
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দীর্ঘ ৪২ বছর পর বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসছে। ১৯৮৪ সালের পুরোনো বিধিমালা প্রতিস্থাপন করে নতুন ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন বিধিমালায় বিমান খাতে বিনিয়োগ সহজ করা, যাত্রীসেবার মান বাড়ানো, aviation safety ও security শক্তিশালী করার পাশাপাশি aircraft financing, leasing, maintenance এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারকে সময়োপযোগী করার উদ্যোগ রয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নতুন বিধিমালার খসড়া চূড়ান্তকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ওয়েবসাইটেও তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেছেন, নতুন বিধিমালা অবশ্যই business ও investment-friendly হতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে safety ও security নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশের বিদ্যমান Civil Aviation Rules প্রণীত হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। এরপর চার দশকের বেশি সময়ে বৈশ্বিক aviation industry-তে বড় পরিবর্তন এসেছে।
আধুনিক উড়োজাহাজের প্রযুক্তি, aircraft leasing ও financing, drone operation, aviation cybersecurity, environmental compliance, passenger service এবং airport management—সব ক্ষেত্রেই নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
সরকারের প্রস্তাবিত Civil Aviation Rules, 2026 বিদ্যমান ১৯৮৪ সালের বিধিমালা প্রতিস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। খসড়াটি Civil Aviation Act, 2017-এর অধীনে তৈরি করা হয়েছে এবং জুলাইয়ে stakeholder feedback-এর জন্য প্রকাশ করা হয়েছিল।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, Civil Aviation Rules, 2026 এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে খসড়ার সব বিধান কার্যকর নিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে না।
১ সেপ্টেম্বরের সভায় উপস্থিত airline প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তারা aviation sector-এর মূল stakeholder। বিনিয়োগ সহজ করার লক্ষ্যে নতুন বিধিমালা তৈরিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সরকারি-বেসরকারি stakeholder-এর মতামতের ভিত্তিতে এমন regulatory framework তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে safety ও regulatory compliance বজায় রেখেই airline business এবং নতুন বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা কমানো যায়।
সভায় বেসরকারি airline-গুলোর পক্ষ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত বিধিমালার বিভিন্ন ধারা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় Irrevocable Deregistration and Export Request Authorisation বা IDERA।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, Cape Town Convention-এর শর্ত অনুসরণ করে IDERA-সংক্রান্ত বিধান নতুন regulatory framework-এ যুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর উদ্দেশ্য aircraft-related international financing ও leasing-এর সঙ্গে যুক্ত অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
আধুনিক airline industry-তে অনেক উড়োজাহাজ সরাসরি কিনে নেওয়ার পরিবর্তে international lessor-এর কাছ থেকে lease নেওয়া হয়।
IDERA framework মূলত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে creditor বা অনুমোদিত পক্ষকে aircraft deregistration ও export-এর জন্য একটি পূর্বনির্ধারিত আইনি ব্যবস্থা দেয়। ফলে aircraft financier ও lessor-এর asset protection-এর ক্ষেত্রে regulatory certainty বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের airline-গুলো ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে aircraft lease বা financing করার ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত legal framework থেকে সুবিধা পেতে পারে।
তবে নতুন বিধিমালায় IDERA-এর চূড়ান্ত ভাষা ও বাস্তব প্রয়োগ কী হবে, সেটি বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পরই নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের Maintenance, Repair and Overhaul (MRO) facility গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।
দেশি ও বিদেশি airline-এর aircraft maintenance-এর সুবিধার্থে international-standard MRO Unit স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে complex aircraft component-এর maintenance, repair ও overhaul-সংক্রান্ত বিদ্যমান জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
MRO aviation industry-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
Aircraft-কে airworthy রাখতে নিয়মিত inspection, maintenance, component repair এবং নির্দিষ্ট সময় পর বড় ধরনের check প্রয়োজন হয়। দেশে প্রয়োজনীয় facility বা approval না থাকলে কিছু কাজের জন্য aircraft বা component বিদেশের MRO facility-তে পাঠাতে হতে পারে।
বাংলাদেশে পর্যাপ্ত সক্ষমতার আন্তর্জাতিক মানের MRO ecosystem তৈরি হলে ভবিষ্যতে দেশীয় airline-গুলোর maintenance logistics সহজ করার পাশাপাশি foreign airline-এর maintenance business আকৃষ্ট করার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
তবে পরিকল্পিত MRO facility-এর অবস্থান, বিনিয়োগ, সক্ষমতা, approval category বা বাস্তবায়নের সময়সীমা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়নি।
নতুন বিধিমালার আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে private-sector participation।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, বেসরকারি উদ্যোগে civil airport স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের airport infrastructure development-এ private investment-এর জন্য নতুন regulatory opportunity তৈরি হতে পারে।
তবে airport establishment সাধারণ commercial project-এর মতো নয়। Land use, airspace, safety, security, environmental impact, navigation infrastructure এবং regulatory approval-সহ বহু বিষয় এর সঙ্গে জড়িত।
তাই ‘প্রক্রিয়া সহজ করা’ মানে aviation safety বা regulatory requirement শিথিল করা—এমন নয়। চূড়ান্ত বিধিমালায় private airport-এর approval framework কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রকাশিত draft rules-এ বাংলাদেশের airspace-এ commercial এবং general drone operation নিয়ে বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
Drone বা Unmanned Aircraft System-এর ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। Photography ও media production-এর পাশাপাশি survey, mapping, agriculture, infrastructure inspection এবং delivery service-সহ বিভিন্ন commercial কাজে drone ব্যবহার হচ্ছে।
