
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দীর্ঘ বিরতির পর সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবারও বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওমানের স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন সালামএয়ার সিলেট–মাস্কাট রুটে সপ্তাহে তিনটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় আট বছর পর ওসমানীতে বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়মিত scheduled service ফিরেছে।
এবার সিলেটে ফ্লাইট পরিচালনায় ফ্লাইদুবাই ও এয়ার আরাবিয়ারও আগ্রহ রয়েছে বলে বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগোলে আরও বিদেশি এয়ারলাইন ওসমানী থেকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় যুক্ত হতে পারে।
বিদেশি এয়ারলাইনসের সংখ্যা বাড়লে সিলেটের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের সরাসরি ও connecting air connectivity বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য airline ও airfare বেছে নেওয়ার বিকল্পও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সালামএয়ার গত ১ সেপ্টেম্বর মাস্কাট–সিলেট সরাসরি ফ্লাইট চালু করে। এয়ারলাইনটির ঘোষণা অনুযায়ী, রুটটিতে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সিলেট–মাস্কাট রুটে নিয়মিত ফ্লাইটের বুকিংও পাওয়া যাচ্ছে।
সিলেট থেকে যাত্রী নিয়ে সালামএয়ারের OV422 ফ্লাইট মাস্কাট যায়। বিপরীত দিকে মাস্কাট থেকে সিলেটে পরিচালিত হয় OV421।
এয়ারলাইনটির নিজস্ব booking system-এ অক্টোবরেও সিলেট–মাস্কাট সরাসরি ফ্লাইট বিক্রি হচ্ছে, যা রুটটির চলমান scheduled operation নিশ্চিত করছে।
সালামএয়ারের সিলেট–মাস্কাট ফ্লাইট তথ্য
সালামএয়ার জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর মাস্কাট থেকে সিলেটের উদ্দেশে পরিচালিত inaugural flight-এ load factor ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর উদ্বোধনী ফ্লাইটটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।
সালামএয়ারের জন্য সিলেট বাংলাদেশের তৃতীয় গন্তব্য। নতুন রুট চালুর ঘোষণার সময় এয়ারলাইনটি সিলেটকে বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল aviation market-গুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
সিলেটের বিপুলসংখ্যক মানুষ ওমানে বসবাস ও কর্মরত থাকায় সরাসরি রুটটিতে উল্লেখযোগ্য প্রবাসী যাত্রী চাহিদা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেট–মাস্কাট সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা শুধু ওমানগামী যাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
মাস্কাটকে hub হিসেবে ব্যবহার করে সালামএয়ারের network-এর অন্যান্য গন্তব্যে connection পাওয়ার সুযোগ থাকায় সিলেটের যাত্রীরা নির্দিষ্ট itinerary অনুযায়ী onward connection-ও ব্যবহার করতে পারবেন।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য একটি অতিরিক্ত foreign carrier যুক্ত হওয়া airline choice বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে নতুন প্রতিযোগিতার কারণে ভাড়া অবশ্যই কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। Airfare নির্ভর করে demand, season, seat availability, fuel ও operating cost এবং airline pricing strategy-সহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
দুবাইভিত্তিক flydubai-এর সিলেটের সঙ্গে যোগাযোগ নতুন নয়।
এয়ারলাইনটি প্রথম ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল Dubai–Sylhet সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছিল। শুরুতে সপ্তাহে পাঁচটি এবং পরে daily service পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল।
তবে ground handling-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ওই সময় নিয়মিত operation ধরে রাখা যায়নি। ২০১৫ সালের প্রথম ফ্লাইটের পর service স্থগিত হওয়ার তথ্য সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।
পরবর্তী সময়ে flydubai আবার সিলেট রুটে ফিরে আসে।
এয়ারলাইনটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ ২০১৭ Dubai–Sylhet direct service পুনরায় চালু করা হয়। প্রথমে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট দিয়ে operation শুরু করে পরে তা ছয়টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল। সেবাটি বাংলাদেশের Regent Airways-এর সঙ্গে partnership-এ পরিচালিত হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে সেই operation-ও বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে flydubai আবার সিলেট থেকে service পরিচালনায় আগ্রহী বলে স্থানীয় বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এয়ারলাইনটির পক্ষ থেকে নতুন Sylhet route-এর চূড়ান্ত launch date ও schedule এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
ফলে এটিকে আপাতত সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
ফ্লাইদুবাইয়ের সিলেট রুটের আগের আনুষ্ঠানিক তথ্য
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক Air Arabia-ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাব্য বিদেশি airline-এর তালিকায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
