
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে সংঘাতজনিত বিধিনিষেধ ও ফ্লাইট বিঘ্নের প্রভাব এখন ভারত মহাসাগরের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও সেশেলসেও পড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকা থেকে দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো বড় Gulf aviation hub হয়ে এসব দ্বীপদেশে যাতায়াতকারী পর্যটকদের প্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
Gulf News-এর ২০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলে তৈরি হওয়া বিঘ্ন এসব দেশের পর্যটনে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলেছে। ওই সময় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং বহু ফ্লাইট বাতিল, স্থগিত বা reroute করতে হয়।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মালদ্বীপ। Visit Maldives Corporation-এর প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক Abdulla Yaasir জানিয়েছেন, পশ্চিমা পর্যটকদের মালদ্বীপে পৌঁছাতে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের aviation corridor গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে বছরের প্রথমার্ধ দেশটির পর্যটন খাতের জন্য কঠিন ছিল।
সেপ্টেম্বর নাগাদ মালদ্বীপে প্রায় ১৪ লাখ ৯০ হাজার পর্যটক পৌঁছেছেন। ২০২৫ সালে দেশটি রেকর্ড সময়ে ২০ লাখ পর্যটকের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। চলতি বছরও ২০ লাখের বেশি পর্যটক পাওয়ার আশা থাকলেও আগে নির্ধারিত ২৫ লাখের লক্ষ্য অর্জিত হবে না বলে স্বীকার করেছে দেশটির পর্যটন কর্তৃপক্ষ।
মালদ্বীপের ক্ষেত্রে সমস্যাটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা নয়। আগস্ট পর্যন্ত দেশটির মোট পর্যটকের ৬ শতাংশের কিছু কম মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছেন এবং GCC দেশগুলো থেকে এসেছেন প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক। কিন্তু দুবাই, আবুধাবি ও দোহা ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মালদ্বীপে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ connecting hub হওয়ায় এই অঞ্চলের বিমান চলাচলে বিঘ্নের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে।
মালদ্বীপের মতো দ্বীপভিত্তিক পর্যটন অর্থনীতির জন্য আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের অনেক শহর থেকে মালেতে সরাসরি বছরব্যাপী ফ্লাইট নেই। ফলে Emirates, Etihad Airways ও Qatar Airways-এর মতো Gulf carrier-এর connecting network গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ধরনের hub-এ বড় ধরনের disruption হলে শুধু একটি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার বিষয় থাকে না। connecting itinerary ভেঙে যাওয়া, দীর্ঘ rerouting, নতুন টিকিটের প্রয়োজন, ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন এবং travel insurance নিয়ে অনিশ্চয়তাও পর্যটকের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে পরিস্থিতির তীব্রতা বোঝা যায় দুবাইয়ের DXB ও DWC-তে সাময়িকভাবে flight operation স্থগিত হওয়া এবং আবুধাবিতেও delay, diversion ও cancellation দেখা দেওয়ার ঘটনায়।
একটি অঞ্চলের connecting hub-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে মালদ্বীপ এখন চীন, রাশিয়া, ভারত ও এশিয়া-প্যাসিফিকের বাজারে প্রচার এবং সরাসরি বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে।
জুনে Melbourne থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পর অস্ট্রেলিয়া মালদ্বীপের শীর্ষ ১০ source market-এর মধ্যে উঠে এসেছে বলে Visit Maldives জানিয়েছে। ওই রুটের আসন ডিসেম্বর পর্যন্ত বুকড থাকার কথাও জানিয়েছেন Yaasir।
Thailand, Malaysia, Indonesia ও Singapore-এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও এই diversification strategy-এর অংশ। Vietnam থেকেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছে।
Gulf connectivity-ও আবার বাড়ছে। Qatar Airways ১–২৪ অক্টোবর Doha–Maldives রুটে সপ্তাহে ১২টি ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। Gulf News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ অক্টোবর থেকে এই সংখ্যা দৈনিক তিনটি বা সপ্তাহে ২১টি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই ধরনের প্রভাব পড়েছে শ্রীলঙ্কায়। Sri Lanka Association of Inbound Tour Operators-এর সভাপতি Nalin Jayasundera Gulf News-কে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে পর্যটক আগমন প্রায় ২–৩ শতাংশ কমেছে।
পতনটি মূলত European source market-এ বেশি দেখা গেছে। কারণ ইউরোপের অনেক পর্যটক Dubai, Abu Dhabi বা Doha হয়ে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছান। সাম্প্রতিক disruption-এর কারণে কিছু পর্যটক এই routing ব্যবহারে দ্বিধায় পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে Asia-Pacific অঞ্চল থেকে পর্যটক বাড়ায় পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া যাচ্ছে। ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কায় ২৩ লাখ ৬০ হাজার পর্যটক এসেছিলেন এবং দেশটি এখন ৩০ লাখ পর্যটকের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
তিন দেশের মধ্যে সেশেলসের পরিসংখ্যানে বড় পতন দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮৩ পর্যটক এসেছেন। আগের বছরের একই সময়ে সংখ্যাটি ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৭৫। অর্থাৎ আগমন কমেছে ১১.৪ শতাংশ।
বিশেষ করে মার্চে বছরওয়ারি পর্যটক কমেছে ৩৭.২ শতাংশ এবং এপ্রিলে ২৮.৪ শতাংশ।
তবে জুলাইয়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ওই মাসে ৩১ হাজার ৬২৮ পর্যটক সেশেলস ভ্রমণ করেন, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১.৮ শতাংশ বেশি। জুলাইয়ের পর্যটকদের ৬৪.৩ শতাংশ ইউরোপ এবং ২১.৮ শতাংশ এশিয়া থেকে এসেছেন।
মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও সেশেলসের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, দ্বীপভিত্তিক পর্যটন অর্থনীতিতে শুধু আকর্ষণীয় গন্তব্য বা হোটেল অবকাঠামো যথেষ্ট নয়—নিরবচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগও পর্যটনের মূল অবকাঠামোর অংশ।
বিশেষ করে এক বা দুটি transit region-এর ওপর বেশি নির্ভরতা থাকলে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, আকাশসীমা বন্ধ, airline rerouting বা বড় hub-এর operational disruption দ্রুত হাজার কিলোমিটার দূরের পর্যটন অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণেই মালদ্বীপ এখন direct connectivity বাড়ানো এবং source market বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। দেশটি ২০২৭ সালকে ‘Visit Maldives Year’ ঘোষণা করেছে এবং পর্যটন খাতকে ঘিরে বছরব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৬৭ হাজার পর্যটন বেড রয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক হোটেল ব্র্যান্ড যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৭ সালে ৩০ লাখ পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ভারত মহাসাগরের এসব পর্যটন গন্তব্যের পুনরুদ্ধারের গতি অনেকাংশে নির্ভর করবে Gulf aviation network কতটা স্থিতিশীল থাকে, সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কত দ্রুত বাড়ে এবং পর্যটকেরা connecting route ব্যবহারে কতটা আস্থা ফিরে পান তার ওপর।
তথ্যসূত্র: Gulf News; Visit Maldives Corporation; Qatar Airways-এর প্রকাশিত তথ্য।