
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ১২ নম্বর খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার (১০ জুলাই) থেকে খালটির পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খালটির নাব্যতা ও পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ভারী বৃষ্টির সময় বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকার পানি দ্রুত অপসারণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এ কার্যক্রম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সামগ্রিক জলাবদ্ধতা নিরসন উদ্যোগেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে থেকে পুনঃখনন কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকি করছেন।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্ণফুলী নদীর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি এবং পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে বিমানবন্দর ও আশপাশের নিচু এলাকায় পানি জমার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ কারণে বিমানবন্দরের নিজস্ব drainage system-এর পাশাপাশি আশপাশের খাল ও পানি নিষ্কাশন পথগুলো সচল থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
১২ নম্বর খালে পলি জমে পানি প্রবাহের সক্ষমতা কমে গেলে বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। পুনঃখননের মাধ্যমে খালটির পানি ধারণ ও নিষ্কাশন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এতে বিমানবন্দর এলাকার পানি দ্রুত কর্ণফুলী নদীর দিকে নিষ্কাশনের সুযোগ বাড়বে।
একটি বিমানবন্দরের runway-তে কার্যকর drainage ব্যবস্থা flight safety-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ভারী বৃষ্টির সময় runway surface-এ অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে উড়োজাহাজের চাকা ও runway surface-এর মধ্যকার কার্যকর সংযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অতিরিক্ত পানি থাকলে aircraft braking performance প্রভাবিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে hydroplaning বা aquaplaning-এর ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এ কারণেই বৃষ্টির মধ্যে বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে runway condition নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট operational procedure অনুসরণ করা হয়।
তবে বিমানবন্দরের আশপাশে জলাবদ্ধতা দেখা দিলেই runway অনিরাপদ হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। প্রকৃত runway condition সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ ও operational assessment-এর ওপর নির্ভর করে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, ১২ নম্বর খালের পাশাপাশি নগরের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খালের মোহনায় জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে রাজাখালী, চাক্তাই, ফিশারি খাল ও মহেশখাল।
এসব স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী grab dredger এবং cutter suction dredger ব্যবহার করে পলি ও পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী উপাদান অপসারণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
লক্ষ্য হচ্ছে খালগুলোর পানি কর্ণফুলী নদীতে যাওয়ার পথ আরও কার্যকর রাখা।
নগরীর ভেতরের drainage network কার্যকর থাকলেও শেষ পর্যায়ে খালের মোহনায় অতিরিক্ত পলি জমে গেলে পানি নদীতে নামার গতি কমে যেতে পারে।
ফলে ভারী বৃষ্টির সময় upstream এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে এই পানি শেষ পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট খালের মোহনাগুলো সচল রাখা সামগ্রিক drainage management-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, মোহনার পলি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা গেলে নগরের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকার পানি নিষ্কাশনও সহজ হবে।
বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে জলাবদ্ধতার বিষয়টি শুধু runway-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
Airport access road, apron, taxiway, airside service road, drainage channel এবং অন্যান্য operational area-তে পানি জমলে বিভিন্ন ধরনের ground operation ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষ করে যাত্রী পরিবহন, baggage handling, aircraft servicing এবং airport ground support কার্যক্রমের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি operational challenge তৈরি করতে পারে।
এ কারণে বিমানবন্দর এলাকার drainage management-কে বৃহত্তর airport resilience-এর অংশ হিসেবে দেখা হয়।
বর্ষাকালে চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টির কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় পানি জমার ঘটনা নতুন নয়।
অতি ভারী বৃষ্টির সময় দৃশ্যমানতা, বাতাস এবং runway condition-সহ বিভিন্ন আবহাওয়াজনিত কারণে flight operation-এও প্রভাব পড়তে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো ফ্লাইটের নিরাপদ অবতরণ সম্ভব না হলে পাইলট ও এয়ারলাইন operational requirement অনুযায়ী অপেক্ষা, go-around অথবা অন্য বিমানবন্দরে diversion-এর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তাই drainage উন্নয়ন জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করলেও adverse weather-এর সব ধরনের operational disruption এটি এককভাবে দূর করতে পারবে না।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থানের কারণে আশপাশের পানি প্রবাহ ও বৃহত্তর নগর drainage system-এর সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকার একটি সম্পর্ক রয়েছে।
ফলে শুধু বিমানবন্দরের ভেতরে drain পরিষ্কার রাখলেই সব ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। আশপাশের খাল, সংযোগ পথ এবং নদীর মোহনায় পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখাও প্রয়োজন।
এখানেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
একবার খাল পুনঃখনন বা dredging করলেই দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতার সমস্যা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না।
বর্ষা ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে আবার পলি জমতে পারে। একই সঙ্গে বর্জ্য, অবৈধ প্রতিবন্ধকতা বা অপর্যাপ্ত maintenance-এর কারণে পানি প্রবাহের সক্ষমতা পুনরায় কমে যেতে পারে।
এ কারণে খালের নাব্যতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজন অনুযায়ী dredging, drainage channel পরিষ্কার রাখা এবং পানি প্রবাহে নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে কি না—সেগুলোও নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষ করে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে drainage infrastructure-এর preventive maintenance জরুরি, কারণ আকস্মিক জলাবদ্ধতা operational disruption-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ১২ নম্বর খাল পুনঃখনন এবং রাজাখালী, চাক্তাই, ফিশারি খাল ও মহেশখালের মোহনায় চলমান dredging কার্যক্রম পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াবে।
এর ফলে ভারী বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার স্থায়িত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তবে বাস্তবে কতটা উন্নতি হবে, সেটি নির্ভর করবে বৃষ্টিপাতের মাত্রা, খাল ও drainage network-এর সামগ্রিক সক্ষমতা, কর্ণফুলী নদীর পানির অবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।
শাহ আমানতের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে তাই খাল পুনঃখননের উদ্যোগটি শুধু নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ নয়; বর্ষা মৌসুমে বিমানবন্দরের operational continuity ও resilience বজায় রাখার বৃহত্তর প্রচেষ্টারও একটি অংশ।
সূত্র: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