
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়ানো এবং দেশকে সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট (বিটিএম)’। আগামী ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ট্রাভেল মার্টে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের ১৩০টি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান এবং শতাধিক পর্যটন খাতের স্টেকহোল্ডার অংশ নেবেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, তিন দিনের এ আয়োজনে প্রায় দেড় লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বোটোয়ার সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ এসব তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টে বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, এয়ারলাইনস, হোটেল, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতাদের একই প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফলে এটি শুধু সাধারণ ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য পর্যটন মেলা নয়; পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
ট্রাভেল মার্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর মহসীন ইকবাল বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারের সরাসরি সংযোগ আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রথম বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে B2B (Business-to-Business) এবং B2C (Business-to-Consumer) কার্যক্রমের জন্য পৃথক দুটি হল।
B2B অংশটি মূলত পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের পেশাজীবী এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য।
এখানে আন্তর্জাতিক হোস্টেড বায়ারদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বায়ার-সেলার মিটিং, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং এবং সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটর, হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইনস ও অন্যান্য পর্যটনসেবা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সামনে তাদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরতে পারবে।
এ ধরনের সরাসরি B2B যোগাযোগ ভবিষ্যতে যৌথ ট্যুর প্যাকেজ, নতুন পর্যটন পণ্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যটক বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
B2C প্ল্যাটফর্মটি থাকবে সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য।
এখানে দর্শনার্থীরা দেশি-বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসাসংক্রান্ত সেবা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যের বিশেষ অফার সম্পর্কে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে জানতে পারবেন।
একই জায়গায় একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকায় বিভিন্ন প্যাকেজ ও সেবার তুলনা করার সুযোগও তৈরি হবে।
তবে মেলায় কোনো ভ্রমণ প্যাকেজ, টিকিট বা হোটেল বুকিং কেনার আগে মূল্য, কর ও অন্যান্য চার্জ, বাতিলের শর্ত, রিফান্ড নীতি এবং প্যাকেজে কোন কোন সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ভিসা সেবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকারি নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি বিনিয়োগ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং আতিথেয়তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই ট্রাভেল মার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, সংগঠনটি দেশের আউটবাউন্ড পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করলেও ইনবাউন্ড পর্যটন সম্প্রসারণ, বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং নিয়েও কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্প্রসারণে বিমান যোগাযোগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোনো পর্যটন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট, সহজ সংযোগ, প্রতিযোগিতামূলক বিমানভাড়া এবং সুবিধাজনক ফ্লাইট সূচি থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে সেই গন্তব্যের আকর্ষণ বাড়তে পারে।
এ কারণে ট্রাভেল মার্টে এয়ারলাইনস, ট্যুর অপারেটর, হোটেল এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিষ্ঠানের একই প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পর্যটন ও বিমান পরিবহন খাতের জন্য নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ দিতে পারে।
বিশেষ করে বিদেশি ট্যুর অপারেটর ও হোস্টেড বায়ারদের কাছে বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যের পাশাপাশি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ তুলে ধরাও ইনবাউন্ড পর্যটন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজকদের মতে, প্রথম বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টের লক্ষ্য শুধু বিদেশে বাংলাদেশিদের ভ্রমণের সুযোগ তুলে ধরা নয়; একই সঙ্গে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা এবং দেশের পর্যটন পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করাও এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, পাহাড়ি অঞ্চল, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন, গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা গেলে নতুন বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা থেকে তৈরি ব্যবসায়িক যোগাযোগকে বাস্তব পর্যটক প্রবাহে রূপ দিতে পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক প্রচারণা, উন্নত পর্যটনসেবা, সহজ যাতায়াত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রথম বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট দেশের পর্যটন, ভ্রমণ ও বিমান পরিবহন খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে নতুন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বোটোয়া)-এর সংবাদ সম্মেলন