
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ লক্ষ্যে রোববার বেবিচক সদর দপ্তরে চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় তৃতীয় টার্মিনালের operational readiness-এর বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, ground handling, airline operation, কারিগরি প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বেবিচক চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্বের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি পুরো প্রস্তুতি প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। তবে এটি পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের আগে প্রয়োজনীয় test run ও operational formalities সম্পন্ন করতে হবে।
তৃতীয় টার্মিনালের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো physical completion এবং operational readiness-এর পার্থক্য।
একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল যাত্রীদের জন্য চালু করতে শুধু ভবন ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকাই যথেষ্ট নয়। Check-in, baggage handling, immigration, customs, security screening, boarding, aircraft ground handling, IT system, airline counter, passenger flow এবং emergency response—সবগুলো ব্যবস্থাকে একই সঙ্গে কার্যকর করতে হয়।
এ কারণেই ১৬ ডিসেম্বরের লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন সংস্থা ও এয়ারলাইনের প্রস্তুতি সমন্বয়কে এখন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকার গত আগস্টে সংসদে জানিয়েছিল, তৃতীয় টার্মিনালের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন ও operational করার জন্য ৯০২ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির integration এবং সংশ্লিষ্ট Airport Development and Construction (ADC) কাজও রয়েছে।
টার্মিনাল চালুর পর যাত্রী অভিজ্ঞতার বড় একটি অংশ নির্ভর করবে ground handling ব্যবস্থার ওপর। উড়োজাহাজ থেকে baggage নামানো, sorting, যাত্রীদের লাগেজ সরবরাহ, aircraft turnaround এবং ramp operation-এর মতো কার্যক্রম এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
তৃতীয় টার্মিনালের দ্বিতীয় passenger service operator হিসেবে নির্বাচিত হলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক Menzies Aviation প্রথম বছরেই ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এবং এক হাজারের বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
এদিকে টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে operational timeline-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কনসোর্টিয়ামে Japan Airport Terminal Company, Sumitomo Corporation, Nippon Koei ও Narita International Airport Corporation রয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি কার্যকর হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের passenger-handling capacity উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন টার্মিনালটি বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১২ থেকে ১৬ মিলিয়ন যাত্রী ব্যবস্থাপনার জন্য নকশা করা হয়েছে। এতে ২৬টি boarding bridge, শতাধিক check-in counter, automated baggage-handling সুবিধা, immigration counter এবং আধুনিক passenger-processing infrastructure রাখা হয়েছে।
এর ফলে বর্তমান টার্মিনালগুলোর ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যাত্রীদের check-in থেকে boarding এবং arrival থেকে baggage collection পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া আরও সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে ঘোষিত design capacity এবং বাস্তবে প্রথম দিন থেকেই সর্বোচ্চ সংখ্যক যাত্রী পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। নতুন টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে চালু হলে শুরুতে airline ও flight স্থানান্তরের পরিমাণ অনুযায়ী প্রকৃত ব্যবহারও ধাপে ধাপে বাড়তে পারে।
টার্মিনাল চালুর পর কোন এয়ারলাইনের ফ্লাইট Terminal 1, Terminal 2 নাকি Terminal 3 ব্যবহার করবে—এটি যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক তথ্যগুলোর একটি হবে।
এয়ারলাইন স্থানান্তর পর্যায়ক্রমে হলে একই সময় শাহজালাল বিমানবন্দরে পুরোনো ও নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হতে পারে। ফলে যাত্রীদের departure-এর আগে ticket বা booking information, airline notification এবং airport flight information দেখে সঠিক terminal নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিশেষ করে কাউকে বিমানবন্দরে নামিয়ে দেওয়া বা arriving passenger-কে নিতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট flight কোন terminal ব্যবহার করছে তা আগে নিশ্চিত করলে বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
তৃতীয় টার্মিনালকে ঘিরে এর আগেও একাধিক সম্ভাব্য operational timeline সামনে এসেছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে বেবিচক ধারাবাহিকভাবে ১৬ ডিসেম্বরকে লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
তাই বর্তমান পর্যায়ে ১৬ ডিসেম্বরকে নির্ধারিত operational target হিসেবে উল্লেখ করাই যথাযথ; সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার আগেই এটিকে অপরিবর্তনীয় চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
টার্মিনাল চালুর আগে system integration, test run, airline ও ground-handler readiness, নিরাপত্তা, immigration-customs এবং বিভিন্ন সংস্থার operational coordination সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য বড় ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। বাড়তি passenger-handling capacity-এর পাশাপাশি আধুনিক ground operation ও terminal infrastructure ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও যাত্রীর ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক); বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।