
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ভারতের আগরতলা থেকে দিল্লিগামী ইন্ডিগোর একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে মাঝআকাশে কার্গো এলাকায় ধোঁয়ার সতর্কতা শনাক্ত হওয়ার পর সেটিকে লখনউয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় IndiGo 6E6504 ফ্লাইটটি ১০৩ যাত্রী ও ছয় ক্রুসহ নিরাপদে অবতরণ করে। কোনো যাত্রী বা ক্রু আহত হননি।
ফ্লাইটটি পরিচালনা করছিল একটি Airbus A320neo উড়োজাহাজ। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা যায়, ডাইভারশনের সময় উড়োজাহাজটি 7700 emergency transponder code ব্যবহার করেছিল, যা সাধারণ জরুরি পরিস্থিতি নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।
আগরতলা থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে উড়োজাহাজটির কার্গো এলাকায় smoke warning indication পাওয়া যায়। এরপর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ককপিট ক্রু দিল্লির পরিবর্তে লখনউয়ে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেয়।
লখনউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিটে নিরাপদে অবতরণ করে। এতে ১০৩ যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন।
অবতরণের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে সামাল দেওয়া হয় এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
ধোঁয়ার সতর্কতার খবর পাওয়ার পর লখনউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের জরুরি সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা সক্রিয় করে।
উড়োজাহাজটি অবতরণের সময় ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ টিম, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসাকর্মী, নিরাপত্তা সদস্য এবং টার্মিনাল সাপোর্ট টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
এ ধরনের সতর্কতা পাওয়া গেলে প্রকৃতপক্ষে আগুন বা ধোঁয়া দৃশ্যমান না হলেও বিমানবন্দর ও ফ্লাইট ক্রু সাধারণত সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় জরুরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।
ঘটনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—উড়োজাহাজের কার্গো এলাকায় smoke warning indication পাওয়া গিয়েছিল। এর অর্থ এই নয় যে কার্গো হোল্ডে নিশ্চিতভাবে আগুন লেগেছিল।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রকৃত ধোঁয়া বা আগুনের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে কারিগরি পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে এটিকে ‘কার্গো হোল্ডে আগুন’ হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ নয়।
Smoke detection system বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে সম্ভাব্য ধোঁয়া শনাক্ত করে ককপিটে সতর্কতা পাঠায়। কোনো সতর্কতা পাওয়া গেলে সেটি false indication কি না নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা না করে ক্রুরা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, 6E6504 পরিচালনাকারী উড়োজাহাজটি ছিল Airbus A320-251N বা A320neo, রেজিস্ট্রেশন VT-ISY। উড়োজাহাজটি ২০২১ সালে ইন্ডিগোর বহরে যুক্ত হয়।
ডাইভারশনের পর উড়োজাহাজটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়। Hindustan Times জানিয়েছে, পরীক্ষা শেষে একই ফ্লাইট রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে লখনউ থেকে দিল্লির উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা করে।
এটি ইঙ্গিত করে যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর উড়োজাহাজটিকে আবার ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী বিবেচনা করা হয়েছিল।
মাত্র ১২ দিন আগে, ৩ সেপ্টেম্বর, একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় দিল্লিগামী Air India Express IX1253 ফ্লাইটও লখনউয়ে সতর্কতামূলক অবতরণ করেছিল।
বারাণসী থেকে দিল্লিগামী ওই ফ্লাইটের aft cargo compartment-এ smoke indication পাওয়ার পর ক্রুরা লখনউয়ে ডাইভার্ট করেন। উড়োজাহাজটি সকাল ৮টা ৫২ মিনিটে নিরাপদে অবতরণ করে।
ওই ফ্লাইটে ১৫৫ যাত্রী ছিলেন। অবতরণের পর প্রাথমিক পরীক্ষায় উড়োজাহাজের ভেতরে ধোঁয়া বা আগুনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে সতর্কতা কেন সক্রিয় হয়েছিল, তা জানতে উড়োজাহাজটি আরও কারিগরি পরীক্ষার জন্য রাখা হয়।
যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের কার্গো কম্পার্টমেন্ট ফ্লাইট চলাকালে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। এ কারণে সেখানে smoke detection system গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্তর হিসেবে কাজ করে।
কার্গো হোল্ডে ধোঁয়ার সতর্কতা পাওয়া গেলে ক্রুরা পরিস্থিতি অনুযায়ী checklist অনুসরণ করেন এবং প্রয়োজন হলে কাছের উপযুক্ত বিমানবন্দরে দ্রুত অবতরণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বিশেষ করে সম্ভাব্য আগুনের ক্ষেত্রে সময় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সতর্কতাটি পরে ভুল বা false alarm প্রমাণিত হলেও প্রাথমিকভাবে সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়াই বিমান নিরাপত্তার প্রচলিত পদ্ধতি।
ইন্ডিগো 6E6504-এর ক্ষেত্রেও একই সতর্কতামূলক নীতি অনুসরণ করে লখনউয়ে ডাইভার্ট করা হয়। উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ এবং পরবর্তী পরীক্ষার পর দিল্লির উদ্দেশে আবার যাত্রা করতে সক্ষম হওয়ায় ঘটনাটি বড় ধরনের অপারেশনাল বিপর্যয় ছাড়াই শেষ হয়েছে।
সূত্র: India Today, Hindustan Times, Times of India ও লখনউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