অন্যদিকে airport বা restricted airspace-এর কাছে অনিয়ন্ত্রিত drone operation aircraft safety ও security-এর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফলে একটি আধুনিক civil aviation regulatory framework-এ drone registration, operation, restricted airspace এবং approval mechanism গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আধুনিক airport ও airline operation ক্রমেই digital system-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় sensitive information technology system এবং communication network-কে unlawful interference থেকে সুরক্ষিত রাখতে Civil Aviation Authority-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ aviation security এখন শুধু airport perimeter, passenger screening বা baggage inspection-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
Air traffic system, airline network, airport operational database এবং communication infrastructure-সহ critical digital system-এর নিরাপত্তাও modern aviation security-এর অংশ।
Draft Civil Aviation Rules, 2026-এ airline-গুলোর জন্য International Aviation Carbon Emission Reduction Plan তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক aviation sector-এ environmental sustainability এবং carbon emission reduction ক্রমেই regulatory priority হয়ে উঠছে।
ফলে বাংলাদেশের নতুন বিধিমালায় environmental responsibility যুক্ত হওয়া দেশের aviation regulation-কে পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়।
তবে final rules-এ এই requirement ঠিক কীভাবে থাকবে এবং কোন airline বা operation-এর ক্ষেত্রে কী compliance obligation থাকবে, তা চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে।
প্রকাশিত draft-এ Bangladesh-registered aircraft-এর international air navigation-এর ক্ষেত্রে valid noise certificate-সংক্রান্ত requirement রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।
Aircraft noise আন্তর্জাতিক aviation regulation-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ environmental issue।
বিশেষ করে densely populated airport area এবং আন্তর্জাতিক operation-এর ক্ষেত্রে aircraft-এর noise certification applicable technical standards-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।
Airport infrastructure-এর fire safety নিয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বিমানবন্দরের physical infrastructure-এর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস অন্তর inspection ও drill আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
Airport fire safety শুধু aircraft accident response-এর বিষয় নয়।
Passenger terminal, electrical system, fuel-related facility, cargo area, hangar এবং অন্যান্য operational infrastructure-এর জন্যও fire prevention ও emergency preparedness প্রয়োজন।
নিয়মিত inspection এবং exercise-এর মাধ্যমে equipment readiness, emergency response procedure এবং সংশ্লিষ্ট personnel-এর preparedness যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়।
নতুন বিধিমালাকে শুধু airline বা aircraft regulation-কেন্দ্রিক না রেখে passenger service-এর বিষয়েও প্রয়োজনীয় provision যুক্ত করার কথা বলেছেন বিমানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের aviation market সম্প্রসারণের সঙ্গে passenger rights ও service quality-এর গুরুত্বও বাড়ছে।
Flight disruption, baggage handling, airport service এবং airline-passenger relationship-এর মতো বিষয়ে একটি পরিষ্কার regulatory environment যাত্রীসেবার সামগ্রিক মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে নতুন বিধিমালায় passenger protection-এর কোন কোন বিষয় এবং কী ধরনের enforceable provision শেষ পর্যন্ত রাখা হবে, সেটি final text প্রকাশের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নতুন বিধিমালার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও draft-এর কিছু provision নিয়ে aviation industry থেকে প্রশ্নও উঠেছে।
জুলাইয়ে draft প্রকাশের পর Air Astra-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেছিলেন, প্রস্তাবিত কয়েকটি provision ICAO guideline-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তাদের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তিনি এমন সময়ে international standard-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ regulation-এর গুরুত্বের কথা বলেন, যখন দেশের aviation sector-এ নতুন aircraft acquisition-এর জন্য বড় বিনিয়োগ প্রত্যাশিত।
এটি stakeholder consultation-এর গুরুত্বও তুলে ধরে। কারণ চূড়ান্ত বিধিমালা তৈরির ক্ষেত্রে regulator-এর safety ও oversight requirement এবং airline industry-এর operational ও investment concern—দুই দিকই বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
১ সেপ্টেম্বরের সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন stakeholder উপস্থিত ছিলেন।
১৯৮৪ সালের পর বাংলাদেশের aviation sector আমূল বদলে গেছে। দেশের international passenger market বেড়েছে, private airline industry তৈরি হয়েছে, aircraft leasing গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে, drone ও cybersecurity-এর মতো নতুন ক্ষেত্র সামনে এসেছে এবং airport infrastructure-এ বড় বিনিয়োগ হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় নতুন Civil Aviation Rules একটি গুরুত্বপূর্ণ regulatory reform।
IDERA aircraft financing ও leasing-এর ক্ষেত্রে legal certainty বাড়াতে পারে, MRO initiative দেশে নতুন aviation business ecosystem তৈরির সুযোগ দিতে পারে এবং drone, cybersecurity ও carbon emission-এর মতো বিষয় নতুন regulatory framework-কে সময়োপযোগী করতে পারে।
তবে এগুলোর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত বিধিমালার ভাষা, ICAO standards-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং regulator ও industry stakeholder-দের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর।
সরকার ইতোমধ্যে খসড়া প্রকাশ করে stakeholder feedback নিয়েছে এবং ১ সেপ্টেম্বর draft finalisation meeting করেছে। এখন aviation industry-এর নজর থাকবে—৪২ বছরের পুরোনো বিধিমালা প্রতিস্থাপন করে Civil Aviation Rules, 2026 শেষ পর্যন্ত কোন কাঠামোয় চূড়ান্ত ও কার্যকর হয়।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)