
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক: ঢাকা থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সে ভ্রমণকারী যোগ্য ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য ইস্তাম্বুলে বিনামূল্যে হোটেলে থাকার সুযোগ রয়েছে। এয়ারলাইন্সটির ‘স্টপওভার ইন ইস্তাম্বুল’ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীরা চার তারকা হোটেলে এক রাত এবং বিজনেস ক্লাসের যাত্রীরা পাঁচ তারকা হোটেলে দুই রাত বিনামূল্যে থাকতে পারবেন।
হোটেল সুবিধার সঙ্গে সকালের নাশতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে ঢাকা থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার গন্তব্যে ভ্রমণকারীরা দীর্ঘ ট্রানজিটকে কাজে লাগিয়ে ইস্তাম্বুলে স্বল্প সময়ের ভ্রমণের সুযোগ নিতে পারবেন।
স্টপওভার সুবিধা পেতে যাত্রীকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত রাউন্ড-ট্রিপ ভ্রমণসূচিতে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর হয়ে যাতায়াত করতে হবে। যাত্রার শুরু এবং ফিরতি গন্তব্যের দেশ একই হতে হবে।
একই সঙ্গে ইস্তাম্বুলে আগমন ও পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটের মধ্যে কমপক্ষে ২০ ঘণ্টার ট্রানজিট থাকতে হবে।
যোগ্য যাত্রীরা পুরো রাউন্ড-ট্রিপ ভ্রমণে একবার এই সুবিধা নিতে পারবেন। অর্থাৎ যাওয়ার পথে অথবা ফেরার পথে—যেকোনো একদিকে বিনামূল্যের স্টপওভার হোটেল ব্যবহার করা যাবে।
টার্কিশ এয়ারলাইন্সের স্টপওভার কর্মসূচিতে ভ্রমণের শ্রেণিভেদে হোটেল সুবিধাতেও পার্থক্য রয়েছে।
ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীরা চার তারকা হোটেলে এক রাত এবং বিজনেস ক্লাসের যাত্রীরা পাঁচ তারকা হোটেলে দুই রাত বিনামূল্যে থাকার সুযোগ পাবেন। উভয় ক্ষেত্রেই সকালের নাশতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কেউ বিনামূল্যে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন ইস্তাম্বুলে থাকতে চাইলে বিশেষ মূল্যে হোটেল বুকিং বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে। অতিরিক্ত রাতের মূল্য ৪৯ মার্কিন ডলার থেকে শুরু হতে পারে।
বিনামূল্যের হোটেল সুবিধা পাওয়া গেলেও স্টপওভার কর্মসূচির সব খরচ টার্কিশ এয়ারলাইন্স বহন করবে না।
বিশেষ করে তুরস্কের ভিসা বা ই-ভিসার ফি এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে হোটেল বা শহরে যাতায়াতের পরিবহন খরচ যাত্রীকেই বহন করতে হবে।
তাই বাংলাদেশি যাত্রীদের স্টপওভার বুক করার আগে তুরস্কে প্রবেশের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় ভিসা আছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ভিসার শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে তুরস্ক ভ্রমণে ভিসা প্রয়োজন। তবে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে অনলাইনে ই-ভিসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তুরস্কের সরকারি ই-ভিসা ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধ শেনজেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য অথবা আয়ারল্যান্ডের ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট থাকলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ই-ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।
তাই শুধু টার্কিশ এয়ারলাইন্সের স্টপওভার হোটেলের যোগ্যতা থাকলেই তুরস্কে প্রবেশ নিশ্চিত হয় না। ভ্রমণের আগে যাত্রীর নিজের পাসপোর্ট ও ভিসা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রবেশের শর্ত যাচাই করতে হবে।
‘স্টপওভার ইন ইস্তাম্বুল’ সুবিধা নিতে আগ্রহী যাত্রীদের প্রথম ফ্লাইটের কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টা আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে।
যোগ্য যাত্রীরা টার্কিশ এয়ারলাইন্সের অনলাইন স্টপওভার ব্যবস্থার মাধ্যমে হোটেল ভাউচার সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। প্রয়োজনে বাংলাদেশে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও বিস্তারিত তথ্য নেওয়া যাবে।
ভ্রমণের তারিখ, টিকিটের ধরন, রুট এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী সুবিধা প্রযোজ্য কি না, বুকিংয়ের আগেই তা যাচাই করা উচিত।
ঢাকা থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা ইস্তাম্বুলের মাধ্যমে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের গন্তব্যে সংযোগ নিতে পারেন।
সাধারণত দীর্ঘ ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য বাড়তি অপেক্ষার কারণ হলেও ‘স্টপওভার ইন ইস্তাম্বুল’ কর্মসূচি সেই সময়কে স্বল্পমেয়াদি পর্যটনের সুযোগে পরিণত করছে।
যোগ্য বাংলাদেশি যাত্রীরা প্রয়োজনীয় ভিসা ও প্রবেশের শর্ত পূরণ করে এই সুবিধা ব্যবহার করলে ট্রানজিটের সময় ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক ও পর্যটন আকর্ষণগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত হোটেল খরচ এয়ারলাইন্স বহন করায় দীর্ঘ যাত্রায় অতিরিক্ত আবাসন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।
সূত্র: টার্কিশ এয়ারলাইন্স, তুরস্কের সরকারি ই-ভিসা পোর্টাল