
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ আরামদায়ক, দ্রুত ও নমনীয় হলেও যাত্রীপ্রতি পরিবেশগত প্রভাব বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের তুলনায় অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Institute for Policy Studies (IPS)-এর High Flyers 2026 প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন private jet passenger-এর সরাসরি কার্বন নিঃসরণ একজন commercial airline passenger-এর তুলনায় সাধারণত ১০ থেকে ১৪ গুণ বা তারও বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে শুধু কার্বন নিঃসরণ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা ও বিমান চলাচল অবকাঠামো ব্যবহারের বিপরীতে private aviation খাতের কর অবদান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
IPS-এর হিসাবে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ private jet ব্যবহার করেন, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অত্যন্ত ক্ষুদ্র অংশ।
Private jet-এ যাত্রীপ্রতি emissions বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ এর কম passenger load। একটি commercial aircraft-এ একই ফ্লাইটে শত শত যাত্রী পরিবহন করা যায়। ফলে উড়োজাহাজটির মোট fuel burn বেশি হলেও তা অনেক যাত্রীর মধ্যে ভাগ হয়ে যায়।
অন্যদিকে private jet-এ তুলনামূলক অল্প যাত্রী থাকায় একই দূরত্বে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মাথাপিছু fuel consumption এবং carbon footprint উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
তবে ১০–১৪ গুণ ব্যবধানকে প্রতিটি ফ্লাইটের জন্য নির্দিষ্ট হার হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। উড়োজাহাজের ধরন, যাত্রীর সংখ্যা, দূরত্ব, fuel burn এবং flight profile অনুযায়ী প্রকৃত নিঃসরণ পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, private jet ও charter service মিলে যুক্তরাষ্ট্রের FAA পরিচালিত flight operation-এর উল্লেখযোগ্য অংশের সঙ্গে যুক্ত।
IPS-এর প্রতিবেদনে U.S. Department of Transportation-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, non-commercial private jet যুক্তরাষ্ট্রের airspace activity-এর প্রায় ৭ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত, অথচ Airport and Airway Trust Fund-এ এ খাতের কর অবদান ০.৬ শতাংশেরও কম।
এই তহবিল যুক্তরাষ্ট্রের aviation infrastructure-এর অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে private aviation-এর অবকাঠামো ব্যবহার এবং কর অবদানের মধ্যে ভারসাম্য নিয়েও নীতিগত আলোচনা বাড়ছে।
বিমান চলাচলের জলবায়ুগত প্রভাব শুধু CO₂ নিঃসরণে সীমাবদ্ধ নয়। উচ্চতায় উড়োজাহাজের emissions, contrail এবং অন্যান্য non-CO₂ effect-ও সামগ্রিক warming effect-এ ভূমিকা রাখতে পারে।
IPS-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রভাব বিবেচনায় নিলে aviation-এর সামগ্রিক জলবায়ুগত প্রভাব শুধু সরাসরি CO₂ emissions দিয়ে হিসাব করা প্রভাবের চেয়ে আরও বেশি হতে পারে।
ফলে private aviation-এর পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু একটি উড়োজাহাজ কত CO₂ নিঃসরণ করছে, সেটিই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়।
Private ও business aviation-এর করব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে যুক্তরাজ্যও। ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে ৫.৭ টন বা তার বেশি ওজনের আরও private ও business jet উচ্চহারের Air Passenger Duty (APD)-এর আওতায় আসবে।
এর মাধ্যমে private aviation ব্যবহারকারীদের public finances-এ তুলনামূলক বেশি অবদান নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
Private aviation-এর পক্ষে অবশ্য business connectivity, দ্রুত ও নমনীয় যাতায়াত, medical mission এবং scheduled airline service সীমিত এমন অঞ্চলে যোগাযোগের মতো সুবিধার কথাও বলা হয়।
ফলে private jet নিয়ে বর্তমান আলোচনা শুধু পরিবেশগত প্রভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং কার্বন নিঃসরণ, কর অবদান, aviation infrastructure ব্যবহার এবং খাতটির অর্থনৈতিক সুবিধার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করা যায়, সেটিই ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্ন হয়ে উঠছে।
সূত্র: Institute for Policy Studies—High Flyers 2026: The High Cost of Private Jet Excess; U.S. Department of Transportation-সংক্রান্ত IPS-এর তথ্য; UK HM Revenue & Customs ও GOV.UK