
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় তিন ব্যক্তির কাছ থেকে ৮৬১.৮ গ্রাম বা প্রায় ৭৪ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ঘটনায় আটক তিনজন হলেন—মো. নাসির মোল্লা (৪০), সোহাগ শেখ (২৪) এবং মো. হাছান মিয়া (২৩)।
এয়ারপোর্ট এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের গোলচত্বরসংলগ্ন উত্তর পাশের ফুটপাতে তিনজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন দায়িত্বে থাকা সদস্যরা।
এপিবিএনের সদস্যরা তাদের কাছে গেলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। পরে তিনজনকে আটক করে তল্লাশি করা হয়।
এপিবিএন জানায়, আটক ব্যক্তিদের শরীর তল্লাশি করে বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। পরে সেগুলোর মোট ওজন পাওয়া যায় ৮৬১.৮ গ্রাম।
বাংলাদেশে প্রচলিত হিসাবে প্রতি ভরি ১১.৬৬৪ গ্রাম ধরলে এর পরিমাণ প্রায় ৭৩.৯ ভরি, অর্থাৎ প্রায় ৭৪ ভরি।
উদ্ধার করা অলংকারের মধ্যে ২১ ও ২২ ক্যারেটের স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে জানিয়েছে এপিবিএন।
সংস্থাটির হিসাবে উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এপিবিএন জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে স্বর্ণালংকারগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
এপিবিএনের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে আগে থেকেই সম্পৃক্ত থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।
তবে এসব তথ্য প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পাওয়া দাবি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
একই সঙ্গে কোন দেশ থেকে স্বর্ণগুলো আনা হয়েছিল, কোন যাত্রী এগুলো বহন করেছিলেন এবং বিমানবন্দর এলাকা পর্যন্ত কীভাবে পৌঁছেছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আটক তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এপিবিএন জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি)/২৫-ডি ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে স্বর্ণের উৎস, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পদ্ধতি এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় সামনে আসতে পারে।
এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এপিবিএন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, “চোরাচালান প্রতিরোধ ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বরাবরের মতো সক্রিয় রয়েছে। স্বর্ণ ও মাদকসহ সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বিমানবন্দর ব্যবহার করে কোনো ধরনের চোরাচালান বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে এপিবিএন।
ঘটনাটি বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরে যাত্রী ব্যাগেজ তল্লাশির সময় নয়, বরং বিমানবন্দর গোলচত্বরসংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে। ফলে তদন্তে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে—উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারগুলো কার কাছ থেকে এসেছে, সংশ্লিষ্ট বিদেশফেরত যাত্রীদের শনাক্ত করা যায় কি না এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক কোনো বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের যোগসূত্র রয়েছে কি না।
সূত্র: এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)