ধান্তের বিষয়। তাই দৈনিক ঢাকা-বরিশাল ফ্লাইট কিংবা যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম রুট পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সময়সূচি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে প্রস্তাব ও দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির স্মারকলিপি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।