Air Arabia-এর সঙ্গেও সিলেটের পুরোনো ইতিহাস রয়েছে। ২০১৫ সালে airlineটির সিলেটে সরাসরি service চালুর পরিকল্পনা থাকলেও ground service-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে operation শুরু করা যায়নি বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বর্তমানে নতুন করে airlineটির আগ্রহের কথা বলা হলেও কোন UAE airport থেকে Sylhet route পরিচালনা করা হবে, সপ্তাহে কতটি flight থাকবে এবং কবে operation শুরু হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত airline announcement পাওয়া যায়নি।
ফলে Air Arabia-এর সম্ভাব্য operation-কেও এখনো পরিকল্পনা ও আলোচনার পর্যায় হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামের সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক’ যুক্ত থাকলেও দীর্ঘ সময় বিদেশি airline-এর নিয়মিত scheduled operation ছিল না।
২০১৫ সালে flydubai-এর প্রথম প্রচেষ্টার সময় ground handling arrangement নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে ২০১৭ সালে service পুনরায় চালু হলেও সেটিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
ফলে সিলেটের আন্তর্জাতিক যাত্রীদের বড় অংশকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের direct service অথবা ঢাকা হয়ে অন্য airline-এর connection-এর ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে SalamAir-এর আগমন সেই দীর্ঘ বিরতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।
সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল।
যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস ও কর্মরত।
এই বাজারে direct international flight বাড়লে যাত্রীদের ঢাকা হয়ে domestic connection নেওয়ার প্রয়োজন কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে।
এর ফলে যাত্রাপথ ছোট হওয়ার পাশাপাশি baggage transfer এবং দীর্ঘ transit-এর ভোগান্তিও কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারী, প্রবীণ যাত্রী এবং বেশি baggage বহনকারী প্রবাসীদের জন্য direct connectivity গুরুত্বপূর্ণ।
একই international route বা market-এ একাধিক airline থাকলে যাত্রীরা schedule, fare এবং service বেছে নেওয়ার বেশি সুযোগ পান।
Competition বাড়লে promotional fare বা বিভিন্ন pricing option তৈরির সম্ভাবনাও বাড়ে।
তবে airfare কমবেই—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
ঈদ, ছুটি ও peak expatriate travel season-এ demand দ্রুত বেড়ে গেলে একাধিক airline থাকার পরও ticket price বেশি থাকতে পারে।
এ কারণে বিদেশি carrier-এর উপস্থিতির সবচেয়ে নিশ্চিত সুবিধা হচ্ছে বিকল্প ও seat capacity বৃদ্ধি; ভাড়া কতটা কমবে সেটি বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
Runway, terminal, cargo facility এবং airside infrastructure উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক operation-এর জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ হয়েছে।
কিন্তু একটি বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক সক্ষমতার প্রকৃত সুফল তখনই পাওয়া যায়, যখন সেই infrastructure ব্যবহার করে নিয়মিত commercial route তৈরি হয়।
সালামএয়ারের আগমন সেই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
Flydubai ও Air Arabia-ও যুক্ত হলে সিলেট থেকে Gulf region-এ foreign carrier connectivity আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
দীর্ঘমেয়াদে ওসমানীর সম্ভাবনা শুধু Middle East route-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
সিলেটের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে regional connectivity নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। সিলেট–গুয়াহাটি route-ও সম্ভাব্য regional connection হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
তবে নতুন কোনো route চালুর ক্ষেত্রে bilateral traffic rights, airline commercial viability, passenger demand এবং regulatory approval গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে সম্ভাব্য route এবং নিশ্চিত operation-এর মধ্যে পার্থক্য রাখা প্রয়োজন।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি ইতোমধ্যে ঘটেছে—সালামএয়ার এখন আর সম্ভাবনা নয়, বাস্তবে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
এখন নজর থাকবে flydubai এবং Air Arabia-এর দিকে।
দুই airline যদি প্রয়োজনীয় regulatory ও commercial process শেষ করে Sylhet operation শুরু করে, তাহলে ওসমানী থেকে বিদেশি carrier-এর সংখ্যা আরও বাড়বে এবং Gulf market-এ যাত্রীদের জন্য নতুন বিকল্প তৈরি হবে।
সিলেটের বড় expatriate passenger base, চলমান airport infrastructure development এবং সরাসরি international travel-এর চাহিদা বিবেচনায় ওসমানী একটি বড় aviation market হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের মূল পরীক্ষা হবে—বিদেশি airline-গুলোকে শুধু আকৃষ্ট করা নয়, দীর্ঘমেয়াদে commercially sustainable scheduled operation ধরে রাখা।
তথ্যসূত্র: ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর