
এভিয়েশন বার্তা বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান এবং এতে বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিমানবন্দরের এরোড্রাম কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিনহাজুল আলমকে প্রধান করে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) কমিটি গঠন করা হয়। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় রোববার।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর হোসেন তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান এবং এতে বিমানবন্দরের কিছু কর্মীর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে গত ১৯ জুলাইয়ের একটি ঘটনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক করেন কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
পরে ওই যাত্রীর শরীর তল্লাশি করে মোট ৩২০ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর মধ্যে ২২০ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়। বাকি ১০০ গ্রাম স্বর্ণ ব্যাগেজ সুবিধার আওতায় নিয়ম অনুযায়ী ফেরত দিয়ে ওই যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।
ঘটনাটিকে ঘিরে গুরুতর যে অভিযোগটি উঠেছে তা হলো—আনুষ্ঠানিক তল্লাশির আগে ও তল্লাশির সময় বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন ব্যক্তি কৌশলে ওই যাত্রীর কাছ থেকে কয়েকটি স্বর্ণের বার নিয়ে নিয়েছিলেন।
তবে অভিযোগটির সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। কোন কর্মী বা কর্মকর্তা এতে জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা আদৌ এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল কি না—সেটিই তদন্ত কমিটি যাচাই করবে।
ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে স্বর্ণ চোরাচালান বা স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত হিসেবে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের সার্বিক বিষয় যাচাই করে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটি মূলত ১৯ জুলাইয়ের ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বা তদারকি ব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য, যাত্রী তল্লাশির তথ্য এবং বিমানবন্দরের অন্যান্য রেকর্ডও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় কাস্টমস, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সংস্থার একাধিক স্তরের কার্যক্রম থাকে। ফলে দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে চোরাচালানে সহায়তা বা উদ্ধার করা স্বর্ণ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলে সেটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন নজর থাকবে পাঁচ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকা তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। সেই প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হওয়ার কথা—১৯ জুলাইয়ের ঘটনায় বিমানবন্দরের কোনো কর্মীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা দুর্বলতা পাওয়া গেছে কি না।
সূত্র: চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র