
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একদিনে পৃথক অভিযানে ৬২৫ কার্টন বিদেশি সিগারেটসহ হোয়াইটেনিং সিরাম, জর্দা ও বিদেশি লিকার আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। সংস্থাটির বি ও সি-শিফটের এসব অভিযানে আটক পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা।
দুবাই, দিল্লি ও কাতার থেকে আসা পৃথক ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য আটক করা হয়। গোপন তথ্য ও যাত্রীদের ওপর নজরদারির ভিত্তিতে অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।
নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের EK584 ফ্লাইটে বিশেষ নজরদারি চালায় সিআইআইডির বি-শিফট।
ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে দুজন গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তাদের ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। এ সময় মোট ৫৪০ কার্টন বিদেশি সিগারেট এবং ১ দশমিক ২৪ কেজি হোয়াইটেনিং সিরাম আটক করা হয়।
সিআইআইডির হিসাবে, এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
গ্রিন চ্যানেল সাধারণত ঘোষণা করার মতো শুল্কযোগ্য পণ্য নেই—এমন যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে গোয়েন্দা তথ্য ও যাত্রী প্রোফাইলিংয়ের ভিত্তিতে এ এলাকায় নজরদারি ব্যাগেজ সুবিধার সম্ভাব্য অপব্যবহার শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে দিল্লি থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার AI237 ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর নজরদারি চালায় সিআইআইডির সি-শিফট।
এ সময় দুই যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৮৫ কার্টন বিদেশি সিগারেটের পাশাপাশি হোয়াইটেনিং সিরাম ও জর্দা আটক করা হয়।
সি-শিফটের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, এদিনের অভিযানে মোট ২৭৬ পিস Biscos Whitening Serum এবং পাঁচ কেজি জর্দা আটক করা হয়েছে।
একই শিফটের আরেকটি অভিযানে কাতার থেকে আসা QR640 ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে তিন লিটার বিদেশি লিকার আটক করা হয়।
দিল্লি ও কাতারের ফ্লাইট ঘিরে সি-শিফটের অভিযানে সব মিলিয়ে ৮৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ২৭৬ পিস হোয়াইটেনিং সিরাম, পাঁচ কেজি জর্দা এবং তিন লিটার বিদেশি লিকার আটক করা হয়েছে।
এসব পণ্যের সম্মিলিত আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।
সিআইআইডির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বি ও সি-শিফটের পৃথক অভিযানে সব মিলিয়ে ৬২৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ১ দশমিক ২৪ কেজি ও ২৭৬ পিস হোয়াইটেনিং সিরাম, পাঁচ কেজি জর্দা এবং তিন লিটার বিদেশি লিকার আটক করা হয়েছে।
বি-শিফটের অভিযানে আটক পণ্যের আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৮০ হাজার এবং সি-শিফটের অভিযানে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে একদিনে আটক পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮ লাখ টাকা।
তবে দুবাই, দিল্লি ও কাতার থেকে আসা পৃথক ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে পণ্যগুলো আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে কোনো পারস্পরিক যোগসূত্র রয়েছে—এমন তথ্য সিআইআইডির দেওয়া তথ্যে উল্লেখ নেই।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান ও ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে গোপন তথ্য সংগ্রহ, যাত্রী প্রোফাইলিং এবং গ্রিন চ্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারির অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সূত্র: কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)