
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রার বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি একেবারে নতুন ATR 72-600 উড়োজাহাজ। এটি হবে এয়ারলাইনটির বহরে যুক্ত হওয়া দ্বিতীয় ব্র্যান্ড নিউ ATR 72-600। নতুন উড়োজাহাজটি শিগগিরই বাংলাদেশে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে।
নতুন এয়ারক্রাফটটি যুক্ত হলে এয়ার অ্যাস্ট্রার বহরের সক্ষমতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা, সময়সূচি ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীসেবার সক্ষমতা বাড়াতে উড়োজাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন বাজারে কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজের বহর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি এয়ারলাইনের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়লে বিদ্যমান রুটে ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো, সময়সূচিতে নমনীয়তা আনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন গন্তব্যে সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়।
এয়ার অ্যাস্ট্রার নতুন ATR 72-600 বহরে যুক্ত হওয়ার পর এয়ারলাইনটির অপারেশনাল সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে কোনো উড়োজাহাজ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে থাকলেও পর্যাপ্ত বহর থাকলে ফ্লাইট সূচিতে তার প্রভাব কমিয়ে আনা তুলনামূলক সহজ হয়। ফলে যাত্রীসেবায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বহর সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ।
ATR 72-600 মূলত স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের আঞ্চলিক রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য তৈরি টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আঞ্চলিক এয়ারলাইনগুলো এই মডেলের উড়োজাহাজ ব্যবহার করে থাকে।
সাধারণ কনফিগারেশনে ATR 72-600 প্রায় ৭০ জনের বেশি যাত্রী বহন করতে সক্ষম। তুলনামূলক স্বল্প দূরত্বের রুট এবং আঞ্চলিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অপারেশনের জন্য উড়োজাহাজটির নকশা বিশেষভাবে উপযোগী।
জেট উড়োজাহাজের তুলনায় স্বল্প দূরত্বের অনেক রুটে টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজের জ্বালানি ব্যবহার তুলনামূলক কম হতে পারে। ফলে বাংলাদেশের মতো ছোট ভৌগোলিক পরিসরে অভ্যন্তরীণ রুট পরিচালনায় ATR 72 সিরিজের উড়োজাহাজ কার্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন বাজারে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত যাত্রী চলাচল রয়েছে।
বিশেষ করে ব্যবসায়িক যাত্রী, পর্যটক এবং জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণকারীদের কাছে সময় সাশ্রয়ের কারণে আকাশপথ গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার ফলে এয়ার অ্যাস্ট্রা বিদ্যমান রুটে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারবে। ভবিষ্যতে এয়ারলাইনটির নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা অনুযায়ী ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি কিংবা নতুন রুট চালুর ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত উড়োজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে নতুন উড়োজাহাজটি কোন কোন রুটে ব্যবহার করা হবে কিংবা এর মাধ্যমে নতুন কোনো গন্তব্য চালুর পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
একেবারে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি শুধু এয়ারলাইনের বহরের আকার বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজে আধুনিক এভিওনিক্স, কেবিন সুবিধা এবং পরিচালন দক্ষতার বিভিন্ন উন্নয়ন থাকে।
ATR 72-600-এর আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি দক্ষতা এয়ারলাইনের পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আঞ্চলিক রুটে নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।
একই ধরনের উড়োজাহাজকেন্দ্রিক বহর পরিচালনার আরেকটি সুবিধা হলো পাইলট ও প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলক সমন্বয় রাখা যায়।
দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন খাতে একটি বেসরকারি এয়ারলাইনের বহরে ধারাবাহিকভাবে ব্র্যান্ড নিউ উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়া বাজারটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন উড়োজাহাজে বিনিয়োগ এয়ারলাইনটির দীর্ঘমেয়াদি বহর ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীদের জন্য ফ্লাইটের বিকল্প ও আসন সক্ষমতা বাড়াতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন ATR 72-600 বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, কারিগরি ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যুক্ত হওয়ার কথা।
উড়োজাহাজটি অপারেশনে এলে এয়ার অ্যাস্ট্রার বহর আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগে এয়ারলাইনটির সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: এয়ার অ্যাস্ট্রা