
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দীর্ঘ ফ্লাইটে ক্লান্তি মোকাবিলায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ককপিটেই স্বল্প সময়ের জন্য ঘুমাতে পারেন পাইলটরা। তবে এটি সাধারণ ঘুম নয়। Controlled Cockpit Rest নামে পরিচিত এই ব্যবস্থা কঠোর নিরাপত্তা পদ্ধতির অধীনে পরিচালিত হয় এবং একই সময়ে একজন পাইলটই বিশ্রাম নিতে পারেন।
জার্মান পাইলটদের সংগঠন Vereinigung Cockpit-এর ৯০০-এর বেশি পাইলটের একটি non-representative জরিপে ৯৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফ্লাইট চলাকালে তারা ন্যাপ নিয়েছেন। সংগঠনটির উদ্বেগ Controlled Rest নিয়ে নয়; বরং এটি যেন কর্মীস্বল্পতা, কঠিন ডিউটি সূচি বা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি সামাল দেওয়ার নিয়মিত বিকল্প হয়ে না ওঠে।
EASA-এর নির্দেশনায় Controlled Rest-এর সময় সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট, যাতে প্রকৃত ঘুম প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে সীমিত থাকে। এরপর sleep inertia কাটাতে ২০ মিনিট recovery period রাখতে হয়। বিশ্রাম শেষ হতে হবে descent শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো—একই সময়ে দুই পাইলট ঘুমাতে পারবেন না। একজন বিশ্রাম নিলে অন্যজনকে সম্পূর্ণ সজাগ থেকে উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী cabin crew-এর সঙ্গে যোগাযোগ ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
NASA-সমর্থিত গবেষণায় দেখা গেছে, পরিকল্পিত স্বল্প সময়ের বিশ্রাম পরবর্তী descent ও landing-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পাইলটদের সতর্কতা ও কর্মদক্ষতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি কখনোই নিয়মিত ঘুম বা পর্যাপ্ত duty rest-এর বিকল্প নয়।
কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে Controlled Rest-এর জন্য সরাসরি বিধিবদ্ধ ব্যবস্থাও রয়েছে। কানাডার বর্তমান নিয়মে এটি cruise phase-এ সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট এবং descent-এর অন্তত ৩০ মিনিট আগে শেষ করতে হয়।
অর্থাৎ ককপিটে পাইলটের ঘুম মানেই নিরাপত্তায় অবহেলা নয়। অনুমোদিত ব্যবস্থায় এটি বরং fatigue management-এর একটি নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা—যেখানে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণে সবসময় একজন যোগ্য ও সজাগ পাইলট থাকা বাধ্যতামূলক।
সূত্র: European Union Aviation Safety Agency (EASA)