
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৫ জন বৈমানিককে বিভিন্ন পদে পদোন্নতি ও পদায়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জনকে ফার্স্ট অফিসার এবং আটজনকে ক্যাপ্টেন পদে পদায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। আদেশে সংশ্লিষ্ট বৈমানিকদের পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদ এবং তা কার্যকরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিভিন্ন শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ২৫ জনের সবার পদোন্নতি একই শর্তে কার্যকর হচ্ছে না। কয়েকজন বৈমানিককে শেষ তিনটি ধারাবাহিক simulator training সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। কারও ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে আইনগত ছাড়পত্র। আবার কয়েকজনের জন্য উভয় শর্তই রাখা হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, মোট ১৭ জন বৈমানিককে First Officer পদে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তালিকায় হাসান আল তুহায়ের রনি, মাসুদুর কাসিম, তানিম আক্তার, এমরান হোসেন, নাসরিন ইসলাম রেহি, শাহ আহনাফ আক্তার, মো. আব্দুন নাসের নিবির, সাবা আজিজ, তানভীর মিয়া ও চৌধুরী মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলামকে First Officer, B-737 পদে পদায়নের তথ্য রয়েছে।
এ ছাড়া রাকিব আব্দার সামিন, সাদিক আবেদিন ও মুজাহিদ মিয়াজী তুর্নকেও First Officer পদে পদায়ন করা হয়েছে।
মুজাহিদ মিয়াজী তুর্নের ক্ষেত্রে পদায়নের সঙ্গে শেষ তিনটি ধারাবাহিক simulator training সফলভাবে সম্পন্ন করার শর্ত যুক্ত রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে ১৭ জন First Officer-এর মধ্যে ১৩ জনের নাম উল্লেখ থাকায় বাকি চারজনের নাম নিশ্চিত নথি ছাড়া প্রকাশ করা হলো না।
অন্যদিকে আটজন বৈমানিককে Captain পদে পদায়ন করা হয়েছে।
তারা হলেন—
মনজুরুল ইসলাম, শাহরিয়ার মাহমুদ ফারাজি, নাদিম হাসান, সাদাত হামিদ, এম. হাসান, আতিয়ার জুবায়ের জাহুর, মো. কাজী আমিনুর রহমান এবং আনিস রহমান।
তবে তাদের কয়েকজনের পদায়নে অতিরিক্ত শর্ত রয়েছে।
মনজুরুল ইসলামকে শেষ তিনটি ধারাবাহিক simulator training সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
শাহরিয়ার মাহমুদ ফারাজির ক্ষেত্রে পদায়ন আইনগত ছাড়পত্র পাওয়ার শর্তসাপেক্ষ করা হয়েছে।
নাদিম হাসানের ক্ষেত্রে দুটি শর্তই রয়েছে—আইনগত ছাড়পত্র পাওয়ার পাশাপাশি শেষ তিনটি ধারাবাহিক simulator training সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
মো. কাজী আমিনুর রহমানের ক্ষেত্রেও শেষ তিনটি ধারাবাহিক simulator training সফলভাবে শেষ করার শর্ত রয়েছে।
Commercial aviation-এ প্রশাসনিকভাবে Captain পদে পদোন্নতি পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট aircraft-এ Captain হিসেবে operational flight শুরু করা একই ধাপ নয়।
Airline pilot-এর command progression-এর সঙ্গে নির্ধারিত training, simulator assessment, proficiency ও operational requirement যুক্ত থাকতে পারে।
এ কারণেই বিমানের অফিস আদেশে কিছু বৈমানিকের পদোন্নতির সঙ্গে simulator training সফলভাবে শেষ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
অর্থাৎ অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে পদোন্নতির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও শর্তযুক্ত বৈমানিকদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় requirement পূরণের পরই পরবর্তী operational ও আর্থিক সুবিধা কার্যকর হবে।
Modern commercial aircraft pilot training-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে full-flight simulator।
Simulator-এ স্বাভাবিক flight operation-এর পাশাপাশি এমন বিভিন্ন পরিস্থিতির প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন করা সম্ভব, যেগুলো বাস্তব aircraft-এ ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা নিরাপদ বা বাস্তবসম্মত নয়।
এর মধ্যে engine malfunction, adverse weather, rejected take-off, system failure এবং বিভিন্ন abnormal ও emergency procedure থাকতে পারে।
ফলে simulator training শুধু aircraft চালানোর সাধারণ অনুশীলন নয়; pilot-এর decision-making, procedure অনুসরণ এবং abnormal situation management যাচাইয়েরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বিমানের অফিস আদেশে কয়েকজনের ক্ষেত্রে শেষ তিনটি ধারাবাহিক simulator training সফলভাবে সম্পন্ন করার শর্ত রাখার অর্থ হচ্ছে, তাদের পদোন্নতির পরবর্তী কার্যকারিতা নির্দিষ্ট training outcome-এর সঙ্গে যুক্ত।
অফিস আদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে পদোন্নতিপ্রাপ্ত বৈমানিকদের নতুন পদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা কার্যকর হওয়ার সময়।
আদেশে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় training সফলভাবে সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্ট বৈমানিক প্রথম flight পরিচালনার তারিখ থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেতন ও আনুষঙ্গিক ভাতা পাবেন।
ফলে শুধু অফিস আদেশ জারির তারিখ থেকেই সবার নতুন বেতন-ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে—বিষয়টি এমন নয়।
বিশেষ করে যাদের training requirement রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে training completion এবং পরবর্তী first flight গুরুত্বপূর্ণ।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত বৈমানিকদের জন্য ছয় মাসের শিক্ষানবিশকাল বা probationary period রাখা হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, পদোন্নতির তারিখ থেকে তারা ছয় মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই সময় শেষে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সন্তোষজনক প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তাদের পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে confirmation বা স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
ফলে পদোন্নতি, operational duty এবং confirmation—তিনটি বিষয়কে আলাদা পর্যায় হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
২৫ বৈমানিকের পদায়ন আদেশে একটি বিষয় স্পষ্ট—প্রতিটি pilot-এর ক্ষেত্রে একই ধরনের condition দেওয়া হয়নি।
কয়েকজনের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত শর্ত উল্লেখ নেই। আবার কারও ক্ষেত্রে simulator training, কারও ক্ষেত্রে legal clearance এবং কারও ক্ষেত্রে দুটি requirement-ই রয়েছে।
এর অর্থ, সংশ্লিষ্ট বৈমানিকের individual training, administrative বা legal status বিবেচনায় আলাদা শর্ত প্রযোজ্য হয়েছে।
তবে অফিস আদেশে ‘আইনগত ছাড়পত্র’ উল্লেখ থাকার অর্থ কোনো বৈমানিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। এটি সংশ্লিষ্ট পদায়ন কার্যকরের একটি প্রশাসনিক শর্ত হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
Airline-এর অন্যান্য অনেক প্রশাসনিক পদের তুলনায় flight crew promotion সরাসরি operational qualification-এর সঙ্গে যুক্ত।
বিশেষ করে First Officer থেকে Captain হওয়ার ক্ষেত্রে একজন pilot শুধু seniority বা চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে cockpit command পান না। Airline-এর নিজস্ব training programme এবং regulator-এর applicable requirement অনুযায়ী প্রয়োজনীয় qualification বজায় রাখতে হয়।
Captain aircraft-এর command authority বহন করেন এবং flight-এর operational decision-making-এ তার দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
তাই command upgrade-এর ক্ষেত্রে simulator performance, recurrent training, proficiency এবং operational readiness বিশেষভাবে বিবেচিত হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। নতুন aircraft বহরে যোগ হলে শুধু aircraft acquisition যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে পর্যাপ্ত qualified flight crew প্রস্তুত রাখাও প্রয়োজন।
একটি aircraft operational fleet-এ যোগ হওয়ার আগে সেই type-এর জন্য trained pilot, cabin crew, engineering support এবং maintenance capability প্রয়োজন হয়।
ফলে নিয়মিত First Officer তৈরি, experienced First Officer-দের Captain হিসেবে upgrade এবং প্রয়োজনীয় recurrent training airline-এর দীর্ঘমেয়াদি manpower planning-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমান ২৫ বৈমানিকের পদোন্নতি ও পদায়নকেও সেই বৃহত্তর flight-operations manpower management-এর প্রেক্ষাপটে দেখা যায়।
তবে এই অফিস আদেশ থেকেই পদোন্নতিগুলো সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট নতুন aircraft acquisition-এর কারণে দেওয়া হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
অফিস আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক, উপ-মহাব্যবস্থাপক, ব্যবস্থাপক, প্রশাসন সেল এবং Flight Operations-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এখন শর্তযুক্ত বৈমানিকদের প্রয়োজনীয় training ও clearance সম্পন্ন করা, প্রথম operational flight পরিচালনা এবং ছয় মাসের শিক্ষানবিশকাল শেষে confirmation—এসব প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
ফলে ২৫ বৈমানিকের পদোন্নতি একদিনে সম্পন্ন হওয়া একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন হলেও এর operational implementation হবে সংশ্লিষ্ট বৈমানিকের জন্য নির্ধারিত শর্ত ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার ভিত্তিতে।
সূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স